Home খবর ত্রিপুরার ডিজিপির রহস্যমৃত্যু: দপ্তরেই মিলল অনুরাগ ধনখড়ের দেহ, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার সন্দেহ

ত্রিপুরার ডিজিপির রহস্যমৃত্যু: দপ্তরেই মিলল অনুরাগ ধনখড়ের দেহ, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার সন্দেহ

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
11 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • ত্রিপুরার পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি) অনুরাগ ধনখড় আগরতলার পুলিশ সদর দপ্তরে নিজের দপ্তরে মৃত অবস্থায় উদ্ধার।
  • প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার আশঙ্কা করা হলেও, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের নির্দেশ।
  • ১৯৯৪ ব্যাচের আইপিএস কর্মকর্তা ধনখড় সিবিআইয়ের একাধিক বহুল আলোচিত তদন্তের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
  • ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।

ত্রিপুরার পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পদে থাকা ডিজিপি অনুরাগ ধনখড়ের আকস্মিক মৃত্যু গোটা রাজ্য তথা দেশের প্রশাসনিক মহলে গভীর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সোমবার আগরতলার পুলিশ সদর দপ্তরে তাঁর দপ্তরের সঙ্গে লাগোয়া বাথরুম থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, যদিও সরকারি ভাবে এখনও চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত করা হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক তদন্তের পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়মিত কাজের মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। কিছু সময় ধরে ডিজিপির কোনও সাড়া না পাওয়ায় সহকর্মীরা খোঁজ নিতে গিয়ে তাঁকে বাথরুমে পড়ে থাকতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে উদ্ধার করে গোবিন্দ বল্লভ পন্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।

অনুরাগ ধনখড় ছিলেন ১৯৯৪ ব্যাচের ত্রিপুরা ক্যাডারের আইপিএস কর্মকর্তা। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ত্রিপুরা পুলিশ ছাড়াও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই, কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (সিআইএসএফ) এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের কসোভো মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি ত্রিপুরার ডিজিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার আগে তিনি রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান এবং অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা দায়িত্বও সামলেছেন।

সিবিআইয়ে কর্মরত অবস্থায় ধনখড় দেশের অন্যতম আলোচিত তদন্তগুলির নেতৃত্ব দেন। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলায় অভিযুক্ত নীরব মোদী সংক্রান্ত তদন্তে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এছাড়া ১৯৮৪ সালের শিখ-বিরোধী দাঙ্গার পুনর্তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলের (এসআইটি) চেয়ারম্যান হিসেবেও তিনি কাজ করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর দক্ষতা এবং নিরপেক্ষতার জন্য তিনি সহকর্মীদের মধ্যে বিশেষ সম্মান অর্জন করেছিলেন।

এই আকস্মিক মৃত্যু প্রশাসনিক মহলে একাধিক প্রশ্নও তুলে দিয়েছে। একজন কর্মরত রাজ্য পুলিশের সর্বোচ্চ আধিকারিকের দপ্তরের মধ্যেই এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে তদন্তকারী দল। ধনখড়ের ব্যবহৃত সরকারি অস্ত্র, ব্যক্তিগত নথি, দপ্তরের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণও পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এখনও পর্যন্ত কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হওয়ার বিষয়ে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। তাই আত্মহত্যার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা থাকলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ প্রশাসন। তদন্তকারীরা তাঁর সাম্প্রতিক কর্মব্যস্ততা, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এবং অন্যান্য সম্ভাব্য দিকও খতিয়ে দেখছেন।

ধনখড়ের মৃত্যুতে ত্রিপুরা পুলিশ বাহিনীতে গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, তদন্তে দক্ষতা এবং শান্ত স্বভাবের জন্য তিনি সহকর্মীদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন। বিভিন্ন মহল থেকে তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে প্রশাসন জানিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ফরেনসিক পরীক্ষার ফল এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই এই রহস্যময় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সামনে আসবে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles