স্বাস্থ্য

অতিরিক্ত খাওয়ায় লাগাম টানতে সচেতনতার সহজ অনুশীলন

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • খাবার খাওয়া আমাদের নিত্যদিনের এমন এক কাজ, যা প্রায়ই ঘটে অভ্যাসের বশে।
  • সামনে টেলিভিশন চলছে, হাতে মুঠোফোন, কিংবা কম্পিউটারে কাজ করতে করতেই প্লেট কখন খালি হয়ে যায়, অনেক সময় তা টেরও পাওয়া যায় না।
  • খাবারের স্বাদ, গন্ধ বা গঠন কেমন ছিল, সেটিও মনে থাকে না।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

খাবার খাওয়া আমাদের নিত্যদিনের এমন এক কাজ, যা প্রায়ই ঘটে অভ্যাসের বশে। সামনে টেলিভিশন চলছে, হাতে মুঠোফোন, কিংবা কম্পিউটারে কাজ করতে করতেই প্লেট কখন খালি হয়ে যায়, অনেক সময় তা টেরও পাওয়া যায় না। খাবারের স্বাদ, গন্ধ বা গঠন কেমন ছিল, সেটিও মনে থাকে না। এই অন্যমনস্ক খাওয়ার ফলে শরীরের ক্ষুধা ও পেট ভরে যাওয়ার স্বাভাবিক বার্তা উপেক্ষিত হতে পারে। ফল—প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলা।

সচেতন ভাবে খাওয়ার অনুশীলন এই অভ্যাস বদলাতে সাহায্য করতে পারে। এর অর্থ কোনও কঠোর খাদ্যতালিকা নয়; বরং খাওয়ার সময় বর্তমান মুহূর্তে মন রাখা। খাবারের রং, গন্ধ, স্বাদ ও গঠন খেয়াল করা এবং নিজের শরীর কী বলছে, তা শোনা। এতে খাওয়ার গতি কমে, তৃপ্তির অনুভূতি বোঝার সুযোগ বাড়ে এবং অতিভোজন এড়ানো সহজ হতে পারে।

প্রথম পদক্ষেপ হল মনোযোগের বাধা সরানো। খাওয়ার সময় টেলিভিশন, মুঠোফোন ও কম্পিউটার বন্ধ রাখুন। সম্ভব হলে শান্ত, গোছানো জায়গায় বসে খান। প্যাকেট বা বাক্স থেকে সরাসরি না খেয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ খাবার প্লেটে নিলে কতটা খাওয়া হচ্ছে, তা চোখে দেখা যায়।

একটি খাবার শেষ করতে প্রায় ২০ মিনিট সময় দেওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। ধীরে চিবিয়ে খান এবং প্রতিটি গ্রাসের পরে চামচ বা কাঁটা নামিয়ে রাখুন। পরের গ্রাস নেওয়ার আগে মুখের খাবারের স্বাদ অনুভব করুন। দ্বিতীয় বার খাবার কিংবা মিষ্টি নেওয়ার আগে নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন—সত্যিই কি এখনও ক্ষুধা রয়েছে, না কি কেবল অভ্যাস বা লোভ কাজ করছে? প্লেটের সবটাই শেষ করতেই হবে, এমন বাধ্যবাধকতাও নেই।

শুধু খাবার টেবিলে নয়, অন্য সময়েও মননশীলতার চর্চা এই দক্ষতা বাড়াতে পারে। কয়েক মিনিট ধীরে শ্বাস নিন; শ্বাস নেওয়ার সময় পেটের ওঠা এবং ছাড়ার সময় নামা লক্ষ করুন। আর একটি উপায় হল পর্যায়ক্রমে শরীরের এক একটি পেশি প্রায় ২০ সেকেন্ড শক্ত করে ধরে ছেড়ে দেওয়া এবং শিথিল হওয়ার অনুভূতিটি খেয়াল করা।

পাঁচ মিনিটের সচেতন হাঁটাও উপকারী অনুশীলন। হাঁটার সময়ে চারপাশের রং, শব্দ, গন্ধ, বাতাসের স্পর্শ বা পায়ের নিচের মাটির অনুভূতিতে মন দিন। যোগব্যায়াম ও তাই চি-তেও গভীর শ্বাস এবং শরীরের অনুভূতির দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়।

এই প্রক্রিয়ায় আবেগের ভূমিকাও বোঝা জরুরি। অনেকেই ক্ষুধার বদলে উদ্বেগ, একঘেয়েমি, দুঃখ বা ক্লান্তি সামলাতে খাবারের দিকে হাত বাড়ান। তখন আকাঙ্ক্ষাটিকে দমন বা অনুসরণ না করে কয়েক মুহূর্ত পর্যবেক্ষণ করা যায়। কোথায় সেই টান অনুভূত হচ্ছে, কোন আবেগ তার আগে এসেছে এবং জল খাওয়া, হাঁটা বা কারও সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন কি না, ভাবুন।

সচেতনতা মানে প্রতিটি গ্রাস নিয়ে অতিরিক্ত হিসাব করা নয়। তাতে খাবার ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। উদ্দেশ্য নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে নিরপেক্ষ কৌতূহল গড়ে তোলা। প্রথম দিনেই আহার বদলানোর দরকার নেই। দিনে একটি খাবার, এমনকি প্রথম পাঁচটি গ্রাস দিয়েও শুরু করা যায়। মন অন্য দিকে চলে গেলে ব্যর্থতা ভাববেন না; সেটি বুঝে আবার স্বাদ ও শরীরের অনুভূতিতে মন ফেরানোই অনুশীলনের মূল কথা। নিয়মিত চর্চায় খাবারের আনন্দও স্পষ্ট হতে পারে।

আধ্যাত্মিকতায় আগ্রহীদের কাছে এই অভ্যাস দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে আত্মসচেতনতার সহজ সেতু হয়ে উঠতে পারে। খাবার শুরুর আগে কয়েক মুহূর্ত থেমে তার উৎস, প্রস্তুতকারক এবং প্রকৃতির অবদান স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা জানানো যায়। তবে সচেতন ভাবে খাওয়া কোনও জাদুকরি ওজন কমানোর ব্যবস্থা বা খাদ্যজনিত রোগের চিকিৎসা নয়। বারবার নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে খাওয়া, প্রবল অপরাধবোধ কিংবা শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ জরুরি। লক্ষ্য নিজেকে দোষ দেওয়া নয়; ধীরে, কৌতূহল ও সহমর্মিতার সঙ্গে নিজের ক্ষুধা, আবেগ এবং তৃপ্তিকে চিনতে শেখা।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

স্বাস্থ্য সতর্কতা: এটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। পরীক্ষা বা চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিবন্ধিত চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নিন।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles