৫ সেপ্টেম্বর সিজেপির মিছিল ঘিরে প্রস্তুতি দিল্লি পুলিশের, নজরদারিতে আয়োজকেরা

যা জানা জরুরি
- ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রস্তাবিত ৫ সেপ্টেম্বরের মিছিল ঘিরে প্রস্তুতি শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ।
- সম্ভাব্য জমায়েতের আকার যাচাই, আয়োজকদের গতিবিধির উপরে নজরদারি এবং অতিরিক্ত আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
- যদিও প্রতিবাদ মিছিলের জন্য এখনও আনুষ্ঠানিক অনুমতি চায়নি সংগঠনটি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রস্তাবিত ৫ সেপ্টেম্বরের মিছিল ঘিরে প্রস্তুতি শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। সম্ভাব্য জমায়েতের আকার যাচাই, আয়োজকদের গতিবিধির উপরে নজরদারি এবং অতিরিক্ত আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও প্রতিবাদ মিছিলের জন্য এখনও আনুষ্ঠানিক অনুমতি চায়নি সংগঠনটি।
সোমবার সিজেপি ঘোষণা করে, ইন্ডিয়া গেট থেকে জয় সিং রোডে দিল্লি পুলিশ সদর দফতর পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার শান্তিপূর্ণ মিছিল করা হবে। সংগঠনটির অভিযোগ, গত মাসে যন্তর মন্তরের আন্দোলন প্রত্যাহারের সময়ে তরুণ আন্দোলনকারীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি কেন্দ্র। মিছিলে ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট বা নিট পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবার এবং কথিত পুলিশি নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের যোগ দেওয়ার কথা। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পড়ুয়া, যুব সংগঠনের সদস্য এবং তরুণ নাগরিকেরা অংশ নিতে পারেন।
দিল্লি পুলিশ আগেই জানিয়েছিল, ইন্ডিয়া গেট যে নয়াদিল্লি জেলার মধ্যে পড়ে, সেখানে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারায় নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, কেবলমাত্র যন্তর মন্তরের নির্দিষ্ট এলাকায় বিক্ষোভ ও মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয় এবং তার জন্যও আগাম অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।
নয়াদিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সচিন শর্মা বলেন, “মিছিল বা প্রতিবাদ কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আবেদন আমাদের দফতরে জমা পড়েনি।”
সিজেপির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কর্মসূচির বিষয়ে দিল্লি পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
প্রস্তাবিত মিছিলের পথটি নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের বাইরে হওয়ায় সম্ভাব্য জমায়েতের আকার বিচার করে আয়োজকদের স্থান পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়ার কথাও ভাবছে পুলিশ।
‘এই মিছিল আইনসম্মত হওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “এই প্রতিবাদ আইনসম্মত হওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই। ইন্ডিয়া গেট নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল নয়। সেখানে বিপুল জমায়েত হলে আইনশৃঙ্খলা ও যান চলাচলের গুরুতর সমস্যা তৈরি হবে। নিরাপত্তাজনিত কারণে নয়াদিল্লিতে মিছিলের অনুমতিও দেওয়া হয় না।”
অন্য এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ইন্ডিয়া গেটে যাতে “কাউকেই” জমায়েত করতে দেওয়া না হয়, তার পরিকল্পনা তৈরি করতে শুরু করেছে পুলিশ। দুই পুলিশ আধিকারিকের দাবি, মঙ্গলবার নয়াদিল্লির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার নূপুর প্রসাদ এবং জেলা পুলিশের পদস্থ কর্তারা বৈঠক করেন। প্রস্তাবিত কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতির মূল্যায়ন এবং এলাকার নিরাপত্তা বজায় রাখার ব্যবস্থা নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে যোগাযোগ করা হলেও নূপুর প্রসাদ সাড়া দেননি।
সম্ভাব্য প্রতিবাদকারীর সংখ্যা বিচার করে কর্মসূচিটি নয়াদিল্লি জেলা থেকে সরিয়ে রামলীলা ময়দান বা অন্য কোনও জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আয়োজকদের চাপ দেওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের নজরদারিতে সিজেপি নেতারা
ইতিমধ্যে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার একটি দল সংগঠনের নেতা, মুখপাত্র এবং অন্য আয়োজকদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছে। তাঁদের সামাজিক মাধ্যমের কার্যকলাপেও নজর রাখা হচ্ছে। অন্য রাজ্য থেকে প্রতিবাদকারী ও সমর্থকেরা দিল্লিতে আসতে পারেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, নিট পরীক্ষার্থীদের কয়েকটি পরিবার এবং অন্য ছাত্রনেতারাও মিছিলে যোগ দেবেন। তাঁদের গতিবিধির উপরে নজর রাখা হচ্ছে। সিজেপি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ না করলে আমরাই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করব। এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে বিভিন্ন রাজ্য বা সংগঠন থেকে লোকজন দিল্লিমুখী হলে সামাজিক মাধ্যম ও পরিবহণ ব্যবস্থার সূত্র ধরে আমাদের কর্মীরা ইতিমধ্যেই গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছেন।”
অন্য এক আধিকারিক জানান, আপাতত বিশেষ শাখা-সহ একাধিক দল সম্ভাব্য জমায়েতের আকার নির্ধারণের কাজ করছে। তাঁর কথায়, “মঙ্গলবারের বৈঠকের পরে আমাদের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীকে প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। জমায়েত বড় হলে ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশকেও তলব করা হতে পারে।”
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



