Home খবর রামমন্দির ট্রাস্টে নতুন সচিব আইআইটি-বোম্বের প্রাক্তনী জগদীশ আফালে, অনুদান-কাণ্ডের বিতর্কের মাঝেই প্রশাসনিক রদবদল

রামমন্দির ট্রাস্টে নতুন সচিব আইআইটি-বোম্বের প্রাক্তনী জগদীশ আফালে, অনুদান-কাণ্ডের বিতর্কের মাঝেই প্রশাসনিক রদবদল

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
11 views 2 minutes read
A+A-
Reset

অযোধ্যার রামমন্দিরের পরিচালনাকারী শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে নতুন সচিব পদে আইআইটি-বোম্বের প্রাক্তনী এবং মন্দির নির্মাণ প্রকল্পের অন্যতম তত্ত্বাবধায়ক জগদীশ আফালে-কে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ট্রাস্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ২ সেপ্টেম্বর ট্রাস্টের কার্যনির্বাহী বৈঠকে এই নিয়োগে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হবে।

রামমন্দিরের কার্যক্রম ক্রমশ বিস্তৃত হওয়ায় দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনার উদ্দেশ্যে এই নতুন সচিব পদ তৈরি করা হয়েছে। এতদিন পর্যন্ত সাধারণ প্রশাসনিক দায়িত্ব বিভিন্ন স্তরে ভাগ করে পরিচালিত হলেও, মন্দিরে দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলির জন্য পৃথক প্রশাসনিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল।

নতুন দায়িত্বে জগদীশ আফালে অন্তর্বর্তীকালীন সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ মোহনের অধীনে কাজ করবেন। যদিও তিনি ট্রাস্টের একজন পদাধিকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, তিনি ট্রাস্টের সদস্য হবেন না। অর্থাৎ প্রশাসনিক কর্তৃত্ব থাকলেও ট্রাস্টের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি সদস্য হিসেবে অংশ নেবেন না।

আফালে পেশায় একজন প্রকৌশলী। রামমন্দির নির্মাণ প্রকল্পে তিনি শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রকল্পের নকশা, নির্মাণের অগ্রগতি এবং বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকেই এবার মন্দিরের সার্বিক প্রশাসনিক পরিচালনায় কাজে লাগাতে চাইছে ট্রাস্ট।

এই নিয়োগ এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন রামমন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। সম্প্রতি অনুদান আত্মসাতের অভিযোগের তদন্তে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও মানসম্পন্ন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, বিষয়টি দীর্ঘসূত্রতার শিকার হওয়া উচিত নয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে।

ট্রাস্টের ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, প্রশাসনিক পুনর্গঠনের লক্ষ্য শুধু দৈনন্দিন কাজের গতি বাড়ানো নয়, বরং স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করা। বিশেষ করে কোটি কোটি টাকার অনুদান, বিপুল সংখ্যক ভক্তের আগমন এবং মন্দির-সংলগ্ন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনার জন্য আরও সুসংগঠিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।

নতুন সচিবের নিয়োগের মাধ্যমে ট্রাস্ট ভবিষ্যতে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি জনআস্থা আরও শক্তিশালী করতে চাইছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে অনুদান-সংক্রান্ত বিতর্ক এবং তার তদন্তের অগ্রগতি আগামী দিনে ট্রাস্টের ভাবমূর্তি ও প্রশাসনিক সংস্কারের কার্যকারিতা কতটা প্রভাবিত করে, সেদিকেই নজর থাকবে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles