খবর

ভরণপোষণ না দিলে বেতন থেকেই টাকা কাটবে ওড়িশা সরকার

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ভুবনেশ্বর: আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণের টাকা না দিলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীর বেতন থেকে সরাসরি সেই অর্থ কেটে নেওয়া হবে।
  • রবিবার এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি।
  • কেটে নেওয়া অর্থ বৈদ্যুতিন পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট স্ত্রী অথবা সন্তানের ব্যাঙ্ক হিসাবে জমা দেবে সরকার।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

ভুবনেশ্বর: আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণের টাকা না দিলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীর বেতন থেকে সরাসরি সেই অর্থ কেটে নেওয়া হবে। রবিবার এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। কেটে নেওয়া অর্থ বৈদ্যুতিন পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট স্ত্রী অথবা সন্তানের ব্যাঙ্ক হিসাবে জমা দেবে সরকার।

মুখ্যমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে, আদালত কোনও সরকারি কর্মীকে স্ত্রী বা সন্তানের জন্য ভরণপোষণ কিংবা বিবাহবিচ্ছেদের পরে খোরপোষ দেওয়ার নির্দেশ দিলে তা মানতেই হবে। কর্মী নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট দফতরের বেতন প্রস্তুত ও বিতরণকারী আধিকারিক আদালত-নির্ধারিত অঙ্কটি তাঁর মাসিক বেতন থেকে কেটে নেবেন। তার পরে সেই অর্থ সরাসরি প্রাপকের ব্যাঙ্ক হিসাবে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর জন-অভিযোগ শুনানিতে নিয়মিত এই ধরনের নালিশ আসার পরেই সরকার কঠোর পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় প্রতিটি শুনানিতেই এমন দুই থেকে তিনটি অভিযোগ সামনে আসছে। বহু ক্ষেত্রে আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সরকারি কর্মীরা স্ত্রী কিংবা সন্তানদের প্রাপ্য ভরণপোষণ দিচ্ছেন না। আবার বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় আদালত খোরপোষ ধার্য করলেও সেই অর্থ দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

মাঝির বক্তব্য, এক জন সরকারি কর্মী একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ অমান্য করবেন এবং স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে আর্থিক অন্যায় করবেন—এটি কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের মতে, বেতন থেকে সরাসরি অর্থ কাটার ব্যবস্থা চালু হলে আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার জন্য অসহায় নারী বা সন্তানদের বারবার সরকারি দফতর, থানা কিংবা আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে না।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও দফতরের কাছে আদালতের ভরণপোষণ-সংক্রান্ত নির্দেশ পৌঁছনোর পরে সংশ্লিষ্ট কর্মীর মাসিক বেতনের হিসাব তৈরির সময়েই নির্দিষ্ট অঙ্ক বাদ দেওয়া হবে। অর্থ পাঠানোর গোটা প্রক্রিয়াটি নথিভুক্ত থাকবে। ফলে কর্মী অর্থ দিয়েছেন কি না, কিংবা কত মাসের টাকা বাকি রয়েছে, তা সহজেই যাচাই করা সম্ভব হবে।

এই ব্যবস্থাকে আরও নিয়মিত ও স্বয়ংক্রিয় করতে আদালত-নির্ধারিত ভরণপোষণের তথ্য রাজ্যের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে প্রতি মাসে বেতন তৈরির সময় সংশ্লিষ্ট কর্মীর আর্থিক দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিহ্নিত হওয়ার কথা।

তবে এই নির্দেশ সব দাম্পত্য বিরোধে প্রযোজ্য নয়। কেবল আদালত ভরণপোষণ বা খোরপোষের নির্দিষ্ট অঙ্ক ধার্য করার পরেও কোনও সরকারি কর্মী তা না দিলে বেতন কাটার ব্যবস্থা কার্যকর হবে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ আদালতের নির্দেশ পালনের পাশাপাশি আর্থিক সঙ্কটে পড়া নারী ও শিশুদের প্রাপ্য অর্থ সময়মতো পাওয়ার নিশ্চয়তা দেবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles