Home খবর সীমান্তে নতুন উত্তেজনা: ‘পুশ-ইন’ রুখে দেওয়ার দাবি বাংলাদেশের, চাপে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

সীমান্তে নতুন উত্তেজনা: ‘পুশ-ইন’ রুখে দেওয়ার দাবি বাংলাদেশের, চাপে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

0 comments 7 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • গত ২৪ ঘণ্টায় ভারত থেকে জোর করে লোক ঢোকানোর একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ করার দাবি বাংলাদেশের।
  • সীমান্তের বিভিন্ন অংশে অন্তত ১০টি অনুপ্রবেশ বা ‘পুশ-ইন’ প্রচেষ্টার অভিযোগ তুলেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
  • ঝিনাইদহ সীমান্তে ৩০-৩৫ জনকে একটি প্রিজন ভ্যানে করে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
  • ভারত বলছে, ২,৮৬০ জন সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয় যাচাই করতে ঢাকার সহযোগিতা প্রয়োজন।
  • অভিবাসন ইস্যু আবারও দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা যখন ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল, তখনই সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হল। বাংলাদেশ সরকার দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ একাধিকবার লোকজনকে জোর করে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পাঠানোর চেষ্টা করেছে, কিন্তু সেগুলি প্রতিহত করা হয়েছে। এই অভিযোগের ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অভিবাসন-সংক্রান্ত বিরোধ আবারও সামনে চলে এসেছে।

বিশ্বের দীর্ঘতম স্থলসীমান্তগুলির অন্যতম ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ এই সীমান্ত পাহাড়, নদী, জনবসতি ও কৃষিজমি অতিক্রম করেছে। ফলে সীমান্তের প্রতিটি অংশে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা সবসময়ই কঠিন। এই ভৌগোলিক বাস্তবতাই দুই দেশের মধ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং অভিবাসন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে জিইয়ে রেখেছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় পক্ষের অন্তত ১০টি ‘পুশ-ইন’ প্রচেষ্টা শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এসব ক্ষেত্রে লোকজনকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ছাড়াই বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। বিজিবি স্পষ্ট জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নিয়ম এবং দুই দেশের পারস্পরিক সমঝোতা লঙ্ঘনের কোনও প্রচেষ্টা তারা মেনে নেবে না।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলায়। বিজিবির অভিযোগ, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সীমান্তের একটি গেট খুলে ৩০ থেকে ৩৫ জনকে একটি প্রিজন ভ্যানে করে বাংলাদেশের দিকে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। তবে বিজিবির বাধার মুখে সেই যানবাহনকে ফিরে যেতে হয়। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।

বাংলাদেশের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট। ঢাকা বলছে, কোনও ব্যক্তি যদি সত্যিই বাংলাদেশের নাগরিক হন, তাহলে তাঁকে ফেরত পাঠাতে হবে নির্ধারিত কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। সীমান্তে এনে ঠেলে দেওয়ার পদ্ধতি আন্তর্জাতিক রীতিনীতির পরিপন্থী এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতারও বিরোধী।

অন্যদিকে ভারতের বক্তব্য হল, দেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও প্রত্যাবাসন করা সরকারের দায়িত্ব। মে মাসে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল, ২,৮৬০ জন সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিকের জাতীয়তা যাচাই করার জন্য ঢাকার কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভারতের আশা, বাংলাদেশ দ্রুত পরিচয় যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করবে, যাতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আইনসঙ্গত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা যায়।

তবে সমস্যার মূল শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিকও। ভারতের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী রাজ্যে অবৈধ অভিবাসন বহু বছর ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং ত্রিপুরায় এই প্রশ্ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। শাসক বিজেপি অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধকে অগ্রাধিকারমূলক বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছে।

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। যদিও উভয় পক্ষই সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলছে, সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ অভিযোগ সেই প্রচেষ্টাকে বারবার জটিল করে তুলছে।

বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে মাইকিং, জনসচেতনতা অভিযান, অতিরিক্ত টহল এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। বিজিবি বলছে, অবৈধ প্রবেশ, মানবপাচার এবং জোরপূর্বক সীমান্ত অতিক্রমের যেকোনও প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে তারা প্রস্তুত।

এদিকে বিষয়টি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকেও উঠেছে। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ‘পুশ-ইন’, অবৈধ অভিবাসন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই আলোচনার ফলই নির্ধারণ করবে সীমান্তে বর্তমান উত্তেজনা সাময়িক ঘটনা হয়ে থাকবে, নাকি তা ভবিষ্যতে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিরোধে রূপ নেবে।

সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে তাই এখন শুধু মানুষ নয়, দুই দেশের পারস্পরিক আস্থাও যেন পরীক্ষা দিচ্ছে। অভিবাসনের প্রশ্নে সহযোগিতা ও সংঘাত—দুটি সম্ভাবনাই এখনও সমানভাবে খোলা রয়েছে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles