International

মানচিত্রেও ‘লেক আমেরিকা’!

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • আমেরিকার ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপল মানচিত্রে অন্টারিয়ো হ্রদ এখন ‘লেক আমেরিকা’।
  • প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথিতে হ্রদটির নাম বদলে দেওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নিল প্রযুক্তি সংস্থাটি।
  • তবে কানাডায় অ্যাপল মানচিত্র খুললে এখনও দেখা যাবে পরিচিত ‘লেক অন্টারিয়ো’।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

এ বার মানচিত্রেও বদলে গেল নাম! আমেরিকার ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপল মানচিত্রে অন্টারিয়ো হ্রদ এখন ‘লেক আমেরিকা’। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথিতে হ্রদটির নাম বদলে দেওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নিল প্রযুক্তি সংস্থাটি। তবে কানাডায় অ্যাপল মানচিত্র খুললে এখনও দেখা যাবে পরিচিত ‘লেক অন্টারিয়ো’। বিশ্বের অন্য প্রান্তের ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে আবার পাশাপাশি দেখা যাবে দু’টি নামই।

অ্যাপল জানিয়েছে, মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে ‘গাল্‌ফ অব আমেরিকা’ করার সময় যে নীতি নেওয়া হয়েছিল, এ ক্ষেত্রেও সেটিই অনুসরণ করা হয়েছে। কোনও ভৌগোলিক স্থানের নাম নিয়ে দুই দেশের সরকারি অবস্থান আলাদা হলে সংশ্লিষ্ট দেশের ব্যবহারকারীদের মানচিত্রে সেই দেশের স্বীকৃত নাম দেখানো হবে। আর অন্য দেশের ব্যবহারকারীদের সামনে রাখা হবে দু’টি নাম।

অ্যাপলের আগে একই পথে হেঁটেছিল গুগ্‌ল মানচিত্রও। আমেরিকার ব্যবহারকারীদের জন্য অন্টারিয়ো হ্রদের নাম সেখানে ইতিমধ্যেই ‘লেক আমেরিকা’। গুগ্‌লের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের ‘জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেম’-এ কোনও ভৌগোলিক নাম বদলালে তাদের মানচিত্রেও সেই পরিবর্তন প্রতিফলিত হয়। ফলে বিশ্বের দুই বড় মানচিত্র পরিষেবাতেই এখন আমেরিকার অভ্যন্তরে হ্রদটির নতুন নাম দেখা যাচ্ছে।

নামবদলের সূত্রপাত গত ২৭ আগস্ট। সে দিন ট্রাম্প একটি নির্বাহী নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যবহারের জন্য অন্টারিয়ো হ্রদের নতুন নাম ঘোষণা করেন। অবশ্য সেই নির্দেশ কানাডার ভৌগোলিক নামকরণ বা আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত নামের উপর কোনও আইনি প্রভাব ফেলে না। হ্রদটির প্রায় ৫২ শতাংশ কানাডার ভূখণ্ডে, আর বাকি অংশ আমেরিকার নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের মধ্যে।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত অবশ্য কানাডা সহজ ভাবে নেয়নি। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সরাসরি এই নামবদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, চার শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে জলাশয়টি ‘লেক অন্টারিয়ো’ নামেই পরিচিত এবং কানাডার কাছে সেই নামই বহাল থাকবে। নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন।

দুই দেশের মধ্যে যখন শুল্ক ও বাণিজ্য নিয়ে টানাপড়েন চলছে, ঠিক তখনই এই নামবদল হওয়ায় বিষয়টি আর নিছক ভৌগোলিক বিতর্কে আটকে নেই। বরং কানাডা-আমেরিকার টানাপড়েনের আরও একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে হ্রদের নাম।

মজার বিষয়, আমেরিকার মাটিতেও নতুন নামটির খুব বেশি সমর্থন নেই। রয়টার্স–ইপসসের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় মাত্র ১৪ শতাংশ উত্তরদাতা ‘লেক আমেরিকা’ নামটিকে সমর্থন করেছেন। বিপরীতে ৬৩ শতাংশ মানুষ এর বিরোধিতা করেছেন। ট্রাম্পের কানাডীয় পণ্যের উপর নতুন শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধেও সংখ্যাগরিষ্ঠ উত্তরদাতা মত দিয়েছেন।

অর্থাৎ হ্রদের জলসীমা যেমন দুই দেশের মধ্যে ভাগ, তার নামও এখন যেন দুই দেশের জন্য দুই রকম। আমেরিকায় ‘লেক আমেরিকা’, কানাডায় ‘লেক অন্টারিয়ো’, আর বাকি বিশ্বে—দু’টোই!

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles