International

পুতিনের পর্দার আড়ালে

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোমান বাদানিন ও মিখাইল রুবিনের বই দ্য জার ইন প্রোপ্রিয়া পারসোনা: হাউ ভ্লাদিমির পুতিন ডিসিভড আস অল—অর্থাৎ, ‘সশরীরে জার: ভ্লাদিমির পুতিন কীভাবে…
  • সেই আগুনে পুড়ে গিয়েছিল সালিহা আবিদ হুসেনের ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারও।
  • চোখের সামনে ঘটে চলা ঘটনাগুলিকে তিনি নথিবদ্ধ করেছিলেন প্রায় সাংবাদিকের নির্লিপ্ততায়।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোমান বাদানিন ও মিখাইল রুবিনের বই দ্য জার ইন প্রোপ্রিয়া পারসোনা: হাউ ভ্লাদিমির পুতিন ডিসিভড আস অল—অর্থাৎ, ‘সশরীরে জার: ভ্লাদিমির পুতিন কীভাবে আমাদের সবাইকে ধোঁকা দিলেন’—রুশ প্রেসিডেন্টকে ঘিরে এক চমকে দেওয়ার মতো অনুসন্ধান।

সাতচল্লিশের আগুন

১৯৪৭-এর সেপ্টেম্বর। দিল্লিজুড়ে সাম্প্রদায়িক হিংসার আগুন। সেই আগুনে পুড়ে গিয়েছিল সালিহা আবিদ হুসেনের ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারও। কিন্তু থামেনি তাঁর কলম।

সেই ভয়াবহ সময়কে তিনি বলেছিলেন ‘হাঙ্গামা’। চোখের সামনে ঘটে চলা ঘটনাগুলিকে তিনি নথিবদ্ধ করেছিলেন প্রায় সাংবাদিকের নির্লিপ্ততায়। এমনকি তাঁর লেখালিখি দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন তাঁর স্বামীও।

সালিহা আবিদ হুসেনের সেভেন ফ্রম ১৯৪৭: ফার্স্ট-হ্যান্ড স্টোরিজ (উইমেন আনলিমিটেড, ৪৫০ টাকা)-এ সংকলিত হয়েছে ছ’টি মর্মস্পর্শী আফসানা বা ছোটগল্প। ১৯৪৮ সালে উর্দুতে নিরাস মে আস নামে প্রথম প্রকাশিত এই গল্পগুলি উৎসর্গ করা হয়েছিল মহাত্মা গান্ধীকে। এ বার পরিকল্পনা কমিশনের প্রাক্তন সদস্য সৈয়দা এস হামিদের নতুন ইংরেজি অনুবাদে বইটি পাঠকের হাতে পৌঁছেছে।

গণতন্ত্র কি ফের ঘুরে দাঁড়াবে?

গণতন্ত্র আজ নানা দিক থেকে চাপে। অভিজাততন্ত্র, অসহিষ্ণুতা এবং ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠা স্বৈরতন্ত্র ক্ষয় করছে উদার গণতন্ত্রের সেই প্রতিশ্রুতি—যেখানে সমৃদ্ধির সুফল সবার কাছে পৌঁছনোর এবং সাম্য প্রতিষ্ঠার কথা।

তবে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড্যারন আসেমোগলু এখনও আশাহত নন।

হোয়াট হ্যাপেন্ড টু লিবারাল ডেমোক্র্যাসি? (হ্যাচেট ইন্ডিয়া) বইতে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির এই অর্থনীতিবিদ প্রথমে বিশ্লেষণ করেছেন গণতান্ত্রিক অবক্ষয়ের পথ। তার পর দেখিয়েছেন, কী ভাবে সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে উদার গণতন্ত্রকে ফের শক্তিশালী করা যেতে পারে। বহুল আলোচিত হোয়াই নেশনস ফেল বইটিরও সহলেখক তিনি।

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ এসথার দুফলোর কথায়, “প্রযুক্তি যে পথ তৈরি করে দেয়, তা অনিবার্য নিয়তি নয়; তা নৈতিক ও রাজনৈতিক বেছে নেওয়ার বিষয়।”

বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র যখন টলমল, তখন আসেমোগলুর বার্তা তাই নিছক আশাবাদ নয়—বরং সতর্কবার্তাও।

অন্যের জীবন, লেখকের কল্পনা

আত্মজীবনের সঙ্গে কল্পকাহিনির মিশেলে তৈরি সাহিত্যধারা ‘অটোফিকশন’ নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। কিন্তু র‌্যাচেল কাস্কের বিতর্কিত উপন্যাস লাইফ অব এম সেই বিতর্ককে ফের উসকে দিয়েছে।

উপন্যাসের ‘এম’ চরিত্রটির জীবন এবং অভিনীত চলচ্চিত্রের তালিকার সঙ্গে অভিনেত্রী ন্যাটালি পোর্টম্যানের জীবনের একাধিক মিল পাঠকের নজর কেড়েছে। শুধু তাই নয়, চরিত্রটিকে বিশেষ প্রশংসার চোখেও দেখানো হয়নি।

বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে অন্য একটি কারণে। পোর্টম্যান অতীতে কাস্ককে তাঁর অন্যতম প্রিয় লেখক বলে উল্লেখ করেছিলেন।

এখন প্রশ্ন উঠছে, বাস্তব মানুষকে আড়াল করে কল্পকাহিনির চরিত্রে তাঁর জীবন, কাজ এবং ব্যক্তিত্বের ছায়া ব্যবহার করা কতটা ন্যায্য? বাস্তব ও কল্পনার সীমারেখা ঝাপসা হলেই কি লেখক দায়মুক্ত হয়ে যান? নাকি সাহিত্যের স্বাধীনতারও একটা নৈতিক সীমা রয়েছে?

কাস্কের বক্তব্য, এটি নিছক কল্পকাহিনি। কিন্তু সমালোচকদের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—অন্যের জীবনকে নতুন মোড়কে তুলে ধরার মধ্যে সেই জীবনের প্রতি অন্যায্য ব্যবহার লুকিয়ে থাকতে পারে না কি?

বেদ মেহতার নামে নতুন পুরস্কার

সৃজনশীল তথ্যভিত্তিক সাহিত্যকে স্বীকৃতি দিতে আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন একটি বই পুরস্কার চালু করেছে অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার ফর দ্য ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড দ্য ক্রিটিক্যাল’ এবং অক্সফোর্ডের বেলিয়ল কলেজ।

‘বেদ মেহতা ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ইন ক্রিয়েটিভ ননফিকশন’-এর অর্থমূল্য ১০ হাজার পাউন্ড। বিশ্বের যে কোনও প্রান্ত থেকে ইংরেজিতে প্রকাশিত সৃজনশীল তথ্যভিত্তিক সাহিত্যের সেরা বইটিকে প্রতি বছর এই পুরস্কার দেওয়া হবে।

প্রথম পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হবে ২০২৫ সালে প্রকাশিত বই। বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে ২০২৬ সালে। বিচারকমণ্ডলীতে রয়েছেন মার্ভে এমরে, শেমাস পেরি এবং বিজয় শেষাদ্রি।

অনূদিত বইও পুরস্কারের আওতায় থাকবে। অনুবাদে প্রকাশিত কোনও বই বিজয়ী হলে তার অনুবাদক অতিরিক্ত দু’হাজার পাউন্ড পাবেন।

আর একটি অভিনব দিক হল, এই পুরস্কারের জন্য আলাদা করে বই জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রকাশিত বইগুলির মধ্য থেকেই বিচারকেরা নিজেদের পছন্দের বই বেছে নেবেন।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles