হাইলাইটস:

  • বিধাননগর আদালতে গিয়ে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে দেওয়া বিতর্কিত ‘ভয় দেখানো’ বক্তব্যের তদন্তে এই নমুনা সংগ্রহ করা হল।
  • কলকাতা হাইকোর্ট নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নমুনা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল; তা মেনেই আদালতে হাজির হন তিনি।
  • প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে রেকর্ডিংয়ের কাজ চলে।
  • তদন্তকারীরা এখন বক্তৃতার অডিয়োর সঙ্গে ফরেনসিক পরীক্ষায় এই নমুনা মিলিয়ে দেখবেন।

বাংলাস্ফিয়ার: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার বিধাননগর আদালতে গিয়ে নিজের কণ্ঠস্বরের নমুনা জমা দিলেন। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারপর্বে দেওয়া তাঁর একটি বক্তৃতাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া ‘ভয় দেখানো’ বা ইনটিমিডেটরি স্পিচ মামলার তদন্তে এই নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই তিনি আদালতে উপস্থিত হন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাইকোর্ট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ জুলাই দুপুর ১২টার মধ্যে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনে তিনি সময়ের আগেই বিধাননগর আদালতে পৌঁছন। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে তাঁর কণ্ঠস্বর রেকর্ড করা হয়।

এই মামলায় তদন্তকারীদের দাবি, নির্বাচনী প্রচারের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন, যা ভোটারদের বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই এবং বক্তৃতার অডিয়োতে থাকা কণ্ঠস্বরের সঙ্গে তাঁর কণ্ঠস্বরের মিল রয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করতেই ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ভয়েস স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে।

তদন্তে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। আদালতে দেওয়া নমুনা সরকারি ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। সেখানে বক্তৃতার অডিয়ো রেকর্ডিংয়ের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তুলনা করে রিপোর্ট তৈরি করা হবে। সেই রিপোর্টই তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

উল্লেখ্য, এর আগে নিম্ন আদালত দু’বার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার জন্য ডেকেছিল। কিন্তু তিনি ওই দুই তারিখে হাজির হননি। এরপর বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টে ওঠে। হাইকোর্ট তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হলে তাঁকে দেওয়া আইনি সুরক্ষা প্রত্যাহারের বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে। এরপরই নির্ধারিত সময়ে আদালতে গিয়ে তিনি নমুনা দেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে দলের নেতাদের বক্তব্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের নির্দেশকে সম্মান জানিয়েই তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, তদন্ত নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হওয়া উচিত এবং মামলার সমস্ত তথ্য আদালতের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করা মানেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে গেল—এমন নয়। এটি তদন্তের একটি স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া মাত্র। ফরেনসিক রিপোর্ট, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং অন্যান্য তথ্য একত্রে বিচার করেই তদন্তকারী সংস্থা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। আদালতেও সেই সব প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলার অগ্রগতি নির্ধারিত হবে।

এই মামলার অগ্রগতি এখন অনেকটাই নির্ভর করবে ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলের উপর। যদি বক্তৃতার অডিয়ো এবং আদালতে দেওয়া কণ্ঠস্বরের নমুনার মধ্যে মিল পাওয়া যায়, তবে তদন্তে নতুন গতি আসতে পারে। আর মিল না পাওয়া গেলে তদন্তের দিকও বদলে যেতে পারে। ফলে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এই মামলায় ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে সব পক্ষই।