ভিসায় ফের ধাক্কা

যা জানা জরুরি
- বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসার সাক্ষাৎকারের সময়সূচি সাময়িক ভাবে স্থগিত বা পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে বলে খবর।
- ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশে নির্ধারিত সাক্ষাৎকার বাতিল বা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
- ফলে পর্যটক থেকে পড়ুয়া, চাকরিপ্রার্থী থেকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া—সব ধরনের আবেদনকারীর মধ্যেই উদ্বেগ বাড়ছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
আমেরিকায় যাওয়ার স্বপ্নে ফের অনিশ্চয়তার মেঘ। বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসার সাক্ষাৎকারের সময়সূচি সাময়িক ভাবে স্থগিত বা পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে বলে খবর। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশে নির্ধারিত সাক্ষাৎকার বাতিল বা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে পর্যটক থেকে পড়ুয়া, চাকরিপ্রার্থী থেকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া—সব ধরনের আবেদনকারীর মধ্যেই উদ্বেগ বাড়ছে।
তবে মার্কিন বিদেশ দফতরের দাবি, ভিসা পরিষেবা বন্ধ করা হয়নি। বিশ্বের সমস্ত দূতাবাস ও কনস্যুলেটের কর্মীদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলছে। সেই কারণেই সাক্ষাৎকারের সংখ্যা ও সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
তবে এই ব্যাখ্যার পাশাপাশি সামনে এসেছে আরও কড়া অভিবাসন নীতির ইঙ্গিত।
কেন বদলাচ্ছে সাক্ষাৎকারের সূচি?
‘ফিনান্সিয়াল টাইমস’-এর প্রতিবেদনে মার্কিন বিদেশ দফতরের এক আধিকারিককে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে আমেরিকার সরকারি সাহায্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন—এমন আবেদনকারীদের আরও কঠোর ভাবে যাচাই করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আবেদনকারীর আর্থিক পরিস্থিতি, বয়স, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা এবং আমেরিকায় থাকার সময়ে সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে কি না—এই বিষয়গুলির উপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
অন্য দিকে, রয়টার্সকে বিদেশ দফতরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটের কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্যই সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে রদবদল করা হচ্ছে।
তবে কত দিন এই পরিবর্তন চলবে বা কোন ধরনের ভিসা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
হঠাৎ ই-মেল, পিছিয়ে গেল সাক্ষাৎকার
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে যখন আগে থেকেই সাক্ষাৎকারের দিন পাওয়া বহু আবেদনকারী মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে ই-মেল পান। তাঁদের জানানো হয়, নির্ধারিত তারিখ বদলে দেওয়া হচ্ছে এবং নতুন দিন পরে জানানো হবে।
এর ফলে যাঁরা ইতিমধ্যেই বিমান টিকিট কেটেছেন, পড়াশোনা শুরু করার দিন ঠিক করেছেন কিংবা নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন, তাঁদের সমস্যা বাড়তে পারে।
বিশেষ করে পড়ুয়া ও কর্মীদের ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকার পিছিয়ে যাওয়া মানেই শুধু কয়েক দিনের অপেক্ষা নয়—অনেক সময় তা পুরো যাত্রা বা যোগদানের পরিকল্পনাই ওলটপালট করে দিতে পারে।
এইচ-১বি-তে এবার লাখ ডলারের ধাক্কা
ভিসা সাক্ষাৎকার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই আরও বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে এইচ-১বি ভিসার প্রস্তাবিত বিপুল মাসুল।
ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি আবেদনপিছু ১ লক্ষ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার মাসুল ধার্য করার প্রস্তাব দিয়েছে।
এইচ-১বি হল অ-অভিবাসী কর্মভিসা। মার্কিন সংস্থাগুলি এর মাধ্যমে ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগ করে। তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, চিকিৎসা এবং গবেষণার মতো ক্ষেত্রে এই ভিসার গুরুত্ব বিশেষ ভাবে বেশি।
প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বিদেশি কর্মী নিয়োগের খরচ মার্কিন সংস্থাগুলির জন্য হঠাৎ অনেকটাই বেড়ে যাবে।
ভারতীয়দের দুশ্চিন্তা কেন বেশি?
এইচ-১বি ব্যবস্থায় ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মীদের দীর্ঘদিন ধরেই বড় উপস্থিতি রয়েছে। ফলে মাসুল এতটা বেড়ে গেলে ভারতীয় পেশাদারদের উপর তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা স্বাভাবিক।
বিশেষ করে ছোট সংস্থা, বিদেশ থেকে সদ্য কর্মী নিয়োগ করতে চাওয়া প্রতিষ্ঠান এবং কর্মজীবনের শুরুতে থাকা দক্ষ পেশাদাররা সমস্যায় পড়তে পারেন।
গত বছর ট্রাম্প এইচ-১বি ভিসার মাসুল ১ লক্ষ ডলারে বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। চলতি বছরের জুনে আদালত সেই ব্যবস্থা আটকে দেয়। কিন্তু স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দফতরের নতুন প্রস্তাব ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রশাসন অন্য আইনি পথেও একই ধরনের নীতি কার্যকর করার চেষ্টা করছে।
আমেরিকার দরজায় কি আরও কড়া তালা?
এক দিকে বিশ্বজুড়ে ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে অনিশ্চয়তা, অন্য দিকে এইচ-১বি-র বিপুল মাসুল—দুই সিদ্ধান্ত একই সময়ে সামনে আসায় আমেরিকায় পড়াশোনা ও কাজের পরিকল্পনা করা বিদেশিদের উদ্বেগ বাড়ছে।
মার্কিন প্রশাসন অবশ্য বলছে, ভিসা পরিষেবা বন্ধ হয়নি এবং সাক্ষাৎকার পুনর্বিন্যাসের পেছনে প্রশাসনিক ও প্রশিক্ষণগত কারণ রয়েছে। কিন্তু অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার একাধিক পদক্ষেপের সঙ্গে এই পরিবর্তনকে মিলিয়ে দেখছেন অনেকেই।
ফলে আপাতত প্রশ্ন একটাই—আমেরিকার দরজা বন্ধ হচ্ছে না ঠিকই, কিন্তু সেখানে ঢোকার পথ কি ক্রমেই আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে?
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



