International

৪১ বছর পর লেবাননে ফিরছে আমেরিকার সরাসরি ফ্লাইট

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • হাইলাইটস: ৪১ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে লেবাননে সরাসরি বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের।
  • ১৯৮৫ সালে TWA ফ্লাইট ৮৪৭ ছিনতাইয়ের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে সরাসরি বিমান চলাচল বন্ধ হয়েছিল।
  • লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প দেশটিকে ‘অনেক সাহায্য’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

হাইলাইটস:

  • ৪১ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে লেবাননে সরাসরি বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের।
  • ১৯৮৫ সালে TWA ফ্লাইট ৮৪৭ ছিনতাইয়ের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে সরাসরি বিমান চলাচল বন্ধ হয়েছিল।
  • লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প দেশটিকে ‘অনেক সাহায্য’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
  • ইজরায়েল-লেবানন উত্তেজনার আবহে ওয়াশিংটনে শুরু হয়েছে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা।

৪১ বছর পর ফের খুলতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আকাশপথ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, এবার থেকে মার্কিন বিমান সংস্থাগুলি আবার সরাসরি লেবাননে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালাতে পারবে।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে বৈঠকের পর এই ঘোষণা করেন ট্রাম্প। বৈঠক শেষে সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, “আমি আমার প্রশাসনকে নির্দেশ দিচ্ছি, যাতে সব মার্কিন বিমান সংস্থা আবার লেবাননে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারে।” তাঁর দাবি, এর ফলে মার্কিন নাগরিকদের জন্য “এই সুন্দর দেশটি” ভ্রমণ করা আরও সহজ হবে।

তবে এই আকাশপথের দরজা বন্ধ হয়েছিল এক ভয়াবহ ঘটনার পর। ১৯৮৫ সালে TWA ফ্লাইট ৮৪৭ ছিনতাইয়ের ঘটনার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল স্থগিত করে। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় পর সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পথে হাঁটছে ওয়াশিংটন।

বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, লেবাননকে “অনেক সাহায্য” করবে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনার কথা জানাননি। তাঁর কথায়, “লেবাননকে দীর্ঘদিন খুব খারাপভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা চাই দেশটি তার প্রাপ্য সম্মান ফিরে পাক।”

চার দিনের সফরে ওয়াশিংটনে যাওয়া প্রেসিডেন্ট আউনের মূল লক্ষ্য ছিল ইজরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘ সংঘর্ষের পর লেবাননে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় মার্কিন সমর্থন নিশ্চিত করা।

দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত এলাকা থেকে ইজরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং লেবাননের সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ইজরায়েল “পুনর্মোতায়েনের প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে”। তবে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

লেবাননের আশা, আউনের এই সফরের ফলে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইজরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পথ আরও পরিষ্কার হবে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক সহায়তায় লেবাননের সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহর প্রভাবাধীন এলাকাগুলিতে আরও কার্যকরভাবে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।

ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইজরায়েলের মধ্যে সম্প্রতি বিরল প্রত্যক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০০৯ সালের পর এই প্রথম কোনও লেবাননের প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসে গেলেন।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে নতুন সামরিক উত্তেজনার আবহে এই বৈঠক তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। শান্তির বার্তা দিয়ে আউন ট্রাম্পকে বলেন, “আপনার লক্ষ্যই শান্তি। এটাই হবে আপনার উত্তরাধিকার।”

আর সেই শান্তির পথে ৪১ বছর পর সরাসরি উড়ান ফেরানোর ঘোষণাই আপাতত ট্রাম্পের অন্যতম বড় প্রতীকী পদক্ষেপ।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles