হাইলাইটস:

  • বদলি হিসেবে নেমে মাত্র ১ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের মধ্যেই জয়সূচক গোল করলেন মিকেল মেরিনো।
  • টানা তৃতীয় নকআউট ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গোল করে স্পেনকে উদ্ধার করলেন এই মিডফিল্ডার।
  • ২-১ গোলে বেলজিয়ামকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল স্পেন।
  • ফাবিয়ান রুইস স্পেনকে এগিয়ে দিলেও চার্লস ডি কেটেলারে সমতা ফেরান।
  • চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন বেলজিয়ামের অধিনায়ক গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়া।
  • কুর্তোয়ার বদলি সেনে ল্যামেন্সের ভুল থেকেই আসে স্পেনের জয়সূচক গোল।
  • ৬৯ শতাংশ বল দখল ও ১৭টি গোলের প্রচেষ্টায় ম্যাচে আধিপত্য ছিল স্পেনের।

বাংলাস্ফিয়ার: মিকেল মেরিনো যেন শেষ মুহূর্তের নায়ক হওয়ার জন্যই জন্মেছেন। ইউরো সেমিফাইনাল, বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালের পর এবার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করলেন একই নাটকীয় ভঙ্গিতে। বদলি হিসেবে নেমে আবারও শেষ দিকে গোল করে স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দিলেন তিনি। বেলজিয়ামকে বিদায় করে বিশ্বকাপের শেষ চারে পৌঁছে গেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

এই গোলের বিশেষ তাৎপর্য ছিল মেরিনোর ব্যক্তিগত জীবনেও। দুই মাসের ছেলে মার্কো এবার প্রথমবার স্টেডিয়ামে বাবার খেলা দেখতে এসেছিল। ম্যাচ শেষে মেরিনো বলেন, “কোয়ার্টার ফাইনালে ও ছিল না। তাই সেমিফাইনালে ওর সামনে আবার গোল করতে পেরে দারুণ লাগছে।”

ম্যাচের ৮৫ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে মাঠে নামেন মেরিনো। তখন স্কোর ১-১। ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর দিকেই এগোচ্ছিল। কিন্তু মাত্র ১ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড পরই সব বদলে যায়। পাও কুবার্সির শট বেলজিয়ামের বদলি গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্স ঠেকাতে গিয়ে বল ফেলে দেন। সুযোগ বুঝে ঝাঁপিয়ে পড়ে জোরালো শটে জাল কাঁপান মেরিনো।

এটাই ছিল ম্যাচে তাঁর প্রথম স্পর্শ। আর সেটাই জয়সূচক গোল। এর আগে জার্মানির বিরুদ্ধে ১১৯ মিনিটে এবং পর্তুগালের বিরুদ্ধে ৯১ মিনিটে শেষ মুহূর্তের গোল করেছিলেন তিনি। এবার সেই তালিকায় যোগ হল বেলজিয়াম ম্যাচও।

মেরিনোর গোল উদ্‌যাপনও ছিল আবেগঘন। বাবার স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে তিনি আবারও কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে ছুটে যান। বেঞ্চে বসে অসহায়ভাবে সেই দৃশ্য দেখেন চোট পেয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়া থিবো কুর্তোয়া।

ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল স্পেনের দাপট। লুইস দে লা ফুয়েন্তে বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে পেদ্রির বদলে প্রথম একাদশে সুযোগ দেন ফাবিয়ান রুইসকে। সেই সিদ্ধান্তই সঠিক প্রমাণিত হয়।

১০ মিনিটেই রদ্রিকে সুযোগ তৈরি করে দেন রুইস। ৩০ মিনিটে লামিনে ইয়ামালের নিখুঁত পাস থেকে পেদ্রো পোরো বল বাড়ান দানি ওলমোর কাছে। ওলমোর শট কুর্তোয়া ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে গোল করেন রুইস। গোল উদ্‌যাপনে জার্সির ভেতরে বল ঢুকিয়ে সন্তানসম্ভবা পরিবারের প্রতি ইঙ্গিত দেন তিনি।

স্পেন তখন পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করছিল। কুবার্সির দুর্দান্ত পাস, ইয়ামালের গতি ও ওয়ারজাবালের আক্রমণে একের পর এক সুযোগ তৈরি হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল সহজ জয়ই অপেক্ষা করছে।

কিন্তু ৪০ মিনিটে হঠাৎই সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। জেরেমি ডোকুর দ্রুত আক্রমণ থেকে কেভিন ডি ব্রুইনের নিখুঁত প্রথম স্পর্শের পাস পৌঁছে যায় টিমোথি কাস্তানিয়ের কাছে। তাঁর ক্রসে পাও কুবার্সিকে হারিয়ে হেডে গোল করেন চার্লস ডি কেটেলারে। বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচ পর প্রথমবার গোল হজম করে স্পেন।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ চালিয়ে যায় স্পেন। ইয়ামালের একাধিক প্রচেষ্টা, ওয়ারজাবালের সুযোগ—সবই আটকে দেন কুর্তোয়া। তবে বেলজিয়ামও পাল্টা আক্রমণে বিপজ্জনক ছিল। ডোকু ও ডি ব্রুইনের যুগলবন্দিতে ম্যাক্সিম ডি কুইপারের শট অল্পের জন্য বাইরে যায়।

এরপরই আসে ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। চোট পেয়ে চোখের জল নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন কুর্তোয়া। তাঁর পরিবর্তে নামেন সেনে ল্যামেন্স। পরে ডি ব্রুইনকেও তুলে নিতে হয়।

বেলজিয়াম শেষ পর্যন্ত রক্ষণ সামলানোর চেষ্টা করলেও ক্লান্তি স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। আর সেই সুযোগই কাজে লাগান মেরিনো।

পরিসংখ্যানেও স্পেনের শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্ট। বলের দখল ছিল ৬৯ শতাংশ। গোলের উদ্দেশে ১৭টি শট নেয় স্পেন, যার আটটি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে বেলজিয়ামের লক্ষ্যে ছিল মাত্র দুটি শট। কর্নারেও ৫-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল স্প্যানিশরা।

শেষ পর্যন্ত আর কোনো চমক ঘটতে দেয়নি স্পেন। মিকেল মেরিনোর আরেকটি শেষ মুহূর্তের গোলেই ২-১ জয় নিশ্চিত করে তারা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়।