Home খবর ওষুধ আছে, পৌঁছয় না চিকিৎসা

ওষুধ আছে, পৌঁছয় না চিকিৎসা

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
40 views 5 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস:

  • বিশ্বে প্রতি পাঁচ জনে একজন জীবনের কোনও না কোনও সময়ে ক্যানসারে আক্রান্ত হন।
  • বছরে প্রায় ২ কোটি ৬০ লক্ষ নতুন রোগী, মৃত্যু প্রায় ১ কোটি মানুষের।
  • ধনী ও দরিদ্র দেশের মধ্যে চিকিৎসা, ওষুধ ও বেঁচে থাকার হারে বিশাল বৈষম্য।
  • চিকিৎসার খরচ সামলাতে না পেরে বহু রোগী মাঝপথেই থামিয়ে দিচ্ছেন চিকিৎসা।
  • WHO-র বার্তা—নতুন ওষুধের পাশাপাশি সুলভ চিকিৎসা ও রোগীর পরিচর্যায়ও সমান গুরুত্ব জরুরি।

বিজ্ঞান এগিয়েছে, ক্যানসার চিকিৎসায় এসেছে যুগান্তকারী ওষুধ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং নতুন আশা। তবু বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে সেই অগ্রগতির সুফল এখনও অধরাই। কারণ ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় বাধা এখন আর শুধু রোগ নয়, চিকিৎসার অসম সুযোগ। এমনই উদ্বেগজনক বাস্তবতার ছবি তুলে ধরেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র নতুন বৈশ্বিক প্রতিবেদন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের প্রতি পাঁচ জন মানুষের মধ্যে একজন জীবনের কোনও না কোনও সময়ে ক্যানসারে আক্রান্ত হবেন। শুধু রোগীরাই নন, নিজের বা পরিবারের কারও মাধ্যমে এই রোগের অভিঘাত অনুভব করবেন বিশ্বের প্রায় ৯২ শতাংশ মানুষ

WHO-র ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা. আন্দ্রে ইলবাভি বলেন, ক্যানসার চিকিৎসায় বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির গল্প অবশ্যই সত্যি, কিন্তু সেটাই পুরো বাস্তবতা নয়। কারণ বিশ্বের বিপুল সংখ্যক মানুষ এখনও সেই চিকিৎসার নাগালই পান না।

প্রতি বছর বাড়ছে রোগীর সংখ্যা

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ২ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের নতুন করে ক্যানসার ধরা পড়ছে। মৃত্যু হচ্ছে প্রায় ১ কোটি মানুষের। আশঙ্কা, ২০৫০ সালের মধ্যে নতুন রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৩ কোটি ৫০ লক্ষে পৌঁছতে পারে।

ধনী-গরিব দেশের ফারাক স্পষ্ট

প্রতিবেদন বলছে, ধনী দেশগুলিতে স্তন ক্যানসার বা শিশুদের ক্যানসারে আক্রান্তদের প্রায় ৮৫ শতাংশ অন্তত পাঁচ বছর বেঁচে থাকেন। অথচ নিম্ন আয়ের দেশগুলিতে সেই হার ৩০ শতাংশেরও কম

ওষুধের ক্ষেত্রেও একই ছবি। নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে WHO-র অগ্রাধিকার তালিকার ক্যানসারের ওষুধের প্রাপ্যতা মাত্র ৯ থেকে ৫৪ শতাংশ। ধনী দেশগুলিতে তা ৬৮ থেকে ৯৪ শতাংশ। আরও উদ্বেগের বিষয়, বিশ্বের ২৩টি দেশে এখনও ক্যানসারের জন্য প্রয়োজনীয় বিকিরণ (রেডিয়েশন) চিকিৎসার কোনও ব্যবস্থাই নেই।

দেরিতে রোগ ধরা পড়াই বড় বিপদ

আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণাঞ্চলের দেশগুলিতে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার হার তুলনামূলক কম হলেও মৃত্যুর হার অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ রোগ দেরিতে ধরা পড়া এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাব।

চিকিৎসার খরচেই থেমে যাচ্ছে লড়াই

WHO জানিয়েছে, বিশ্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দেশ এখনও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পের আওতায় ক্যানসার চিকিৎসাকে অন্তর্ভুক্ত করেনি। ফলে বিপুল চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে কিছু দেশে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত রোগী মাঝপথেই চিকিৎসা বন্ধ করতে বাধ্য হন।

বিশ্বজুড়ে রোগী ও তাঁদের পরিবারের উপর চালানো সমীক্ষায় দেখা গেছে, ক্যানসার শুধু শরীরের রোগ নয়; এটি পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং পরিচর্যাকারীদের জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলে।

নাইজেরিয়ার স্তন ক্যানসারজয়ী ও রোগী-অধিকার কর্মী অ্যাবিগেইল সাইমন-হার্ট জানান, অনেক পরিবারে ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে হয়েছে। কোথাও আবার বাবা-মাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে—সন্তানের স্কুলের ফি দেবেন, নাকি চিকিৎসার খরচ চালাবেন।

তিনি আরও জানান, বহু সমাজে ক্যানসার নিয়ে কুসংস্কার ও সামাজিক লজ্জাবোধ এতটাই প্রবল যে, অনেক নারী জীবনরক্ষাকারী স্তন অপসারণ অস্ত্রোপচার করানোর পরিবর্তে মৃত্যুকেই বেছে নিয়েছেন।

আশার আলোও রয়েছে

তবে প্রতিবেদন শুধু উদ্বেগের কথাই বলেনি। জরায়ুমুখের ক্যানসার নির্মূলের সম্ভাবনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে তামাক ব্যবহারের হারও ধীরে ধীরে কমছে। অধিকাংশ দেশ ইতিমধ্যেই জাতীয় ক্যানসার মোকাবিলা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থার (IARC) উপপ্রধান ডা. ইসাবেল সোয়েরজোমাতারাম বলেন, নতুন ক্যানসারের প্রতি ১০টির মধ্যে প্রায় ৪টি এমন ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত, যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। তামাক, সংক্রমণ, অতিরিক্ত মদ্যপান ও স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বিপুল সংখ্যক ক্যানসার এড়ানো সম্ভব।

WHO-র স্পষ্ট বার্তা, শুধু নতুন ওষুধ আবিষ্কার করলেই হবে না। প্রতিরোধ, দ্রুত রোগ নির্ণয়, সাশ্রয়ী চিকিৎসা এবং রোগীর মানবিক পরিচর্যাকে সমান গুরুত্ব না দিলে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রকৃত সাফল্য আসবে না।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles