স্বাধীন সাংসদ রাজেশ রঞ্জন ওরফে পাপ্পু যাদব শুক্রবার সংসদ চত্বরে রামমন্দিরের দানচুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি প্রতীকী নাট্যাভিনয় করে বিরোধীদের আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিলেন। সন্ন্যাসীর পোশাক পরে তিনি সংসদ ভবনের বাইরে একটি দানবাক্স নিয়ে বসেন। নাটকের এক পর্যায়ে তাঁকে দানবাক্স নিয়ে পালানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়, কিন্তু অন্যরা তাঁকে ধরে ফেলে। সেই অভিনয়ে সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি ছিল লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীরও। তিনি এসে দানবাক্সে কিছু টাকা রাখেন।
পাপ্পু যাদবের গেরুয়া পোশাক লোকসভার ভেতরেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। যদিও তাঁর নাম উল্লেখ করেননি, স্পিকার ওম বিড়লা অধিবেশনের সময় ভিন্ন ধরনের পোশাক পরে আসা সদস্যদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দেন।
সংসদ ভবনের বাইরে মাটিতে বসে থাকা পাপ্পু যাদবের হাতে ছিল একটি দানবাক্স। নাটকে তিনি মূল চরিত্রে অভিনয় করেন, যাকে প্রধান পুরোহিতের ভূমিকায় দেখানো হয়। সমাজবাদী পার্টির সাংসদ রুচি ভীরা (মোরাদাবাদ) এবং অযোধ্যার সাংসদ আওধেশ প্রসাদও এই অভিনয়ে অংশ নেন। আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সমাজবাদী পার্টি রামমন্দিরের দানচুরির অভিযোগকে বড় রাজনৈতিক ইস্যু করে তুলতে চাইছে।
সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ধর্মেন্দ্র যাদব জানান, নাটকের পরিকল্পনা ছিল পাপ্পু যাদবের। তবে তিনি বলেন, রামমন্দিরের দানচুরির অভিযোগ নিয়ে আলোচনার দাবিতে বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ। তাঁর দাবি, সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি প্রতিদিনই এই বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। কিন্তু সরকার আলোচনায় রাজি হচ্ছে না। তাঁর কথায়, “এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, যার ওপর সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত।”
নাটক চলাকালীন কংগ্রেসের অধিকাংশ সাংসদ এমন একটি ব্যানারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যেখানে প্রশ্ন তোলা হয়—কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে কোথায়? সাম্প্রতিক কয়েক দিন ধরে দিল্লিতে প্রশ্নফাঁস বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে কংগ্রেস এবং এই বিষয়ে অমিত শাহের বক্তব্য দাবি করছে।
নাটকটি দেখার সময় উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। এক পর্যায়ে রাহুল গান্ধী নাটকে অংশ নিয়ে দানবাক্সে টাকা রাখেন। এরপর অভিনয়ে দেখা যায়, পাপ্পু যাদব দানবাক্স থেকে টাকা বের করে নিজের পকেটে ভরছেন। পরে অন্য বিরোধী সাংসদরা বিষয়টি টের পেয়ে তাঁকে প্রতীকীভাবে মারধর করেন। তিনি পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েন।
অযোধ্যার রামমন্দিরে দানচুরির অভিযোগ উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের আগে বিজেপির জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। প্রশ্নফাঁস-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর বিরোধী শিবির আরও আক্রমণাত্মক হয়েছে। এবার রামমন্দিরের দানচুরির অভিযোগকে সামনে রেখে তারা বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে চাইছে।
কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ জয়রাম রমেশও বলেন, তাঁর দলও প্রতিদিন এই বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনার নোটিস দিয়েছে। কিন্তু সরকার আলোচনায় সম্মত হচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে সরকারের নীরবতা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।