আকাশে আচমকা ঝাঁকুনি, রক্তাক্ত যাত্রী: ফুকেট-দিল্লি বিমানে আতঙ্ক

যা জানা জরুরি
- সকালের শান্ত উড়ান আচমকাই পরিণত হল আতঙ্কের মুহূর্তে।
- ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার উড়ান AI2379 মাঝ আকাশে প্রবল বায়ুচাঞ্চল্যের কবলে পড়তেই আচমকা শুরু হয় তীব্র ঝাঁকুনি।
- যাত্রীদের একাংশ আসন থেকে ছিটকে পড়েন, কেউ বিমানের ভিতরের বিভিন্ন অংশে ধাক্কা খান।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
সকালের শান্ত উড়ান আচমকাই পরিণত হল আতঙ্কের মুহূর্তে। ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার উড়ান AI2379 মাঝ আকাশে প্রবল বায়ুচাঞ্চল্যের কবলে পড়তেই আচমকা শুরু হয় তীব্র ঝাঁকুনি। যাত্রীদের একাংশ আসন থেকে ছিটকে পড়েন, কেউ বিমানের ভিতরের বিভিন্ন অংশে ধাক্কা খান। আহত হন অন্তত ১৪ জন—১০ যাত্রী এবং দু’জন বিমানকর্মী-সহ। আহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে বলে যাত্রীদের দাবি।
কয়েক মুহূর্তের সেই ঘটনা যেন কেবিনের ভিতরেই তৈরি করে দেয় বিভীষিকার ছবি।
‘হঠাৎ মনে হল বিমানটা থেমে গেল’
উড়ানে থাকা এক যাত্রীর কথায়, “সকালের ফ্লাইট হওয়ায় আমরা অনেকেই ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ মনে হল বিমানটা যেন থেমে গেল, তারপর দিক বদলাতে শুরু করল। প্রবল ঝাঁকুনিতে সবাই ছিটকে পড়তে লাগলেন। অনেকের মাথায় আঘাত লাগে। আমারও পিঠে চোট লেগেছে।”
আর এক যাত্রী জানান, মুহূর্তের মধ্যে কেবিনে চিৎকার শুরু হয়ে যায়। তাঁর কথায়, “সামনে বসা একজনের মুখে রক্ত দেখতে পাই। কেবিনের জিনিসপত্র ছিটকে পড়েছিল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।”
যাত্রীদের দাবি, ঝাঁকুনি এতটাই তীব্র ছিল যে সিটবেল্ট না বাঁধা থাকা কয়েকজন যাত্রী আসন থেকে উঠে বিমানের ছাদে ধাক্কা খান। উপরের লাগেজ রাখার বাক্স খুলে গিয়ে কিছু জিনিসপত্রও নিচে পড়ে যায়। যাত্রীদের সামলাতে গিয়েও কয়েকজন বিমানকর্মী আহত হন।
কী হয়েছিল আকাশে?
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বিমানটি প্রবল বায়ুচাঞ্চল্যের মধ্যে পড়ায় আচমকা উচ্চতার পরিবর্তন ঘটে। টার্বুলেন্সের সময় সাধারণত বিমানের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে না। কিন্তু বাতাসের তীব্র উল্লম্ব প্রবাহের কারণে বিমান অল্প সময়ের জন্য দ্রুত উপরে বা নিচে উঠতে-নামতে পারে।
আর সেই কয়েক সেকেন্ডই যথেষ্ট।
সিটবেল্ট বাঁধা না থাকলে যাত্রী শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে আসন থেকে উঠে যেতে পারেন এবং কেবিনের ছাদ, আসন বা অন্য কোনও শক্ত অংশে আঘাত পেতে পারেন। বিমানের ভিতরে থাকা আলগা জিনিসও তখন ছিটকে পড়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
দিল্লিতে অবতরণের পর চিকিৎসা
ঘটনার পর পাইলট পরিস্থিতি সামলে উড়ান চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত নিরাপদেই দিল্লিতে অবতরণ করে বিমানটি। বিমানবন্দরে নামার পর আহত যাত্রী ও বিমানকর্মীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।
এয়ার ইন্ডিয়ার তরফেও জানানো হয়েছে, উড়ান চলাকালীন অপ্রত্যাশিত বায়ুচাঞ্চল্যের কারণে কয়েকজন যাত্রী ও বিমানকর্মী আহত হন। দিল্লিতে অবতরণের পর তাঁদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাটি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা শুরু করেছে সংস্থা।
‘ক্লিয়ার এয়ার টার্বুলেন্স’ কতটা বিপজ্জনক?
বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে টার্বুলেন্স নতুন কিছু নয়। তবে ‘ক্লিয়ার এয়ার টার্বুলেন্স’ তুলনামূলকভাবে বেশি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। কারণ, নাম থেকেই বোঝা যায়—আকাশ পরিষ্কার থাকলেও এই ধরনের বায়ুচাঞ্চল্য তৈরি হতে পারে এবং প্রচলিত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় তা সবসময় সহজে ধরা পড়ে না।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ধরনের টার্বুলেন্সের প্রবণতা বাড়ছে বলেও বিভিন্ন বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞের দাবি। ফলে বাইরে থেকে আকাশ শান্ত দেখালেও বিমানের ভিতরে আচমকা তীব্র ঝাঁকুনি তৈরি হতে পারে।
তবে টার্বুলেন্স মানেই বিমান ভেঙে পড়ার আশঙ্কা—এমনটা নয়। আধুনিক বাণিজ্যিক বিমানগুলি এই ধরনের পরিস্থিতি সামলানোর জন্যই তৈরি। যাত্রীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয় শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে আঘাত পাওয়া থেকে।
সিটবেল্টই বড় সুরক্ষা
এই ঘটনাই ফের মনে করিয়ে দিল, বিমানে সিটবেল্টের গুরুত্ব কতটা।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সিটবেল্ট বাঁধার নির্দেশক বাতি নিভে গেলেও যাত্রীরা যেন বসে থাকার সময় কোমরে বেল্ট আলগাভাবে বেঁধে রাখেন। কারণ, টার্বুলেন্স অনেক সময় কোনও আগাম সতর্কতা ছাড়াই শুরু হতে পারে।
বিমান যতই আধুনিক হোক, আকাশের বায়ুচাঞ্চল্য পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা মানুষের পক্ষে এখনও সম্ভব নয়। তাই আচমকা ঝাঁকুনির মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা এড়ানোর সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায় এখনও সেই পুরনো অভ্যাসটাই—সিটবেল্ট বাঁধা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



