কটূক্তির মামলা খারিজ, রেহাই সময়দের

যা জানা জরুরি
- প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে কৌতুকশিল্পী সময় রায়না এবং তাঁর চার সহযোগীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর বাতিল করে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
- শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।
- সময় রায়না ছাড়াও মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বিপুল গয়াল, বলরাজ ঘাই, সোনালি ঠক্কর এবং নিশান্ত তনওয়ার।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে কৌতুকশিল্পী সময় রায়না এবং তাঁর চার সহযোগীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর বাতিল করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। সময় রায়না ছাড়াও মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বিপুল গয়াল, বলরাজ ঘাই, সোনালি ঠক্কর এবং নিশান্ত তনওয়ার।
বিতর্কের সূত্রপাত সময় রায়নার সঞ্চালনায় ইউটিউবে সম্প্রচারিত ‘ইন্ডিয়াজ গট ল্যাটেন্ট’ অনুষ্ঠানকে ঘিরে। অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে করা কয়েকটি মন্তব্য নিয়ে তীব্র আপত্তি ওঠে। অভিযোগ ছিল, সেই মন্তব্য নিছক অরুচিকর কৌতুক নয়, বরং প্রতিবন্ধী মানুষের মর্যাদাকেও আঘাত করেছে। এসএমএ কিওর ফাউন্ডেশনের আবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি পৌঁছয় সুপ্রিম কোর্টে।
এর আগে গত বছরের অগস্টে সময় রায়না ও তাঁর সহযোগীদের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। নিজেদের অনুষ্ঠান, পডকাস্ট এবং সমাজমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেই প্রকাশ্যে অনুতাপ জানাতে বলা হয়েছিল তাঁদের। আদালত স্পষ্ট করেছিল, মন্তব্যের গুরুত্বের তুলনায় ক্ষমা চাওয়ার প্রকাশও যথেষ্ট জোরালো হওয়া প্রয়োজন।
শুধু ক্ষমা চাওয়াতেই থামেনি আদালতের নির্দেশ। সময় রায়নাকে নিজের মঞ্চ ব্যবহার করে প্রতিবন্ধী ও বিশেষভাবে সক্ষম মানুষের জন্য অর্থসংগ্রহের অনুষ্ঠান আয়োজন করতে বলা হয়। পাশাপাশি প্রতিকূলতাকে জয় করে জীবনে সাফল্য পাওয়া ব্যক্তিদের গল্প তুলে ধরার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
আদালতের যুক্তি ছিল, জনপ্রিয় কৌতুকশিল্পী ও প্রভাবশালীদের কথার প্রভাব সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি। তাঁদের বিপুল দর্শক-শ্রোতা থাকায় কোনও নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য সামাজিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমা নিয়েও আদালত সতর্ক অবস্থান নেয়।
চলতি বছরের ৫ মে সময় রায়না-সহ পাঁচ কৌতুকশিল্পী ও প্রভাবশালীকে ফের তলব করেছিল আদালত। আগের নির্দেশ পুরোপুরি মেনে না চলার অভিযোগে গত মাসে তাঁদের উপর তিন লক্ষ টাকা জরিমানাও করা হয়।
তবে শুক্রবারের শুনানিতে পরিস্থিতি বদলায়। বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে, অভিযুক্তেরা নিজেদের ভুল স্বীকার করেছেন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মর্যাদা রক্ষায় সচেতনতা তৈরির জন্য সংশোধনমূলক পদক্ষেপও নিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ মেনে তাঁরা যে পদক্ষেপ করেছেন, তা বিবেচনায় নিয়ে বেঞ্চ মনে করেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা আর চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
সেই কারণেই সময় রায়না ও তাঁর চার সহযোগীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর এবং সংশ্লিষ্ট মামলা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
‘ইন্ডিয়াজ গট ল্যাটেন্ট’ অবশ্য এর আগেও বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। ইউটিউবার রণবীর আল্লাহবাদিয়ার একটি আপত্তিকর মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে প্রবল সমালোচনা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই অনুষ্ঠানে কৌতুক, অনলাইন কনটেন্ট এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।
সময় রায়নাদের বিরুদ্ধে মামলা শেষ পর্যন্ত খারিজ হলেও সুপ্রিম কোর্টের বার্তা স্পষ্ট—কৌতুকের নামে কাউকে হাসির পাত্র বানানো আর কোনও জনগোষ্ঠীর মর্যাদায় আঘাত করা এক বিষয় নয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও তার সঙ্গে জুড়ে থাকে সামাজিক দায়বদ্ধতাও।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



