৩১ আসনে জয়ের ব্যবধানের চেয়ে বাদ পড়া ভোট বেশি

যা জানা জরুরি
- শুনানিতে তৃণমূল কংগ্রেসের এক সদস্যের হয়ে প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও গুরুতর একটি অভিযোগ তোলেন।
- তাঁর দাবি, রাজ্যের ৩১টি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির জয়ের ব্যবধানের তুলনায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া ভোটের সংখ্যা বেশি।
- উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ১৪৫ নম্বর বিধানসভা কেন্দ্রে পরাজয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০১ ভোট, অথচ তালিকা থেকে বাদ গিয়েছিল ৮,৭৮৫টি নাম।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
শুনানিতে তৃণমূল কংগ্রেসের এক সদস্যের হয়ে প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও গুরুতর একটি অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, রাজ্যের ৩১টি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির জয়ের ব্যবধানের তুলনায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া ভোটের সংখ্যা বেশি।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ১৪৫ নম্বর বিধানসভা কেন্দ্রে পরাজয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০১ ভোট, অথচ তালিকা থেকে বাদ গিয়েছিল ৮,৭৮৫টি নাম। অন্য একটি কেন্দ্রে পরাজয়ের ব্যবধান ছিল ৩১৬ ভোট, সেখানেও বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। মুর্শিদাবাদের একটি আসনে একজন প্রার্থী ১৫ হাজার ভোটে হেরেছিলেন, অথচ সেখানে প্রায় ২৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি জানতে চান, এই পরিস্থিতিতে আদালত কি নতুন করে নির্বাচন করার নির্দেশ দিতে পারে? তিনি আরও জানতে চান, সংশ্লিষ্ট ৩১টি আসনের ফলকে চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচনী মামলা দায়ের হয়েছে কি না। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কয়েকটি আসনে মামলা হয়েছে, কিন্তু সবগুলিতে হয়নি।
বিচারপতি বাগচী অবশ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র কত নাম বাদ গিয়েছে, সেই হিসাব যথেষ্ট নয়। বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন আপিল করেছেন, সেটিও দেখা প্রয়োজন। ধরা যাক, কোনও কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধান ৫০ এবং বাদ পড়েছেন ১০০ জন। তাঁদের মধ্যে ৬০ বা ৭০ জন যদি নাম বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে আপিল করেন, তবে নির্বাচনের ফলাফলের ক্ষেত্রে সেই আপিলগুলির গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু বাদ পড়া ব্যক্তিরা সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে আপিল না করলে বিষয়টি অনেকাংশে তাত্ত্বিক হয়ে পড়তে পারে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক আপিলের তথ্য প্রকাশ করছে না। ফলে কোন আসনে কতজন বাদ পড়া ভোটার আপিল করেছেন এবং কতগুলি আপিল মঞ্জুর হয়েছে, তা জানা যাচ্ছে না। তিনি আরও দাবি করেন, একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ভোটারদের লক্ষ্য করে নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। তাই ওই ৩১টি কেন্দ্র থেকে দায়ের হওয়া আপিল এবং সেগুলির নিষ্পত্তি নিয়ে কমিশনের কাছ থেকে পৃথক প্রতিবেদন চাওয়ার আবেদন জানান।
তবে বেঞ্চ জানিয়েছে, তদন্ত বা পর্যালোচনাকে শুধু ওই ৩১টি আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। গোটা রাজ্যে বিচারাধীন সমস্ত আপিল সময়মতো নিষ্পত্তির ব্যবস্থা হচ্ছে কি না, আদালত তা পরীক্ষা করবে।
প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা এবং বিচারাধীন আপিল সংক্রান্ত সমস্ত সমস্যা মিটিয়ে ফেলতে হবে। আপাতত নির্বাচন কমিশনের হলফনামাই নির্ধারণ করবে, বাংলার এসআইআর প্রক্রিয়ায় কত মানুষ অন্যায়ভাবে বাদ পড়েছিলেন এবং বিপুল সংখ্যক অন্তর্ভুক্তি-বিরোধী আপিলের নেপথ্যে কোনও পরিকল্পিত প্রবণতা ছিল কি না।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



