হাইলাইটস:
- জুলাই মাসে দেশজুড়ে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি)।
- মাসিক বৃষ্টিপাত দীর্ঘমেয়াদি গড়ের ৯৪ শতাংশেরও নিচে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা।
- দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন—দুই ধরনের তাপমাত্রাই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা।
- তবে জুলাইয়ের প্রথম ৭-১০ দিনে বর্ষা সক্রিয় হওয়ায় উত্তর-পশ্চিম, মধ্য ও পূর্ব ভারতের কয়েকটি অংশে ভালো বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা জুনের ঘাটতি কিছুটা কমাতে পারে।
জুলাই মাসে বর্ষার প্রধান পর্যায় শুরু হলেও এবারের চিত্র খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) জানিয়েছে, গোটা দেশে জুলাই মাসে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অধিকাংশ অংশে তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে কৃষি, জলসম্পদ এবং বিদ্যুতের চাহিদা—তিন ক্ষেত্রেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইএমডির মাসিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুলাই মাসে দেশের সামগ্রিক বৃষ্টিপাত দীর্ঘমেয়াদি গড়ের (লং পিরিয়ড অ্যাভারেজ) ৯৪ শতাংশেরও নিচে থাকতে পারে। সাধারণত জুলাই মাসই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই মাসেই মৌসুমের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় এবং খরিফ শস্যের অধিকাংশ বপন সম্পন্ন হয়। তাই জুলাইয়ে বৃষ্টির ঘাটতি কৃষিক্ষেত্রে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
আবহাওয়া দফতরের মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, জুন মাসে দেশের বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম ছিল, যা ১৯০১ সালের পর অন্যতম শুষ্ক জুন হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। যদিও আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে বর্ষা আরও বিস্তৃত হওয়ায় কয়েকটি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং তাতে সামগ্রিক ঘাটতি কিছুটা কমতে পারে। তবে গোটা জুলাইয়ের হিসাব এখনও স্বাভাবিকের নিচেই থাকার সম্ভাবনা বেশি। তাপমাত্রার ক্ষেত্রেও সুখবর নেই। আইএমডির পূর্বাভাস বলছে, উত্তর, মধ্য, পূর্ব এবং উপদ্বীপীয় ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে। অনেক জায়গায় রাতের তাপমাত্রাও গড়ের উপরে থাকতে পারে। অর্থাৎ বৃষ্টি কম হওয়ার পাশাপাশি অস্বস্তিকর গরমও অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে সব অঞ্চলের চিত্র একরকম নয়। উত্তর-পশ্চিম ভারতের কিছু অংশ, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পূর্ব-মধ্য ভারত এবং পূর্ব উপদ্বীপের কয়েকটি এলাকায় স্বাভাবিক বা তার চেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে স্থানীয়ভাবে ভারী বৃষ্টির ঘটনা ঘটলেও সার্বিকভাবে দেশের বৃষ্টির ঘাটতি পূরণ হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি মৌসুমে ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো পরিস্থিতি বর্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থাও জানিয়েছে, জুন-আগস্ট সময়কালে এল নিনোর সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি, যা সাধারণত ভারতীয় মৌসুমি বৃষ্টিকে দুর্বল করে দেয়।
বর্ষার এই অনিশ্চয়তা কৃষিক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। ধান, ভুট্টা, সয়াবিন, তুলোসহ বিভিন্ন খরিফ ফসলের বপনের জন্য জুলাই মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে বপন বিলম্বিত হতে পারে, সেচের ওপর নির্ভরতা বাড়বে এবং উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে। এর প্রভাব পরে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যস্ফীতিতেও পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, গরম আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে এবং জলাধারগুলিতে জল সঞ্চয়ের গতিও কমে যেতে পারে। ফলে কৃষি থেকে শুরু করে নগর জল সরবরাহ—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বর্ষা কিছুটা সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর-পশ্চিম ভারত, গাঙ্গেয় সমভূমি, হিমালয় সংলগ্ন এলাকা এবং দেশের কয়েকটি অংশে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ফলে জুনের বৃষ্টির ঘাটতির একটি অংশ পূরণ হওয়ার আশা থাকলেও গোটা মাসের সামগ্রিক চিত্র এখনও উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।