Home SportsFIFA 2026 বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে নিউইয়র্কে ধোঁয়ার দাপট, উদ্বেগে ফিফা

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে নিউইয়র্কে ধোঁয়ার দাপট, উদ্বেগে ফিফা

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
14 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় নিউইয়র্ক ও পূর্ব উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে গেছে।
  • বায়ুদূষণের কারণে কয়েক দিন ‘কোড রেড’ জারি, বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ।
  • ফিফার আশা, শনিবারের বৃষ্টিতে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং রবিবারের ফাইনাল নির্বিঘ্নে হবে।
  • আবহাওয়ার পাশাপাশি স্টেডিয়ামে যাতায়াত এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিও ফিফার বড় চিন্তার কারণ।

কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় গত কয়েক দিন ধরে নিউইয়র্ক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রবিবার নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে (সাধারণভাবে মেটলাইফ স্টেডিয়াম নামে পরিচিত) বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ডালাস ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো শহর, যেগুলি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফিফা ফাইনাল আয়োজনের দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছিল, এখন কিছুটা বিদ্রূপের হাসিই হাসছে। তাদের মতে, ওই দুই শহরের স্টেডিয়াম যেমন আধুনিক, তেমনই নিউইয়র্কের মতো চরম আবহাওয়ার ঝুঁকিও নেই। তবে বৈশ্বিক পরিচিতি এবং ইউরোপীয় টেলিভিশন সম্প্রচারের সুবিধাজনক সময় বিবেচনা করেই ফিফা নিউইয়র্ককে বেছে নিয়েছিল।

প্রথম থেকেই আশঙ্কা ছিল, গ্রীষ্মের তীব্র গরম খেলোয়াড়দের জন্য বড় সমস্যা হতে পারে। গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপে চেলসির মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ নিউইয়র্কের গরমকে “অত্যন্ত বিপজ্জনক” বলে মন্তব্য করেছিলেন। এবার সেই সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দাবানলের ধোঁয়ায় বায়ুদূষণ।

কানাডার বনাঞ্চলে দাবানলের জেরে ধোঁয়া দক্ষিণে নেমে এসে নিউইয়র্ক-সহ পূর্ব উপকূলের বহু শহর ঢেকে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বায়ুর মান “অস্বাস্থ্যকর” থেকে আরও খারাপ হয়ে “অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর” পর্যায়ে পৌঁছায়।

নিউইয়র্ক সিটির জরুরি ব্যবস্থাপনা দফতর মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গোটা শহরে ‘কোড রেড’ জারি করে। বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনো এবং কোনও ধরনের কঠোর শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। অথচ ঠিক এই শহরেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ফাইনাল, যা প্রায় ১৬০ কোটি দর্শক টেলিভিশনে দেখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ম্যানহাটনের আকাশে ধোঁয়ার আস্তরণ এতটাই ঘন ছিল যে হাডসন নদীর ওপারে থাকা স্ট্যাচু অব লিবার্টিও কিছু সময়ের জন্য চোখে পড়েনি। খারাপ আবহাওয়ার কারণে নিউ জার্সির নিউয়ার্ক বিমানবন্দর থেকে বহু উড়ানও বাতিল করতে হয়েছে।

তবে শুক্রবার থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ফিফা কর্তারা আশাবাদী, শনিবারের সম্ভাব্য বৃষ্টি ধোঁয়ার বড় অংশ সরিয়ে দেবে এবং রবিবারের ফাইনাল স্বাভাবিক পরিবেশেই আয়োজন করা যাবে।

এরই মধ্যে বায়ুদূষণের প্রভাব পড়েছে খেলাধুলাতেও। বুধবার ন্যাশনাল উইমেন্স সকার লিগের (এনডব্লিউএসএল) একটি ম্যাচ কমলা-বাদামি ধোঁয়ার আবরণে অনুষ্ঠিত হয়। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি অর্ধে অতিরিক্ত দু’টি করে বিরতি দিতে হয়। বিশ্বকাপেও যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা হলে ইতিমধ্যেই বিতর্কিত জলপান বিরতির সঙ্গে আরও অতিরিক্ত বিরতি যোগ হওয়ায় নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে।

সব প্রতিকূলতার মধ্যেও নিউইয়র্ক বিশ্বকাপকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছে। গত মাসে নিউইয়র্ক নিকসের ঐতিহাসিক এনবিএ শিরোপা জয়ের উন্মাদনা প্রথমদিকে বিশ্বকাপকে আড়াল করলেও, টুর্নামেন্ট যত এগিয়েছে শহরজুড়ে ফুটবল জ্বর ততই বেড়েছে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আগের সাতটি ম্যাচই ছিল সম্পূর্ণ দর্শকপূর্ণ। ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল দেখার জন্য শহরের রেস্তোরাঁ ও বারে আসন পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল।

তবে আবহাওয়ার বাইরে আরেকটি বড় সমস্যা স্টেডিয়ামে পৌঁছনো। সীমিত গণপরিবহণ এবং ম্যানহাটন থেকে নিউ জার্সিতে যাওয়ার পথে লিঙ্কন টানেলের যানজটের জন্য এই স্টেডিয়ামের দুর্নাম আগে থেকেই রয়েছে। ফাইনালের দিন সাধারণ দর্শকদের জন্য পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে না। ট্রেন ও বাসের ভাড়াও বিশ্বকাপ উপলক্ষে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। যদিও নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সি সরকারের ভর্তুকির ফলে ট্রেনের যাতায়াতের ভাড়া ১৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৯৮ ডলার করা হয়েছে, তবুও মাত্র ২০ মিনিটের যাত্রার জন্য তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বিকল্প হিসেবে ম্যানহাটন থেকে ২০ ডলারে শাটল বাস চালানো হবে।

ফিফার আরেকটি বড় দুশ্চিন্তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতি। তিনি মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারে করে স্টেডিয়ামে পৌঁছবেন বলে জানা গেছে। গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালে চেলসির ট্রফি উদ্‌যাপনের সময় ট্রাম্পের আচরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ফিফা আগেভাগেই জানিয়ে দিয়েছে, ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যৌথভাবে বিশ্বকাপের ট্রফি বিজয়ী অধিনায়কের হাতে তুলে দেবেন।

শুক্রবার ট্রাম্প টাওয়ারে ট্রাম্পের সঙ্গে ফিফা প্রতিনিধিদের বৈঠকও হয়েছে। সেই বৈঠকের জন্য ফিফথ অ্যাভিনিউয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্ধ করে দিতে হওয়ায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। ফিফার আশা, বিশ্বকাপ ফাইনালের দিন আর কোনও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles