Home International ইয়েমেন উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ডুবল ভারতীয় জাহাজ—বাঁচলেন ১৩ ভারতীয়

ইয়েমেন উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ডুবল ভারতীয় জাহাজ—বাঁচলেন ১৩ ভারতীয়

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
14 views 3 minutes read
A+A-
Reset

ইয়েমেনের উপকূলের কাছে ফের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা। একটি ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ প্রজেক্টাইলের আঘাতে ডুবে গেল ভারতীয় পালতোলা বাণিজ্যিক জাহাজ এমএসভি ফাইজ নূরে অলিয়া (MSV Faize Noore Oliya)। তবে বড় বিপর্যয় এড়ানো গিয়েছে—জাহাজে থাকা ১৪ জন নাবিককেই জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন ভারতীয় এবং একজন বিদেশি নাগরিক।

ইয়েমেনের উপকূলরক্ষী ও উদ্ধারকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে। পরে সবাইকে মোখা বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা, খাবার এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ভারতীয় দূতাবাসও নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং তাঁদের দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

কীভাবে ঘটল হামলা?

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের জলসীমার কাছাকাছি দিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজটিতে একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। আঘাতের পর দ্রুত জাহাজে জল ঢুকতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আগেই সেটি ডুবে যায়।

বিপদসংকেত পাওয়ার পর ইয়েমেনের উদ্ধারকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। শেষ পর্যন্ত জাহাজে থাকা ১৪ জনকেই নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

কী ধরনের প্রজেক্টাইল থেকে হামলাটি হয়েছিল এবং কারা এর পিছনে ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার পূর্ণ তদন্ত চলছে।

‘নাবিকদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’

ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌপরিবহণ ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। তাঁর মতে, বাণিজ্যিক জাহাজ এবং নিরস্ত্র নাবিকদের ওপর এ ধরনের হামলা সম্পূর্ণ অকারণ ও অগ্রহণযোগ্য।

সোনোয়াল বলেন, সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন এবং মানবিক নীতির পরিপন্থী। ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলেও তিনি জানান।

দ্রুত উদ্ধার অভিযানের জন্য ইয়েমেনের কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক মহলকে এ ধরনের হামলার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

কেন ইয়েমেনের জলপথ এত গুরুত্বপূর্ণ?

ইয়েমেন ও লোহিত সাগর সংলগ্ন জলপথ গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক সংঘাতের অন্যতম বিপজ্জনক অঞ্চল হয়ে উঠেছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির হামলার আশঙ্কায় বহু বাণিজ্যিক জাহাজকে বিকল্প পথে ঘুরতে হচ্ছে।

এর ফলে বেড়েছে জ্বালানি ও পরিবহণ খরচ। পণ্য পৌঁছতে সময়ও লাগছে বেশি। দীর্ঘ রুটের কারণে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।

ভারতীয় জাহাজে এই হামলা সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিল। ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় নাবিক সরবরাহকারী দেশ। বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাবিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত। ফলে সংঘাতপূর্ণ সমুদ্রপথে প্রতিটি হামলাই তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে।

শুধু আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

লোহিত সাগর, বাব-এল-মান্দেব প্রণালী এবং ইয়েমেন সংলগ্ন সমুদ্রপথ এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যে বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ করিডর। এই পথে বিপুল পরিমাণ তেল, গ্যাস ও অন্যান্য পণ্য পরিবহণ হয়।

ফলে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হলে তার ধাক্কা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে আটকে থাকে না—বিশ্ববাজার, জ্বালানির দাম এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থাতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর সমন্বিত টহল, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

প্রাণহানি না হলেও বিপদ কাটেনি

এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি না হওয়াই আপাতত সবচেয়ে বড় স্বস্তি। কিন্তু একটি বাণিজ্যিক জাহাজ এভাবে হামলার শিকার হওয়া দেখিয়ে দিল, সংঘাতপূর্ণ সমুদ্রপথে ঝুঁকি এখনও যথেষ্ট বড়।

ভারত সরকার, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সামনে তাই এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ—একদিকে নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে ফের নিরাপদ করে তোলা।

কারণ একটি জাহাজ ডোবার ঘটনা শুধু একটি জাহাজের ক্ষতি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নাবিকদের জীবন, পণ্য পরিবহণের নিরাপত্তা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিরা-উপশিরার স্থিতিশীলতা।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles