পরিকাঠামোর দোহাই নয়, প্রিয়াঙ্কার স্থায়ী নিয়োগে কেন্দ্রকে ডেডলাইন

যা জানা জরুরি
- দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশের উপকূলরক্ষী বাহিনীতে কর্মরত এক কৃতী মহিলা আধিকারিককে স্থায়ী নিয়োগ না দেওয়ায় কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট।
- কমান্ড্যান্ট প্রিয়াঙ্কা ত্যাগীর বিষয়টি দু’সপ্তাহের মধ্যে পুনর্বিবেচনা করতে কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।
- আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, মহিলাদের উপযোগী পরিকাঠামো তৈরি করতে সরকারের ব্যর্থতা কোনও যোগ্য আধিকারিককে বঞ্চিত করার যুক্তি হতে পারে না।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশের উপকূলরক্ষী বাহিনীতে কর্মরত এক কৃতী মহিলা আধিকারিককে স্থায়ী নিয়োগ না দেওয়ায় কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট। কমান্ড্যান্ট প্রিয়াঙ্কা ত্যাগীর বিষয়টি দু’সপ্তাহের মধ্যে পুনর্বিবেচনা করতে কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, মহিলাদের উপযোগী পরিকাঠামো তৈরি করতে সরকারের ব্যর্থতা কোনও যোগ্য আধিকারিককে বঞ্চিত করার যুক্তি হতে পারে না।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনাকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ বুধবার বলেছে, “এক জন আধিকারিককে এ ভাবে অপমানিত হতে দেব না। কিছুটা উদারতা দেখান। তিনি অত্যন্ত যোগ্য আধিকারিক। আমরা দু’সপ্তক সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে বিষয়টি বিবেচনা করুন, না হলে আমরাই নির্দেশ দেব।”
প্রিয়াঙ্কা ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে স্বল্পমেয়াদি নিয়োগের অধীনে সহকারী কমান্ড্যান্ট হিসেবে উপকূলরক্ষী বাহিনীতে যোগ দেন। ওই ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ১৪ বছর চাকরির সুযোগ ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশে তিনি চাকরি চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি পান। বর্তমানে তাঁর চাকরির মেয়াদ ১৭ বছর পূর্ণ হয়েছে।
কেন্দ্রের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি আদালতকে জানান, গত মাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নীতিতে উপকূলরক্ষী বাহিনীর মহিলা আধিকারিকদের স্থায়ী নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, প্রিয়াঙ্কা চাইলে নতুন নীতির অধীনে আবেদন করতে পারেন।
এই যুক্তি মানতে চায়নি আদালত। বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, কেবল নির্দিষ্ট নীতি ছিল না—এই অজুহাতে কি স্থায়ী নিয়োগ অস্বীকার করা যায়? আদালত মনে করিয়ে দেয়, প্রিয়াঙ্কা ২০২১ সাল থেকে স্থায়ী নিয়োগের আবেদন করছেন। তাঁর ঊর্ধ্বতন আধিকারিকেরাও সেই আবেদন সমর্থন করেছেন। কর্মদক্ষতার নিরিখে তাঁর নথি অত্যন্ত উজ্জ্বল। তা সত্ত্বেও তাঁকে স্থায়ী করার কোনও প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।
অ্যাটর্নি জেনারেল দাবি করেন, উপকূলরক্ষী বাহিনীর কার্যপ্রণালী নৌবাহিনী বা অন্য সশস্ত্র বাহিনীর থেকে আলাদা। বিষয়টি লিঙ্গবৈষম্যের নয়; বাহিনীর নিজস্ব সীমাবদ্ধতা ও ইতিহাসও বিবেচনায় রাখা দরকার। উত্তরে আদালত জানতে চায়, পুরুষ আধিকারিকদের যখন স্থায়ী নিয়োগের ব্যবস্থা রয়েছে, তখন মহিলাদের ক্ষেত্রে তা থাকবে না কেন? মহিলাদের উপযোগী পরিকাঠামো না থাকাটা সরকারের সমস্যা—তার দায় কোনও আধিকারিকের উপর চাপানো যায় না।
প্রিয়াঙ্কার আইনজীবী সিদ্ধার্থ শর্মা জানান, নতুন করে আবেদন করলে তাঁর মক্কেল সমস্যায় পড়বেন। নতুন নীতিতে এমন কয়েকটি পরীক্ষার শর্ত রয়েছে, যা সাধারণত স্বল্পমেয়াদি চাকরির অষ্টম বছরে নেওয়া হয়। প্রিয়াঙ্কা ইতিমধ্যে ১৩ মাসের উড়ান প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ডর্নিয়ার বিমানে তাঁর প্রায় সাড়ে চার হাজার ঘণ্টা উড়ানের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দু’বার আন্তর্জাতিক মহড়ায় দলনেত্রী হিসেবেও যোগ দিয়েছেন তিনি। পূর্বাঞ্চলে সমুদ্র নজরদারিতে নিয়োজিত প্রথম সর্বমহিলা দলেরও সদস্য ছিলেন।
এই কৃতিত্বের উল্লেখ করে আদালত বলেছে, তাঁকে আবার গোড়া থেকে আবেদন করতে না বলে সরাসরি স্থায়ী পদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি কেন্দ্রের বিবেচনা করা উচিত। দু’সপ্তকের মধ্যে কেন্দ্র ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না নিলে আদালত নিজেই প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবে বলে জানিয়ে দিয়েছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



