খবর

নয় বছর পরে মধ্যপ্রদেশের শিক্ষাঙ্গনে ফিরছে ছাত্রভোট, পুরনো দ্বৈরথে নতুন প্রজন্ম

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: নয় বছরের বিরতির পরে মধ্যপ্রদেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ফিরতে চলেছে ছাত্র সংসদ নির্বাচন।
  • সেপ্টেম্বরেই ভোট করানোর কথা রাজ্য সরকার মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টকে জানিয়েছে।
  • ফলে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন থাকা শিক্ষাঙ্গনগুলি আবার সরগরম।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: নয় বছরের বিরতির পরে মধ্যপ্রদেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ফিরতে চলেছে ছাত্র সংসদ নির্বাচন। সেপ্টেম্বরেই ভোট করানোর কথা রাজ্য সরকার মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টকে জানিয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন থাকা শিক্ষাঙ্গনগুলি আবার সরগরম। নতুন প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীরা প্রথম বার ভোটের স্বাদ পেলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সেই পুরনো—রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ-ঘনিষ্ঠ অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ এবং কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআইয়ের মধ্যে।

মধ্যপ্রদেশে শেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৭ সালে। তার পর থেকে নির্বাচন বন্ধ থাকলেও পড়ুয়াদের কাছ থেকে ছাত্র সংসদের জন্য নির্ধারিত অর্থ আদায় চলেছে বলে অভিযোগ। নির্বাচন ফেরানোর দাবিতে ২০২৪ সালে জনস্বার্থ মামলা করেন এনএসইউআইয়ের রাজ্য সম্পাদক আদনান আনসারি। সেই মামলার শুনানিতেই রাজ্য সরকার ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের সূচি পেশ করে জানায়, সেপ্টেম্বরের মধ্যে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র সংসদ গঠন করা হবে। সরকারের আশ্বাস নথিবদ্ধ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বিবেক রুসিয়া এবং বিচারপতি প্রদীপ মিত্তলের বেঞ্চ মামলাটির নিষ্পত্তি করে। প্রয়োজনে শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সাহায্য নেওয়ার কথাও বলেছে আদালত।

তবে ভোট প্রত্যক্ষ না পরোক্ষ পদ্ধতিতে হবে, তা নিয়েই প্রথম রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হয়েছে। এনএসইউআই চায়, প্রত্যেক ছাত্রছাত্রী সরাসরি তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচন করুন। সংগঠনটির অভিযোগ, ২০১৭ সালের পরোক্ষ নির্বাচন ছিল নিছক আনুষ্ঠানিকতা; শাসকদলের প্রভাব খাটানোর সুযোগও তাতে বেশি। প্রত্যক্ষ নির্বাচন না হলে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ইন্দর সিং পারমার জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ পরীক্ষা করে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পরেই পদ্ধতি চূড়ান্ত হবে। 

২০১৭ সালের ভোটে অধিকাংশ কলেজ ও পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দাপট দেখিয়েছিল এবিভিপি। শুধু জবলপুরের রানি দুর্গাবতী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি প্রধান পদই জিতেছিল এনএসইউআই। এবার তাই সংগঠনের শক্তিশালী জাল এবং রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতা এবিভিপিকে কিছুটা এগিয়ে রাখলেও নয় বছরের ব্যবধানে ভোটারদের চরিত্র আমূল বদলেছে। বর্তমান পড়ুয়াদের অধিকাংশেরই সংগঠিত ছাত্র রাজনীতির প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নেই। চাকরির অভাব, প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভর্তি ও পরীক্ষার অনিয়ম, বৃত্তি, ছাত্রাবাস, নিরাপত্তা এবং শিক্ষার ব্যয় তাঁদের প্রধান উদ্বেগ।

দ্বিমুখী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে জয় আদিবাসী যুবশক্তি বা ‘জয়স’। ধার, আলিরাজপুর, ঝাবুয়া-সহ আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে সংগঠনটির প্রভাব রয়েছে। বহু আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে তারা। ফলে কিছু শিক্ষাঙ্গনে এবিভিপি-এনএসইউআইয়ের পরিচিত সমীকরণ ত্রিমুখী হয়ে উঠতে পারে।

দিল্লিতে পরীক্ষার্থী আন্দোলন এবং রাঁচি-পটনার ছাত্রবিক্ষোভের আবহে মধ্যপ্রদেশের এই নির্বাচন শুধু ছাত্র সংসদ দখলের লড়াই নয়। নতুন প্রজন্ম সরকার, বিরোধী দল ও সংগঠিত রাজনীতিকে কী চোখে দেখছে, তারও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে এই ভোট।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles