বাংলাস্ফিয়ার: প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং দিল্লিতে ছাত্র-প্রতিবাদে পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বুধবার লোকসভা ও রাজ্যসভা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বিরোধী দলগুলি অধিবেশন শুরু হতেই সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। এর জেরে উভয় কক্ষেই বারবার মুলতবি ঘোষণা করতে বাধ্য হন স্পিকার ও চেয়ারম্যান।
লোকসভায় প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধী সাংসদরা আসনের সামনে এসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, একের পর এক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। পাশাপাশি, দিল্লিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর পুলিশি কড়াকড়ি গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী বলেও দাবি করেন তাঁরা।
রাজ্যসভাতেও একই চিত্র দেখা যায়। বিরোধী সদস্যরা আলোচনার দাবি জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। সরকারের তরফে জানানো হয়, পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নির্ভুল ও স্বচ্ছ করতে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে আলোচনায় তারা প্রস্তুত। তবে বিরোধীরা তাৎক্ষণিক আলোচনার দাবি থেকে সরে না আসায় কার্যক্রম এগোয়নি।
সংসদ ভবনের বাইরে বিরোধী জোটের নেতারা সাংবাদিকদের বলেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম এবং ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সরকারের মনোভাব দেশের যুবসমাজের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাঁদের অভিযোগ, সরকারের ব্যর্থতার জবাব না দিয়ে প্রতিবাদ দমনে প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সরকার দাবি করেছে যে বিরোধীরা পরিকল্পিতভাবে সংসদের কাজকর্ম ব্যাহত করছে। সরকারের বক্তব্য, গুরুত্বপূর্ণ বিল ও জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে আলোচনা এড়াতেই বিরোধীরা অচলাবস্থার কৌশল নিয়েছে। সরকার জানিয়েছে, নিয়ম মেনে আলোচনার জন্য তারা প্রস্তুত, কিন্তু বিশৃঙ্খলার মধ্যে সংসদ চালানো সম্ভব নয়।
দিনভর টানাপোড়েনের জেরে লোকসভা ও রাজ্যসভায় নির্ধারিত আইনপ্রণয়ন ও অন্যান্য কার্যসূচির বড় অংশই সম্পন্ন করা যায়নি। ফলে অধিবেশনের আরেকটি দিন কার্যত বিক্ষোভ ও অচলাবস্থার মধ্যেই শেষ হয়।