Home SportsFIFA World Cup 2026 বিশ্বকাপের মঞ্চে ওঠার আগেই থেমে গেল স্বপ্ন

বিশ্বকাপের মঞ্চে ওঠার আগেই থেমে গেল স্বপ্ন

by বাংলাস্ফিয়ার
0 comments 1 views 3 minutes read
A+A-
Reset

মার্কিন প্রবেশাধিকার না পেয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন সোমালিয়ার রেফারি ওমর আর্তান

হাইলাইটস

  • ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল সোমালিয়ার রেফারি ওমর আর্তানের।
  • মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় তিনি বিশ্বকাপে কাজ করতে পারবেন না।
  • বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম সোমালি রেফারি হওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া হল।
  • ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, আর্তান প্রশিক্ষণ ও ম্যাচ পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন না।
  • আফ্রিকান ফুটবল মহলে এই ঘটনায় তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ফুটবল বিশ্বকাপ কেবল খেলোয়াড়দের জন্য নয়, রেফারিদের কাছেও জীবনের সর্বোচ্চ মঞ্চ। বহু বছরের পরিশ্রম, প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি হিসেবে আসে বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের সুযোগ। কিন্তু সেই স্বপ্ন কখনও কখনও মাঠে পৌঁছানোর আগেই থেমে যায়। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ঠিক এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনার মুখোমুখি হলেন সোমালিয়ার শীর্ষ রেফারি Omar Artan।

তিনি হতে পারতেন বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করা প্রথম সোমালি। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত আর বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে ওমর আর্তান “২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং ম্যাচ পরিচালনার কাজে অংশ নিতে পারবেন না।” কারণ তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি। বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলির অন্যতম যুক্তরাষ্ট্র হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত কার্যত তাঁর বিশ্বকাপ-অভিযানের সমাপ্তি ঘটিয়েছে।

আর্তানের গল্প আফ্রিকান ফুটবলে এক অনুপ্রেরণার নাম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আফ্রিকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব এবং মহাদেশীয় টুর্নামেন্টে দায়িত্ব পালন করেছেন। সোমালিয়ার মতো রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দীর্ঘ সংঘাতের ইতিহাস বহনকারী একটি দেশ থেকে উঠে এসে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছনো নিজেই ছিল এক অসাধারণ সাফল্য।

ফুটবল প্রশাসক এবং রেফারিং মহলের অনেকেই মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত শুধু একজন ব্যক্তির ক্ষতি নয়; এটি আফ্রিকান ফুটবলের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও একটি বড় ধাক্কা। কারণ আর্তানের উপস্থিতি বিশ্বকাপের মঞ্চে সোমালিয়ার জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন হতে পারত।

ঘটনার পর আফ্রিকার বিভিন্ন ফুটবল সংগঠন ও কর্মকর্তারা তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অনেকের মতে, “তিনি পুরো ফুটবল সম্প্রদায়ের সমর্থন পাওয়ার যোগ্য।” কারণ কোনও পেশাগত ব্যর্থতার কারণে নয়, প্রশাসনিক ও ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই তাঁর বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভেঙে গেল।

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ এমনিতেই নানা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্কের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন দেশ, কর্মকর্তা এবং প্রতিনিধিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ওমর আর্তানের ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে—বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরে অংশগ্রহণের অধিকার কি কেবল ক্রীড়াগত যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া উচিত, নাকি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অভিবাসন নীতিও সেখানে বড় ভূমিকা নেবে?

ফুটবলের ইতিহাসে অসংখ্য স্বপ্নপূরণের গল্প রয়েছে। কিন্তু ওমর আর্তানের কাহিনি আপাতত স্বপ্নভঙ্গের এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবেই থেকে যাচ্ছে। বিশ্বকাপের মাঠে তাঁর বাঁশির শব্দ আর শোনা যাবে না। তবে সোমালিয়া থেকে উঠে এসে বিশ্ব ফুটবলের দরজায় পৌঁছে যাওয়ার যে নজির তিনি গড়েছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রেফারিদের জন্য পথ দেখিয়ে যাবে।

বিশ্বকাপের আলো ঝলমলে মঞ্চে তাঁর নাম হয়তো আর ঘোষিত হবে না। কিন্তু আফ্রিকার ফুটবল ইতিহাসে ওমর আর্তান সেই মানুষ হিসেবেই স্মরণীয় থাকবেন, যিনি প্রায় অসম্ভব এক যাত্রাপথ পেরিয়ে বিশ্বকাপের দোরগোড়ায় পৌঁছেছিলেন—আর ঠিক সেখানেই থেমে যেতে বাধ্য হলেন।

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles