হাইলাইটস:
- মেসি ইভেন্ট সংক্রান্ত মামলায় ফের তলব রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে।
- হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণের পর তদন্তে নতুন করে সক্রিয় পুলিশ।
- অনুষ্ঠানের আয়োজন, আর্থিক লেনদেন ও সরকারি ভূমিকা নিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বিভিন্ন দিক।
- বিরোধীদের অভিযোগ, জনসাধারণের অর্থ ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহারের প্রশ্নে স্পষ্ট জবাব দরকার।
- তৃণমূলের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই বিষয়টিকে বাড়িয়ে দেখা হচ্ছে।
বাংলাস্ফিয়ার: বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসিকে ঘিরে আয়োজিত বহুচর্চিত ‘মেসি ইভেন্ট’ বিতর্কে নতুন মোড় এল। কলকাতা পুলিশের তদন্তকারী দল ফের তলব করল রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে। সাম্প্রতিক হাইকোর্টের নির্দেশের পরই তদন্তে গতি এসেছে বলে সূত্রের খবর।
মেসির কলকাতা সফর এবং সেই উপলক্ষে পরিকল্পিত অনুষ্ঠানকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন উঠছিল। অভিযোগ, অনুষ্ঠানের প্রচার, প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একাধিক অসঙ্গতি ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কয়েকজন আবেদনকারী। মামলার শুনানিতে আদালত তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেওয়ার পর পুলিশ নতুন করে নথি সংগ্রহ ও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেছে।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, অরূপ বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের মূল উদ্দেশ্য হল অনুষ্ঠান আয়োজনের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া। বিশেষ করে কোন কোন সরকারি সংস্থা বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিল, কীভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল এবং অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল— সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, মেসিকে কলকাতায় আনার ঘোষণা ঘিরে এক সময় প্রবল উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচার শুরু হয়, নানা প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। অভিযোগ ওঠে, যে মাত্রায় প্রচার করা হয়েছিল, বাস্তবে তার অনেকটাই পূরণ হয়নি। এর জেরেই জনস্বার্থের প্রশ্ন সামনে আসে।
তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য কোন সংস্থা কী দায়িত্ব পেয়েছিল এবং সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় সরকারের ভূমিকা কতটা ছিল। বিভিন্ন বৈঠকের নথি, চিঠিপত্র এবং আর্থিক রেকর্ডও পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিরোধী শিবিরের দাবি, বিষয়টি শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠান সফল বা ব্যর্থ হওয়ার প্রশ্ন নয়। তাদের মতে, যদি সরকারি প্রভাব বা সরকারি সম্পদ কোনও বেসরকারি উদ্যোগে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তবে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। জনগণের কাছে জবাবদিহির স্বার্থেই সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে আনা প্রয়োজন।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, মেসিকে ঘিরে অনুষ্ঠান আয়োজনের চেষ্টা ছিল রাজ্যের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার উদ্যোগ। পরবর্তীকালে বিভিন্ন বাস্তব কারণে পরিকল্পনা বদলাতে পারে, কিন্তু তা থেকে দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ টানা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অরূপ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ মহলও দাবি করেছে যে তিনি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। এর আগেও তিনি তদন্তকারীদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন। ফলে নতুন করে তলব করা হলেও আইনগত প্রক্রিয়া মেনেই তিনি তদন্তে অংশ নেবেন।
আইনজীবীদের একাংশের মতে, হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ এই মামলাকে নতুন গুরুত্ব দিয়েছে। আদালত সাধারণত তখনই তদন্তে সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়, যখন প্রাথমিক অভিযোগে আরও অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা দেখতে পায়। ফলে তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখন অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ করছে।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ অরূপ বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের ক্রীড়া ও প্রশাসনিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। তাঁকে ঘিরে তদন্ত এগোলে তা রাজনৈতিকভাবেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এখন নজর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। জিজ্ঞাসাবাদ থেকে নতুন কোনও তথ্য উঠে আসে কি না, আর্থিক লেনদেন বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আরও কারও ভূমিকা সামনে আসে কি না, সেটাই দেখার। তবে স্পষ্ট যে মেসি ইভেন্টকে ঘিরে যে বিতর্ক একসময় শুধুই রাজনৈতিক বাকযুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন আদালত-নির্দেশিত তদন্তের ফলে অনেক বেশি গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে। তদন্তের অগ্রগতিই ঠিক করবে এই বহুচর্চিত বিতর্কের শেষ পর্যন্ত কী পরিণতি হয়।