খবর

বই আনতে ভুল, ক্লাসে দাঁড় করানোর পর অসুস্থ: দিল্লিতে ছাত্রীর মৃত্যু ঘিরে তদন্ত

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • নয়াদিল্লি: বিদ্যালয়ে একটি বই আনতে ভুলে গিয়েছিল সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।
  • অভিযোগ, সেই ‘অপরাধে’ শিক্ষিকা তাকে বকাবকি করেন, মারধর করেন এবং শ্রেণিকক্ষের পিছনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখেন।
  • পরিবারের একাংশের দাবি, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ছাত্রীটিকে রোদেও দাঁড় করানো হয়েছিল।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

নয়াদিল্লি: বিদ্যালয়ে একটি বই আনতে ভুলে গিয়েছিল সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযোগ, সেই ‘অপরাধে’ শিক্ষিকা তাকে বকাবকি করেন, মারধর করেন এবং শ্রেণিকক্ষের পিছনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখেন। পরিবারের একাংশের দাবি, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ছাত্রীটিকে রোদেও দাঁড় করানো হয়েছিল। তার পর থেকেই মানসিক ও শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। প্রায় এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৭ আগস্ট মৃত্যু হয় পূর্ব দিল্লির ওই ছাত্রীর।

ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বিনোদ নগরের একটি সরকারি সর্বোদয় কন্যা বিদ্যালয়ে। মৃতার বয়স নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিভ্রান্তি রয়েছে—কোথাও ১০ বছর, কোথাও ১২ বছর বলা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, সে সপ্তম শ্রেণিরাস্ ছাত্রী ছিল। গত ২২ জুলাই বই না আনার কারণে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের অভিযোগ।

ছাত্রীর মা অঞ্জলীর বক্তব্য, তাঁর মেয়ে আগে থেকেই অসুস্থ ছিল। বিদ্যালয়ে শাস্তি দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তৃপক্ষ পরিবারকে খবর দেয়। বাড়ি ফিরিয়ে আনার পরও সে স্বাভাবিক হতে পারেনি। পরিবারের দাবি, শ্রেণিকক্ষে অপমান ও নির্যাতনের ফলে শিশুটি গভীর মানসিক অবসাদে চলে গিয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে তাকে দিল্লির ইনস্টিটিউট অব হিউম্যান বিহেভিয়ার অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসে ভর্তি করা হয়। প্রায় ২৫ দিন চিকিৎসার পর ২৭ আগস্ট তার মৃত্যু হয়। পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, শিশুটির মৃগীরোগের পুরনো ইতিহাস ছিল। শাস্তির ঘটনা, তার অসুস্থতা এবং মৃত্যুর মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

মৃত্যুর দিনই পরিবারের লোকজন তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন। পরে শিশুটির এক আত্মীয়া কল্যাণপুরী থানায় ফোন করে অভিযোগ জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার মারধর ও মানসিক নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ পরিবারের সদস্য, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং চিকিৎসকদের বক্তব্য সংগ্রহ শুরু করেছে। চিকিৎসার নথিও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখান পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ওঠে। দিল্লির শিক্ষামন্ত্রী আশিস সুদ জানিয়েছেন, তদন্ত যাতে কোনও ভাবে প্রভাবিত না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাকে অবিলম্বে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। শিক্ষা দফতর পৃথক বিভাগীয় তদন্তও শুরু করেছে।

মন্ত্রী বলেন, বদলির সিদ্ধান্ত কোনও চূড়ান্ত দোষ নির্ধারণ নয়; তদন্ত শেষ হওয়ার আগে শিক্ষিকা যাতে বিদ্যালয়ের নথি বা সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে না পারেন, সেই কারণেই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এই মৃত্যু ফের বিদ্যালয়ে শারীরিক ও অপমানজনক শাস্তির প্রশ্নটি সামনে এনেছে। আইনে শিশুদের শারীরিক শাস্তি ও মানসিক নির্যাতন নিষিদ্ধ। ফলে বই আনতে ভুলে যাওয়ার মতো সামান্য কারণে একটি শিশুকে ঠিক কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল—এখন তদন্তের মূল প্রশ্ন সেটিই।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles