Home খবরদেশ রামমন্দির অনুদান-কাণ্ডে সিট-এর প্রাথমিক রিপোর্ট: ‘চুরি’ নয়, নজরদারির গাফিলতিকেই দায়ী করার ইঙ্গিত

রামমন্দির অনুদান-কাণ্ডে সিট-এর প্রাথমিক রিপোর্ট: ‘চুরি’ নয়, নজরদারির গাফিলতিকেই দায়ী করার ইঙ্গিত

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
20 views 4 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের অনুদান ও মূল্যবান সামগ্রীর অনিয়ম নিয়ে তদন্তকারী SIT উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে।
  • রিপোর্টে সরাসরি বড়সড় তছরুপের সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়নি, তবে একাধিক স্তরে গাফিলতি, দুর্বল নজরদারি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার উল্লেখ রয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
  • অনুদান গণনা, ব্যাংকে জমা, সিসিটিভি সংরক্ষণ এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হয়েছে।
  • SIT প্রাথমিকভাবে এফআইআর দায়েরের সুপারিশ করেছে বলেও জানা গিয়েছে।
  • চূড়ান্ত রিপোর্ট আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে জমা পড়তে পারে।

অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান নিয়ে বিতর্কের জেরে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) তাদের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট উত্তরপ্রদেশ সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে। যদিও রিপোর্টটি এখনও প্রকাশ করা হয়নি, বিভিন্ন সূত্রের দাবি, তদন্তে এখন পর্যন্ত সরাসরি বৃহৎ অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অকাট্য প্রমাণের বদলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের গাফিলতি, তদারকির অভাব এবং অনুদান ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাই বেশি করে উঠে এসেছে।  মঙ্গলবার লখনউ বিভাগের কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্ত অতিরিক্ত মুখ্যসচিব (গৃহ) সঞ্জয় প্রসাদের হাতে রিপোর্ট জমা দেন। পন্ত জানিয়েছেন, এটি কেবল প্রাথমিক রিপোর্ট। তদন্ত এখনও চলছে এবং আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।

কী অভিযোগ উঠেছিল?

বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন মন্দিরের অনুদান ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ ছিল, ভক্তদের দেওয়া নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রীর হিসাবের সঙ্গে বাস্তবের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বিরোধী দলগুলিও দাবি করে, কোটি কোটি টাকার অনুদানের কিছু অংশের হিসাব স্পষ্ট নয়। পরে বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয় এবং স্বচ্ছতার দাবিতে তদন্তের আওয়াজ জোরালো হয়।   এই পরিস্থিতিতে উত্তরপ্রদেশ সরকার ১৩ জুন তিন সদস্যের SIT গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী Yogi Adityanath-এর নির্দেশেই তদন্ত শুরু হয়।

প্রাথমিক রিপোর্টে কী রয়েছে?

সূত্রের খবর, SIT-এর রিপোর্টে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। প্রথমত, অনুদানের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গ্রহণ, সংরক্ষণ, গণনা এবং ব্যাংকে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় একাধিক দুর্বলতা ছিল। দ্বিতীয়ত, দায়িত্ব বণ্টন স্পষ্ট ছিল না এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাব ছিল। তৃতীয়ত, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও ঘাটতি ধরা পড়েছে।

তদন্তকারীরা অনুদান গণনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, ব্যাংকে অর্থ জমা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা কর্মী এবং সিসিটিভি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখেছেন। রিপোর্টে তাঁদের কয়েকজনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।  একটি সূত্রের বক্তব্য, “এই মুহূর্তে তদন্তে সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি সামনে এসেছে, তা হল অবহেলা ও নজরদারির ব্যর্থতা। ব্যবস্থাপনার ফাঁকফোকর থাকায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।”

এফআইআর-এর সুপারিশ

প্রাথমিক রিপোর্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে এফআইআর দায়েরের সুপারিশ। সূত্রের দাবি, SIT মনে করছে যে আইনগত তদন্ত ছাড়া প্রকৃত দায় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে না। তাই ফৌজদারি মামলা রুজু করে সংশ্লিষ্টদের আয়, সম্পত্তি, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।  এছাড়া সম্ভাব্য তছরুপ বা চুরির সঙ্গে কারা যুক্ত থাকতে পারে, তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার কথাও রিপোর্টে বলা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই সরানো হয়েছে কয়েকজনকে

তদন্ত চলাকালীন SIT অনুদান গণনা ও ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন কর্মীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর উদ্দেশ্য তদন্তকে প্রভাবমুক্ত রাখা এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি রোধ করা।  তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই একাধিক কর্মী, ট্রাস্ট-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। নগদ অর্থ গণনার পদ্ধতি, ব্যাংকে জমার রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হয়েছে।

রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে

বিষয়টি শুরু থেকেই রাজনৈতিক রং পেয়েছে। Akhilesh Yadav অভিযোগ করেছিলেন যে রামমন্দিরের অনুদানের অর্থের একটি অংশের হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না এবং পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা উচিত। তিনি তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশেরও দাবি জানান।  অন্যদিকে কংগ্রেসও SIT-এর পরিবর্তে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলেছে। তাদের অভিযোগ, এত বড় অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য উচ্চ আদালতের বিচারপতির তত্ত্বাবধানে অনুসন্ধান হওয়া উচিত।

এখন নজর চূড়ান্ত রিপোর্টে

প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়লেও তদন্ত শেষ হয়নি। SIT জানিয়েছে, আরও তথ্য সংগ্রহ, আর্থিক নথি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ বাকি রয়েছে। চূড়ান্ত রিপোর্টে অনিয়মের প্রকৃতি, সম্ভাব্য দায়ী ব্যক্তিদের নাম এবং আইনি পদক্ষেপের সুপারিশ আরও স্পষ্টভাবে উঠে আসতে পারে।  অযোধ্যার রামমন্দির শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, কোটি কোটি মানুষের আবেগের কেন্দ্র। ফলে অনুদান ব্যবস্থাপনা নিয়ে সামান্য সন্দেহও জনমনে বড় প্রশ্ন তৈরি করে। সেই কারণেই SIT-এর এই তদন্তকে উত্তরপ্রদেশ সরকার ও মন্দির কর্তৃপক্ষের জন্য বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আপাতত প্রাথমিক রিপোর্টের ইঙ্গিত বলছে, তদন্তকারীরা সরাসরি ‘চুরি’ বা ‘বৃহৎ তছরুপ’-এর সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে ব্যবস্থাপনার গাফিলতি ও নজরদারির ব্যর্থতার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে শেষ কথা বলবে চূড়ান্ত রিপোর্টই।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles