ত বছরের তুলনায় চলতি বছরে পশ্চিমবঙ্গে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক হয়েছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত বছর এই সময় পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ৭,৬০০ জনের ডেঙ্গি ধরা পড়েছিল। এ বছর সংখ্যাটি চার হাজারের সামান্য বেশি। এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে এক জনের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মঙ্গলবার রাজ্যের ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠক করেন শুভেন্দু। পরে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ কম। ফলে এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে আত্মতুষ্টিরও অবকাশ নেই। সাধারণত অগস্ট ও সেপ্টেম্বরেই ডেঙ্গির প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বৃষ্টি চললে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সংক্রমণের আশঙ্কা থেকে যায়।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের অধিকাংশ জেলায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তুলনামূলক ভাবে বেশি আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায়। ওই দুই জেলার প্রশাসন এবং স্বাস্থ্যকর্তাদের বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত শয্যা, ওষুধ এবং পরীক্ষার ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতরের হাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পরীক্ষার সরঞ্জাম রয়েছে বলেও দাবি করেছেন শুভেন্দু। তাঁর পরামর্শ, সামান্য জ্বর হলেও অবহেলা করা উচিত নয়। জ্বর দু’দিনের বেশি স্থায়ী হলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে সেই পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। ডেঙ্গি ধরা পড়লে রোগীর শারীরিক অবস্থার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনমতো চিকিৎসার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

মশা দমনে যথেচ্ছ ধোঁয়া ছড়ানোর পরিবর্তে নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে ব্যবস্থা নিতে পুরসভা ও পঞ্চায়েতগুলিকে বলা হয়েছে। কোথাও জল জমে রয়েছে কি না, নির্মীয়মাণ বাড়ি, বাজার, পরিত্যক্ত জমি এবং আবর্জনা ফেলার জায়গাগুলিতে নিয়মিত পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গিবাহী এডিস মশা পরিষ্কার জমা জলেই বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, বাতানুকূল যন্ত্রের জলাধার, পরিত্যক্ত পাত্র বা গাড়ির টায়ারে জল জমতে না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে সরকার।

একই সঙ্গে পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ডেঙ্গি-সংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলেছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, অতীতে প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা প্রকাশ না করে পরিস্থিতির গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা হয়েছিল। নতুন সরকার আক্রান্তের সংখ্যা থেকে পরীক্ষার ফল—সব তথ্য স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকাশ করবে।

আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসা স্বস্তির হলেও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গির মরসুম এখনও শেষ হয়নি। তাই সরকারি নজরদারির পাশাপাশি নাগরিকদের সতর্কতাই সংক্রমণ রোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।