নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ রদবদলের মধ্যে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টু। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেছেন। রাষ্ট্রপতির সচিবালয় থেকে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরামর্শে রাষ্ট্রপতি বিট্টুর পদত্যাগ গ্রহণ করেছেন। তাঁর দায়িত্ব আপাতত অন্য কোনও মন্ত্রীর হাতে অর্পণ করা হবে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।
রবনীত সিং বিট্টু কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন। পাঞ্জাবের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকার পর তিনি জাতীয় স্তরেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কৃষক আন্দোলন, পাঞ্জাবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয় এবং শিখ সম্প্রদায়ের নানা প্রশ্নে তিনি কেন্দ্রের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে সক্রিয় ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈঠকেও দেখা গিয়েছিল।
তাঁর পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে সরকারিভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। রাষ্ট্রপতির বিজ্ঞপ্তিতেও শুধু ইস্তফা গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলে এই পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন ঘটেছে। আবার অন্য একটি অংশের মতে, পাঞ্জাবের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং আগামী দিনের সাংগঠনিক পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
ভারতীয় জনতা পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। বিরোধী দলগুলি অবশ্য দাবি করেছে, সরকারের অভ্যন্তরে নানা বিষয়ে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত হিসেবেই এই পদত্যাগকে দেখা উচিত। যদিও এই দাবির পক্ষে তারা কোনও প্রমাণ প্রকাশ করেনি।
রবনীত সিং বিট্টু পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বেয়ন্ত সিংয়ের নাতি। কংগ্রেসের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন থাকার পর তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় স্থান পান। দলবদলের পর থেকেই তিনি পাঞ্জাবে বিজেপির সংগঠন বিস্তার এবং শিখ ভোটারদের কাছে দলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর পদত্যাগ শুধু একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং কেন্দ্রীয় রাজনীতির বৃহত্তর সমীকরণের সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে পাঞ্জাবকে সামনে রেখে বিজেপির ভবিষ্যৎ কৌশল কী হবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সম্প্রসারণ বা পুনর্গঠনের আগে এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর রবনীত সিং বিট্টুর মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটল। এখন তাঁর পরিবর্তে কে দায়িত্ব নেবেন এবং বিজেপি তাঁকে ভবিষ্যতে কোন ভূমিকায় ব্যবহার করবে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।