স্ত্রী সুনীতা আহুজার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ নিয়ে এত দিন নানা জল্পনা ছিল। এ বার সেই বিতর্কে নিজেই যেন ঘি ঢাললেন গোবিন্দ। শুধু স্ত্রীর অভিযোগ উড়িয়ে দেননি, বরং নিজের নায়িকাদের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে যে আবেগ ও ভালবাসা ছিল, তা-ও বেশ খোলামেলা ভাবেই স্বীকার করেছেন অভিনেতা।
সম্প্রতি এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুনীতার অভিযোগ প্রসঙ্গে গোবিন্দ বলেন, “ও আমাকে এত ভালবেসে গালাগাল করে যে, আমিও ভালবেসেই সেগুলো মেনে নিই।” একই সঙ্গে জীবনের কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, সফল কর্মজীবন এবং দুই সন্তান হর্ষবর্ধন ও টিনা আহুজাকে ভাল ভাবে বড় করে তোলার পিছনে সুনীতার বড় ভূমিকা রয়েছে।
তবে স্ত্রীর প্রকাশ্য সমালোচনায় অভিমানও রয়েছে অভিনেতার। তাঁর প্রশ্ন, “দূরত্ব তৈরি করতে হলে কি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেই হবে? সফল হতে হলে কি নিজের লোকের নিন্দা করা জরুরি?”
যদিও পরক্ষণেই গোবিন্দর দাবি, সুনীতা তাঁকে চার বার প্রশংসা করার পর এক বার অপমান করেন। আর সেই অপমানের মধ্যেও তিনি ভালবাসাই খুঁজে পান।
নায়িকাদের সঙ্গে কি সত্যিই ছিল প্রেম?
নিজের কেরিয়ারের সোনালি সময়ের কথা বলতে গিয়ে গোবিন্দ জানান, তাঁর বহু ছবি ও গান জনপ্রিয় হওয়ার পিছনে নায়িকাদের সঙ্গে তাঁর রসায়নের বড় ভূমিকা ছিল। তাঁর কথায়, “আমি জানতাম, কোনও নায়িকার সঙ্গে যে সম্পর্ক তৈরি করব, সেটা হবে ভালবাসার সম্পর্ক।”
তবে সেই সম্পর্ক কতটা ব্যক্তিগত পর্যায়ে পৌঁছেছিল, তা স্পষ্ট করেননি অভিনেতা। বরং জানিয়েছেন, এক সময়ে এত বেশি ছবি এবং শিফটে কাজ করতেন যে শুটিং শেষ হওয়ার পর নায়িকাদের সঙ্গে আলাদা করে দেখা করার সময়ই থাকত না।
এ প্রসঙ্গে নিজের মা নির্মলা দেবীর কথাও মনে করেছেন গোবিন্দ। অভিনেতার দাবি, মা তাঁকে নায়িকাদের সঙ্গে মেলামেশায় উৎসাহ দিতেন। তাঁর যুক্তি ছিল, ঈশ্বর যখন ছেলের নাম ‘গোবিন্দ’ রেখেছেন—যা শ্রীকৃষ্ণেরও একটি নাম—তখন তাঁর জীবন আনন্দ ও হাসিতে ভরা হওয়াই স্বাভাবিক।
সুনীতার সঙ্গে তাঁর মায়ের একটি কথোপকথনের কথাও জানিয়েছেন অভিনেতা। তাঁর দাবি, কোনও নায়িকার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সুনীতা আপত্তি জানালে নির্মলা দেবী বলতেন, “সুনীতা, তোমার জন্যই তো ও কিছু নায়িকার সঙ্গে দেখাও করে না। প্যাক-আপের পর সোজা বাড়ি ফিরে আসে।”
রবিনা ট্যান্ডনের কথাও স্বীকার
গোবিন্দ-সুনীতার দাম্পত্য নিয়ে আলোচনায় এর আগে রবিনা ট্যান্ডনের নামও উঠেছিল। গত বছর সুনীতা দাবি করেছিলেন, গোবিন্দ অবিবাহিত হলে তাঁকে বিয়ে করতেন বলে এক সময় জানিয়েছিলেন রবিনা।
‘দিওয়ানা মস্তানা’, ‘দুলহে রাজা’, ‘বড়ে মিয়াঁ ছোটে মিয়াঁ’ এবং ‘আন্টি নম্বর ১’-এর মতো একাধিক ছবিতে গোবিন্দ ও রবিনাকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল।
এ বার সুনীতার সেই দাবি সত্যি বলেই কার্যত মেনে নিয়েছেন গোবিন্দ।
বিবাহিত হয়েও সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গেও অভিনেতা কোনও রাখঢাক করেননি। নিজের যৌবনের কথা বলতে গিয়ে বরং রসিকতা করে বলেছেন, “৩৪ বছর বয়স পর্যন্ত আমি এতটাই শরিফ ছিলাম যে এখন ভাবলে নিজেরই লজ্জা হয়—কেন এত শরিফ ছিলাম!”
এর পরেই তাঁর সেই বহুচর্চিত মন্তব্য—“আপনি যদি মিষ্টির দোকানে থেকেও খালি পেটে বেরিয়ে আসেন, তা হলে সেটা খুবই দুঃখের।”
গোবিন্দর মতে, পুরুষ অনেক সময় নানা দুষ্টুমি বা ভুল সিদ্ধান্তে জড়িয়ে পড়ে এবং পরে তার জন্য অনুতপ্ত হয়। অন্য দিকে, পরিবার নিয়ে চিন্তা থেকেই একজন নারী অনেক সময় কঠোর হয়ে ওঠেন। সেই বিষয়টি বুঝতে পুরুষের সময় লাগে। নিজের জীবনেও তেমন অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
‘নায়িকাদের চোখে ভালবাসার জল আসে’
নিজের সঙ্গে কাজ করা নায়িকাদের প্রসঙ্গেও বেশ আবেগপ্রবণ গোবিন্দ। তাঁর দাবি, প্রত্যেকের সঙ্গেই তাঁর সম্পর্কের মধ্যে ভালবাসা ছিল।
অভিনেতার কথায়, তাঁর কোনও নায়িকার সঙ্গে দেখা করে অন্য কোনও নায়কের প্রসঙ্গ তুললে হয়তো তাঁরা লজ্জা পেয়ে বলবেন, ‘উনি আমার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করতেন’। কিন্তু তাঁর কথা উঠলে নাকি তাঁদের চোখে অন্য রকম আবেগ দেখা যায়।
গোবিন্দর দাবি, “একজন নারীর ভালবাসার অশ্রু টাকা দিয়ে কেনা যায় না। সেটা ভিতর থেকে আসে।”
সুনীতা আহুজা অতীতে একাধিক বার স্বামীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। গোবিন্দও এত দিন বিষয়টি কখনও রসিকতা, কখনও এড়িয়ে যাওয়ার ভঙ্গিতে সামলেছেন। কিন্তু এ বারের সাক্ষাৎকারে নায়িকাদের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক ও আবেগের কথা অনেকটাই খোলামেলা ভাবে বলেছেন তিনি।
আর তাঁর ‘মিষ্টির দোকান’ উপমা? সেটিই এখন গোবিন্দ-সুনীতার দীর্ঘ দাম্পত্যের পুরনো বিতর্কে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে।