প্রধানমন্ত্রিত্বের পর সাংসদ পদও ছাড়ছেন স্টারমার

যা জানা জরুরি
- প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যেই ব্রিটিশ পার্লামেন্ট থেকেও বিদায়ের সিদ্ধান্ত নিলেন কিয়ের স্টারমার।
- উত্তর লন্ডনের হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস কেন্দ্রের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেবেন তিনি।
- ফলে লেবারের দীর্ঘদিনের নিরাপদ ঘাঁটিতে উপনির্বাচন অনিবার্য।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যেই ব্রিটিশ পার্লামেন্ট থেকেও বিদায়ের সিদ্ধান্ত নিলেন কিয়ের স্টারমার। উত্তর লন্ডনের হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস কেন্দ্রের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেবেন তিনি। ফলে লেবারের দীর্ঘদিনের নিরাপদ ঘাঁটিতে উপনির্বাচন অনিবার্য। নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের নেতৃত্বে লেবার পার্টি জনসমর্থন কতটা ফিরিয়ে আনতে পেরেছে, সেই পরীক্ষায় এই উপনির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
৬৩ বছর বয়সি স্টারমার জানিয়েছেন, গ্রীষ্মকালীন অবকাশের সময়ই তিনি সক্রিয় সংসদীয় রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বিষয়—বিশেষ করে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি—নিয়ে কাজ করতে চান তিনি। নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে হিংসা রুখতেও কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।
স্টারমার জানিয়েছেন, তাঁর উত্তরসূরি অ্যান্ডি বার্নহামের প্রতি পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। নিজের পুরনো কেন্দ্রে উপনির্বাচনে লেবার যাঁকেই প্রার্থী করুক, তাঁকেও সমর্থন করবেন তিনি।
কেন এত দ্রুত সরে দাঁড়াচ্ছেন? স্টারমারের যুক্তি, পূর্বসূরি হিসেবে তাঁর ক্রমাগত উপস্থিতি নতুন প্রধানমন্ত্রীর কাজে অস্বস্তি বা বিঘ্ন তৈরি করতে পারে। বার্নহাম যাতে কোনও ধরনের ছায়া ছাড়াই স্বাধীন ভাবে সরকার চালাতে পারেন, সে কারণেই পুরোপুরি সরে যাওয়াকে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন।
২০১৫ সাল থেকে হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাসের সাংসদ স্টারমার। নিজের কেন্দ্রে সাশ্রয়ী আবাসন, বিদ্যালয়ের উন্নতি এবং তরুণদের অপরাধ ও হিংসা থেকে দূরে রাখার বিভিন্ন প্রকল্পকে তাঁর উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। দীর্ঘদিনের সমর্থনের জন্য স্থানীয় লেবার সদস্য ও ভোটারদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা স্টারমার ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সরকারি কৌঁসুলি দফতরের অধিকর্তা ছিলেন। পরে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে লেবার নেতৃত্বে আসেন এবং ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে দলকে বিপুল জয় এনে দেন।
কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক বিতর্ক, দ্রুত জনসমর্থন হারানো এবং স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে লেবারের খারাপ ফল তাঁর নেতৃত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। দলের ভিতরেও তৈরি হয় অসন্তোষ। শেষ পর্যন্ত জুনে দলনেতা ও প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন স্টারমার। জুলাইয়ে তাঁর জায়গায় প্রধানমন্ত্রী হন বার্নহাম।
এর আগে অবশ্য পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত সাংসদ থাকার কথা জানিয়েছিলেন স্টারমার। ফলে তাঁর সিদ্ধান্ত বদল নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন উঠেছে। উপনির্বাচনের জন্য সরকারি অর্থ খরচ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস ঐতিহাসিক ভাবে লেবারের শক্ত ঘাঁটি। কিন্তু গত নির্বাচনে স্টারমারের জয়ের ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১১,৫০০ ভোটে। ফলে আসনটি আগের মতো ‘নিরাপদ’ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি এই আসনে প্রার্থী হওয়ার কথা বিবেচনা করছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে উল্লেখযোগ্য ভোট পাওয়া অ্যান্ড্রু ফাইনস্টাইনের নামও সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
তাই স্টারমারের বিদায় শুধু একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় রাজনীতি ছাড়ার ঘটনা নয়। বার্নহামের লেবার কতটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে, হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাসের উপনির্বাচনেই তার প্রথম বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



