বিচারপতির কক্ষে নথি দেখার চেষ্টার অভিযোগ, তদন্ত চাইলেন সুজিত বসুর আইনজীবী

যা জানা জরুরি
- নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতির কক্ষে ঢুকে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর মামলার নথি দেখার চেষ্টা করার অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হল।
- অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাইলেন সুজিতের নথিভুক্ত আইনজীবী মৌসুমী ভাওয়াল।
- একই সঙ্গে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের কক্ষের সামনের ঘরে থাকা নজরদারি ক্যামেরার দৃশ্য সংরক্ষণের আর্জিও জানিয়েছেন তিনি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতির কক্ষে ঢুকে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর মামলার নথি দেখার চেষ্টা করার অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হল। অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাইলেন সুজিতের নথিভুক্ত আইনজীবী মৌসুমী ভাওয়াল। একই সঙ্গে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের কক্ষের সামনের ঘরে থাকা নজরদারি ক্যামেরার দৃশ্য সংরক্ষণের আর্জিও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন মৌসুমী। তাঁর বক্তব্য, বিচারপতির ব্যক্তিগত সচিবের সঙ্গে যোগসাজশ করে মামলার নথি দেখার চেষ্টা করার যে অভিযোগ উঠেছে, তা ঠিক নয়। নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নজরদারি ক্যামেরার দৃশ্য পরীক্ষা করলেই প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে তাঁর দাবি।
পুরসভায় নিয়োগে কথিত দুর্নীতির মামলায় প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা সুজিত বসুর জামিনের আবেদন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে উঠেছিল। অর্থনৈতিক অপরাধ দমন সংস্থার তদন্তাধীন ওই মামলায় নিম্ন আদালত সুজিতের জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে আবেদন করেন তিনি।
গত ১৭ আগস্ট দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি ঘোষ রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন। কিন্তু ১৯ আগস্ট তিনি মামলাটি থেকে সরে দাঁড়ান। বিচারপতি তাঁর নির্দেশে জানান, ১৮ আগস্ট তিনি এজলাসে থাকার সময়ে আবেদনকারীর এক আইনজীবী তাঁর ব্যক্তিগত সচিবের সঙ্গে কক্ষে যান এবং কর্মীদের কাছে মামলার নথি দেখতে চান। এই ঘটনাকে বিচারপ্রক্রিয়ার পবিত্রতার পরিপন্থী এবং গুরুতর অনুচিত আচরণ বলে উল্লেখ করেন বিচারপতি।
অন্য দিকে, মৌসুমীর দাবি, মামলার শুনানিতে উল্লেখ করা কয়েকটি রায়ের প্রতিলিপি দেওয়ার জন্যই তাঁকে ডাকা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট দুপুর আড়াইটে নাগাদ আইনজীবী নাহিদ আহমেদ তাঁকে জানান যে, ১৫ নম্বর এজলাসের আধিকারিক তথা বিচারপতির ব্যক্তিগত সচিব শিখা মুখোপাধ্যায় সংশ্লিষ্ট রায়গুলির প্রতিলিপি চেয়েছেন।
মৌসুমী জানান, তিনি এজলাসে পৌঁছলে ওই আধিকারিকই তাঁকে বিচারপতিদের করিডর দিয়ে বিচারপতির কক্ষের সামনের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে দু’জন আদালতকর্মী উপস্থিত ছিলেন। কোন কোন রায়ের প্রতিলিপি প্রয়োজন, তা শনাক্ত করার জন্য তাঁকে বসতে বলা হয়। তাঁর দাবি, তিনি নিজে কোনও নথি চাননি, নথি স্পর্শও করেননি। এমনকি সেখানে তিনি “একটি কথাও বলেননি”।
আইনজীবীর আবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময়ের নজরদারি ক্যামেরার দৃশ্য অবিলম্বে সংরক্ষণ করা না হলে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অভিযোগটি তাঁর পেশাগত সুনাম ও সততার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় দ্রুত তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
বিচারপতি ঘোষ সরে দাঁড়ানোয় সুজিতের জামিনের আবেদন এখন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির প্রশাসনিক নির্দেশে অন্য কোনও বিচারপতির এজলাসে পাঠানো হবে। তবে বিচারপতির কক্ষের গোপনীয়তা এবং আদালতের নথির সুরক্ষা নিয়ে ওঠা গুরুতর প্রশ্নের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই বিতর্ক হাই কোর্টের অন্দরে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



