পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কেন্দ্র সরকারকে বড় ধাক্কা দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভবিষ্যতে কোনও প্রকল্প কাজ শুরু করার পর তাকে বৈধতা দিতে ‘পরে পরিবেশগত ছাড়পত্র’ (Post-facto Environmental Clearance) দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা যাবে না। একই সঙ্গে আদালত ২০২১ সালের সেই অফিস মেমোর্যান্ডাম (ওএম) বাতিল করেছে, যার মাধ্যমে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই শুরু হওয়া প্রকল্পগুলিকে পরবর্তীকালে অনুমোদনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছিল।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে বলেছে, ২০০৬ সালের পরিবেশ প্রভাব মূল্যায়ন (EIA) বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কোনও প্রকল্প শুরু করার আগে পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রশাসনিক নির্দেশ বা অফিস মেমোর্যান্ডামের মাধ্যমে সেই মৌলিক আইনি কাঠামো বদলানো যায় না। এমন পরিবর্তন করতে হলে আইনসম্মত বিধিসম্মত বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে।
আদালত আরও বলেছে, পরিবেশগত ছাড়পত্রের উদ্দেশ্যই হল প্রকল্প শুরুর আগে তার সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব খতিয়ে দেখা। প্রকল্প নির্মাণ বা উৎপাদন শুরু হয়ে যাওয়ার পরে ছাড়পত্র দেওয়া হলে সেই মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। এতে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং আইন লঙ্ঘনের প্রবণতাও উৎসাহিত হতে পারে।
এই মামলায় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলির অভিযোগ ছিল, ২০২১ সালের অফিস মেমোর্যান্ডাম কার্যত আইনভঙ্গকারী প্রকল্পগুলিকে ‘বৈধতা’ দেওয়ার পথ খুলে দিয়েছিল। কোনও প্রকল্প পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই কাজ শুরু করলেও পরে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুমোদন পাওয়ার সুযোগ থাকায় পরিবেশ আইন দুর্বল হয়ে পড়ছিল। সেই যুক্তিকেই গুরুত্ব দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
তবে আদালত ইতিমধ্যেই অতীতে যে সব প্রকল্প এই ব্যবস্থার আওতায় পরিবেশগত ছাড়পত্র পেয়েছে, সেগুলিকে এই রায়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করেনি। রায়টি মূলত ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং কেন্দ্রকে নতুন করে এ ধরনের প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় দেশের পরিবেশ প্রশাসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। এর ফলে শিল্প, খনি, অবকাঠামো ও নির্মাণ প্রকল্পগুলিকে আর আগেভাগে কাজ শুরু করে পরে অনুমোদন নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। বরং প্রকল্পের পরিকল্পনা পর্যায়েই পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, জনশুনানি এবং আইনসিদ্ধ সমস্ত ছাড়পত্র সম্পূর্ণ করতে হবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের নীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে।