হাইলাইটস:

  • বাজারমূল্যে এনভিডিয়াকে ছাপিয়ে বিশ্বের শীর্ষ তালিকাভুক্ত সংস্থা অ্যাপল।
  • অ্যাপলের বাজারমূল্য ৪.৮৮ ট্রিলিয়ন ডলার, এনভিডিয়ার ৪.৮৬ ট্রিলিয়ন ডলার।
  • এআই অবকাঠামোর বদলে এআই-ভিত্তিক পণ্য ও পরিষেবায় আয়ের সম্ভাবনায় বেশি আস্থা বিনিয়োগকারীদের।
  • এনভিডিয়ার শেয়ার ৩.৫ শতাংশ পড়তেই শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করে অ্যাপল।

বাংলাস্ফিয়ার: বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান তালিকাভুক্ত সংস্থার আসনে ফের বসল অ্যাপল। শুক্রবার শেয়ারবাজারে এনভিডিয়ার শেয়ারের দর ৩.৫ শতাংশ কমে যাওয়ার পর বাজারমূল্যের নিরিখে তাকে ছাপিয়ে যায় আইফোন নির্মাতা সংস্থাটি। এর ফলে প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার লেনদেন শেষে অ্যাপলের মোট বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৪.৮৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে এনভিডিয়ার বাজারমূল্য নেমে আসে প্রায় ৪.৮৬ ট্রিলিয়ন ডলারে। গত কয়েক বছরে এআই-চিপ নির্মাতা হিসেবে অভাবনীয় উত্থানের সুবাদে এনভিডিয়া একাধিকবার বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান সংস্থার মর্যাদা অর্জন করেছিল। তবে এবার সেই অবস্থান ফিরে পেল অ্যাপল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন কেবল দুই সংস্থার বাজারমূল্যের অদলবদল নয়, বরং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের প্রবণতারও পরিবর্তনের প্রতিফলন। এতদিন বিনিয়োগকারীদের বড় অংশের নজর ছিল এআই-এর জন্য প্রয়োজনীয় চিপ, ডেটা সেন্টার ও অবকাঠামো নির্মাণকারী সংস্থাগুলির দিকে। এখন ক্রমশ গুরুত্ব পাচ্ছে সেই সব প্রতিষ্ঠান, যারা এআই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে সাধারণ গ্রাহকের জন্য নতুন পণ্য ও পরিষেবা তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদে আয় বাড়াতে সক্ষম হবে।

অ্যাপল ইতিমধ্যেই তাদের বিভিন্ন ডিভাইস ও সফটওয়্যারে এআই-ভিত্তিক সুবিধা যুক্ত করার কৌশল নিয়েছে। সংস্থার লক্ষ্য, আইফোন, ম্যাক, আইপ্যাড এবং অন্যান্য পরিষেবার মাধ্যমে কোটি কোটি ব্যবহারকারীর কাছে এআই-নির্ভর অভিজ্ঞতা পৌঁছে দেওয়া। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল ব্যবহারকারীভিত্তি অ্যাপলের দীর্ঘমেয়াদি আয় বৃদ্ধির অন্যতম বড় শক্তি হতে পারে।

অন্যদিকে, এনভিডিয়া এখনও এআই অবকাঠামো নির্মাণে বিশ্বনেতা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারের দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির পর কিছু বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নেওয়ার পথে হাঁটছেন। সেই কারণেও সংস্থার শেয়ারে চাপ তৈরি হয়েছে বলে বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই বিপ্লব এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে শুধু প্রযুক্তি সরবরাহকারী নয়, সেই প্রযুক্তিকে সফলভাবে বাণিজ্যিক পণ্য ও পরিষেবায় রূপান্তর করতে পারা সংস্থাগুলিই বেশি লাভবান হতে পারে। অ্যাপলের শীর্ষস্থানে প্রত্যাবর্তন সেই পরিবর্তিত বাজার-মনোভাবেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত।