বাংলাস্ফিয়ার: সিজেপি (ককরোচ জনতা পার্টি)-র নেতৃত্বে চলা ছাত্র আন্দোলন এবং সংসদ অভিযানের ঘটনায় জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)-র তদন্তের দাবি জানিয়ে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে শুক্রবার বসতে সম্মত হয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার আইনজীবী বরুণ সিনহা আদালতে আবেদন করে জানান, তাঁর মক্কেল সতীশ কুমার আগরওয়াল—অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার প্রাক্তন সহ-সভাপতি—এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছেন। তিনি আদালতের কাছে আবেদন করেন, বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে শুক্রবারই মামলাটি তালিকাভুক্ত করা হোক। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে।
আবেদনকারীর দাবি, তথাকথিত ছাত্র আন্দোলনের জেরে রাজধানী দিল্লির স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অবরোধ ও বিক্ষোভের কারণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য এনআইএ-কে দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনকারীর বক্তব্য।
জনস্বার্থ মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, আন্দোলন ঘিরে দিল্লি পুলিশের নথিভুক্ত সমস্ত এফআইআর এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিক আদালত। একই সঙ্গে বিক্ষোভ চলাকালীন হিংসা, ভাঙচুর, জরুরি পরিষেবার কাজে বাধা, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে ফৌজদারি মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়ারও আর্জি জানানো হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সিজেপি-র নেতৃত্বে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ-সহ একাধিক দাবিতে দিল্লির যন্তর-মন্তরে আন্দোলন চলছে। পরে সেই আন্দোলন সংসদ অভিযানে রূপ নিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটক এবং একাধিক এফআইআর দায়েরের ঘটনা ঘটে। সেই প্রেক্ষাপটেই এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে।
শুক্রবার হাইকোর্টে মামলার প্রাথমিক শুনানিতে আদালত আবেদনকারীর যুক্তি গ্রহণযোগ্য কি না এবং এনআইএ তদন্তের দাবি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা স্পষ্ট হতে পারে। মামলার ফলাফলের দিকে রাজনৈতিক মহল এবং আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি প্রশাসনেরও নজর থাকবে।