জাকারবার্গের নতুন ঠিকানা!
যা জানা জরুরি
- ফেসবুকের মূল সংস্থা মেটার প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ এবং তাঁর স্ত্রী প্রিসিলা চ্যান এবার আয়ারল্যান্ডে কিনলেন প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এক প্রাসাদ।
- দক্ষিণ-পূর্ব আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি ওয়াটারফোর্ডে ব্ল্যাকওয়াটার নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘স্ট্র্যানক্যালি ক্যাসল’ গোপন দরকষাকষির মাধ্যমে তাঁদের হাতে এসেছে।
- যদিও প্রাসাদটির জন্য ঠিক কত অর্থ খরচ হয়েছে, তা এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ফেসবুকের মূল সংস্থা মেটার প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ এবং তাঁর স্ত্রী প্রিসিলা চ্যান এবার আয়ারল্যান্ডে কিনলেন প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এক প্রাসাদ। দক্ষিণ-পূর্ব আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি ওয়াটারফোর্ডে ব্ল্যাকওয়াটার নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘স্ট্র্যানক্যালি ক্যাসল’ গোপন দরকষাকষির মাধ্যমে তাঁদের হাতে এসেছে। যদিও প্রাসাদটির জন্য ঠিক কত অর্থ খরচ হয়েছে, তা এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
আইরিশ সংবাদমাধ্যমের অনুমান, প্রাসাদ এবং সংলগ্ন বিশাল জমির বাজারমূল্য ২ কোটি থেকে ৩ কোটি ইউরোর মধ্যে—ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২০৫ কোটি থেকে ৩০৮ কোটি টাকা। তবে সরকারি সম্পত্তিমূল্য নিবন্ধনে বিক্রির তথ্য এখনও ওঠেনি। ফলে চূড়ান্ত দাম নিয়ে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। কয়েক সপ্তাহ আগেই ব্যক্তিগত স্তরে এই লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
স্ট্র্যানক্যালি ক্যাসলের জৌলুস শুধু তার বয়সে নয়, তার বিস্তীর্ণ পরিসরেও। প্রাসাদের সঙ্গে রয়েছে প্রায় ৪৪০ একর বা ১৭৮ হেক্টর জমি। তিনতলা মূল ভবনের আয়তন প্রায় ১৬ হাজার বর্গফুট। গথিক রিভাইভাল স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি এই প্রাসাদ ঘেরা ব্ল্যাকওয়াটার উপত্যকার সবুজ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে। ইউঘল শহর থেকে গাড়িতে প্রায় আধ ঘণ্টায় পৌঁছনো যায় সেখানে।
ইতিহাসও কম চমকপ্রদ নয়। ১৮২৭ থেকে ১৮৩০ সালের মধ্যে তৎকালীন ব্রিটিশ রক্ষণশীল দলের প্রাক্তন সাংসদ জন কিলির জন্য প্রাসাদটি নির্মাণ করা হয়। নকশার দায়িত্বে ছিলেন স্থপতি ভাই জেমস পেইন ও জর্জ রিচার্ড পেইন। ড্রোমোল্যান্ড ক্যাসল, কর্ক কাউন্টি জেল এবং কর্কের ব্ল্যাকরক ক্যাসলের নকশার সঙ্গেও তাঁদের নাম জড়িয়ে রয়েছে।
বেলেপাথর ও চুনাপাথরে তৈরি স্ট্র্যানক্যালি ক্যাসল সেই সময়ের স্থাপত্যকুশলতার এক উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। প্রাসাদের বিশালত্বের আন্দাজ মেলে একটি মজার তথ্য থেকেও। ‘দ্য হাউসেস অব আয়ারল্যান্ড’ বইয়ে উল্লেখ রয়েছে, রান্নাঘর থেকে খাবারঘর পর্যন্ত দ্রুত হাঁটলেও পৌঁছতে নাকি প্রায় সাড়ে চার মিনিট সময় লাগত! মূল ভবনের পাশাপাশি রয়েছে একটি আলঙ্কারিক মিনার এবং ব্ল্যাকওয়াটার নদীর ধারে নৌকা ভেড়ানোর ঘাট।
জাকারবার্গ-প্রিসিলা এই সম্পত্তি কিনেছেন মাইকেল অ্যালেন-বাকলি এবং তাঁর স্ত্রী জিয়ানকার্লার কাছ থেকে। অ্যালেন-বাকলি লন্ডনের বেসরকারি বিনিয়োগ সংস্থা আরএবি ক্যাপিটালের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর স্ত্রী জিয়ানকার্লা বিখ্যাত হোটেল ব্যবসায়ী চার্লস ফোর্টের কন্যা এবং রোকো ফোর্ট হোটেলসের রোকো ফোর্টের বোন।
প্রায় ২৫ বছর আগে প্রাসাদটি কিনেছিল অ্যালেন-বাকলি পরিবার। দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকা ঐতিহাসিক সম্পত্তিটিকে তাঁরা ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার করেন। গত দুই দশকে একাধিক দফায় সংস্কার করা হয়েছে বাড়িটি। ২০০৩ সালে বড় ধরনের পুনর্নির্মাণের কাজ হয়েছিল বলেও আয়ারল্যান্ডের সরকারি স্থাপত্য সংরক্ষণ নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
বিদায়ী মালিকদের অবশ্য প্রাসাদ ছাড়তে মন খারাপ। তবে তাঁদের দাবি, এত বছরের বাসস্থানকে রক্ষা ও পুনরুদ্ধার করতে পেরে তাঁরা গর্বিত। নতুন মালিকরাও পরিবেশবান্ধব উপায়ে প্রাসাদ ও তার বিস্তীর্ণ জমির সংরক্ষণ করবেন জেনে তাঁরা খুশি।
জাকারবার্গের মুখপাত্রও সম্পত্তি কেনার খবর নিশ্চিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য, জাকারবার্গ এবং তাঁর পরিবার ঐতিহাসিক বাড়িটির যত্ন নেওয়া চালিয়ে যেতে উৎসাহী। আয়ারল্যান্ডে সময় কাটানোর ক্ষেত্রেও এই প্রাসাদ তাঁদের নতুন ঠিকানা হবে। তবে স্থায়ী ভাবে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রেই থাকবেন।
আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে জাকারবার্গের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০০৯ সাল থেকেই ডাবলিনে মেটার আন্তর্জাতিক সদর দফতর রয়েছে। দেশটিতে সংস্থাটির প্রায় দেড় হাজার কর্মী কাজ করেন। ডাবলিনের পাশাপাশি কর্ক এবং কাউন্টি মিথেও মেটার বিভিন্ন কার্যক্রম রয়েছে।
এর আগেও আয়ারল্যান্ডে একটি ঐতিহাসিক প্রাসাদ কেনার চেষ্টা করেছিলেন জাকারবার্গ। মার্কিন ব্যবসায়ী জন ম্যালোন জানিয়েছিলেন, কাউন্টি কিলডেয়ারের ক্যাসলমার্টিন হাউস অ্যান্ড এস্টেট কিনতে আগ্রহী ছিলেন মেটা কর্তা। সেই চেষ্টা সফল না হলেও এবার শেষ পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডে নিজের ‘ক্যাসল’ খুঁজে পেলেন তিনি।
ব্ল্যাকওয়াটার উপত্যকাতেও ধনকুবেরদের ঐতিহাসিক সম্পত্তি কেনার প্রবণতা নতুন নয়। কাছেই রয়েছে ব্রিটিশ শিল্পপতি জেমস ডাইসনের কেনা ব্যালিনাট্রে হাউস, যা ২০২৪ সালে প্রায় ২ কোটি ৯০ লক্ষ ইউরোয় কিনেছিলেন তিনি। ফলে জাকারবার্গের আগমনে আয়ারল্যান্ডের এই শান্ত, সবুজ উপত্যকায় ধনকুবের প্রতিবেশীর তালিকা আরও একটু দীর্ঘ হল।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



