হাইলাইটস:
- জঙ্গি অর্থায়ন, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে চার রাজ্যে একযোগে ইডির তল্লাশি।
- তদন্তকারীদের দাবি, একটি মাদ্রাসা থেকে নগদ ₹৪০ লক্ষ উদ্ধার হয়েছে।
- পশ্চিমবঙ্গ-সহ চার রাজ্যের মোট ১৬টি স্থানে অভিযান চালানো হয়।
- একাধিক নথি, ডিজিটাল তথ্য ও আর্থিক লেনদেনের নথি বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত এগোচ্ছে।
বাংলাস্ফিয়ার: জঙ্গি অর্থায়ন, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে দেশজুড়ে বড়সড় অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, চারটি রাজ্যের ১৬টি স্থানে একযোগে তল্লাশি চালিয়ে একটি মাদ্রাসা থেকে নগদ ৪০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ নথি, ডিজিটাল ডিভাইস এবং আর্থিক লেনদেন-সংক্রান্ত তথ্যও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
ইডির তরফে জানানো হয়েছে, একটি চলমান অর্থ পাচার তদন্তের সূত্র ধরেই এই অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের আড়ালে জঙ্গি সংগঠনের জন্য অর্থ জোগাড়, অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তা এবং সেই অর্থের উৎস গোপন করার চেষ্টা চলছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই একযোগে তল্লাশি চালানো হয়।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অভিযানের সময় একটি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে নগদ ৪০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়। ওই অর্থের উৎস, ব্যবহার এবং হিসাব সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইডির মতে, উদ্ধার হওয়া অর্থের বৈধ উৎস সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে নগদ অর্থের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও জব্দ করা হয়েছে।
ইডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই তদন্তের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের একটি সম্ভাব্য নেটওয়ার্কের যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশকারী কিছু ব্যক্তিকে আশ্রয়, পরিচয়পত্র সংগ্রহ এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় ছিল। সেই চক্রের অর্থের উৎস অনুসন্ধান করতেই এই অভিযান।
তল্লাশির সময় একাধিক মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, হার্ড ডিস্ক, ব্যাংক সংক্রান্ত নথি, হিসাবের খাতা এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করেছে ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, এই তথ্য বিশ্লেষণ করে অর্থের গতিপথ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক যোগাযোগের দিকটিও পরীক্ষা করা হবে।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে। বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের অর্থ জমা ও উত্তোলনের ধরণ, নগদ লেনদেন এবং মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে।
যদিও যেসব প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি হয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত নয়। ফলে ইডির দাবি ও অভিযোগকে তদন্তের পর্যায়ের তথ্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে অনুপ্রবেশ, জাল নথি তৈরি এবং সন্দেহজনক অর্থ লেনদেনের অভিযোগে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি নজরদারি বাড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থ পাচার রোধে এই ধরনের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশ অতীতেও অভিযোগ করেছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। সরকার অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ইডি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ, বাজেয়াপ্ত নথি এবং ডিজিটাল তথ্যের ফরেনসিক বিশ্লেষণের পর তদন্ত আরও বিস্তৃত হতে পারে। প্রয়োজনে নতুন করে তল্লাশি, সম্পত্তি সংযুক্তিকরণ কিংবা গ্রেফতারের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
এই অভিযানের পর সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা—এই চারটি বিষয় আবারও জাতীয় স্তরে আলোচনায় উঠে এসেছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপে ইডি কী তথ্য সামনে আনে, তার দিকেই এখন নজর।