চড়া তেল, বিদেশি লগ্নি প্রত্যাহারে ফের ধাক্কা শেয়ার বাজারে

যা জানা জরুরি
- অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের টাকা তুলে নেওয়ার চাপে মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, লেনদেনের শুরুতেই নামল ভারতের শেয়ার বাজার।
- পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে সেনসেক্স ও নিফটিতে বিক্রির চাপ বাড়ে।
- সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে সেনসেক্স ৫৮২.৪৭ পয়েন্ট বা ০.৮০ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৭২,১৮৯.২৫ পয়েন্টে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের টাকা তুলে নেওয়ার চাপে মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, লেনদেনের শুরুতেই নামল ভারতের শেয়ার বাজার। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে সেনসেক্স ও নিফটিতে বিক্রির চাপ বাড়ে। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে সেনসেক্স ৫৮২.৪৭ পয়েন্ট বা ০.৮০ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৭২,১৮৯.২৫ পয়েন্টে। নিফটি ১৫৮.৫০ পয়েন্ট বা ০.৭০ শতাংশ নেমে হয় ২২,৬২১.৭৫। এগুলি সকালের লেনদেনের পরিসংখ্যান, দিনের শেষের অবস্থান নয়।
বাজার খোলার সময় পতনের মাত্রা তুলনায় কম ছিল। সেনসেক্স প্রথমে ২২৪.৭৫ পয়েন্ট এবং নিফটি ৬৩.১০ পয়েন্ট নেমেছিল। পরে লোকসান বাড়ে। বিক্রির চাপ কয়েকটি বড় সংস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকালের লেনদেনে প্রধান ১৬টি ক্ষেত্রের মধ্যে ১৪টিতেই পতন দেখা যায়। ছোট ও মাঝারি মূলধনের সংস্থাগুলির সূচকও প্রায় ০.৮ শতাংশ করে নামে। প্রধান দুই সূচক প্রায় ছয় মাসের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি চলে আসে।
বাজারের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে জ্বালানির দাম। মঙ্গলবার সকালের এক পর্যায়ে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল প্রায় দেড় শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছয়। আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের জেরে পশ্চিম এশিয়া থেকে সরবরাহ নিয়ে সংশয় কাটেনি। ভারত বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে আমদানির খরচ, মূল্যস্ফীতি এবং সংস্থাগুলির মুনাফার উপরে একসঙ্গে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক বিক্রি। ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত মিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বরের তৎকালীন হিসাবে তাঁরা ভারতীয় শেয়ার থেকে নিট ১৮,৫৩১ কোটি টাকা তুলে নিয়েছিলেন। শুধু ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের সপ্তাহেই বিক্রির অঙ্ক ছাড়ায় ১১,৪৯০ কোটি টাকা। বিদেশি লগ্নি ফেরার লক্ষণ স্পষ্ট না হওয়ায় বাজারের স্থায়ী ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে সংশয় রয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ, মঙ্গলবারের চাপের পিছনে আগের কয়েক সপ্তাহের দুর্বলতাও কাজ করছে।
দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা অবশ্য কিছুটা ভারসাম্য ধরে রেখেছেন। একই প্রতিবেদনের হিসাবে, সেপ্টেম্বরের ওই সময়সীমায় তাঁদের নিট কেনাকাটা ছিল ৫২,৬১৭ কোটি টাকা। এই বিপুল কেনাকাটা বিদেশি বিক্রির অভিঘাত সামলাতে সাহায্য করলেও বাজারের সব উদ্বেগ দূর করতে পারছে না। তেলের দাম ও আন্তর্জাতিক সুদের গতিপথ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বিনিয়োগকারীদের আস্থার উপর চাপ বজায় রয়েছে। তবে দেশীয় ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কেনাবেচার অঙ্ক থেকে বাজারের দিক নির্ধারণ করা যায় না; কোন শেয়ারে লেনদেন হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে আমেরিকার সরকারি বন্ডের বাড়তি আয় শেয়ার বাজারের জন্য আরেকটি প্রতিকূলতা। ডলারে লগ্নির মাধ্যমে তুলনায় আকর্ষণীয় আয় পাওয়া গেলে উদীয়মান অর্থনীতির শেয়ারে ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ কমতে পারে। ইকনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বাজার বিশেষজ্ঞেরা তেলের দাম, বিশ্বজুড়ে বন্ডের আয় এবং শক্তিশালী ডলারকে বিদেশি লগ্নি সরে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ভারতের ক্ষেত্রে এই কারণগুলি একই সময়ে সক্রিয় হওয়ায় চাপ আরও জটিল হয়েছে।
মুদ্রাবাজারেও দুর্বলতার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। মঙ্গলবার টাকা ডলারপ্রতি ৯৬-এর সীমা অতিক্রম করে এক পর্যায়ে ৯৬.১৪৭৫-এ নামে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় ভারতীয় মুদ্রা; প্রতিবেদনে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। দুর্বল টাকা তেল আমদানির খরচ আরও বাড়াতে পারে, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য প্রধানত ডলারে মেটানো হয়। ফলে জ্বালানি ও মুদ্রাবাজারের চাপ পরস্পরকে বাড়িয়ে তোলার আশঙ্কা থাকে।
সোমবারও বড় পতন হয়েছিল: সেনসেক্স ১.৫২ শতাংশ এবং নিফটি ১.৫৬ শতাংশ নেমেছিল। সেই দুর্বলতার পর মঙ্গলবারের শুরু স্বস্তি দেয়নি। আপাতত বাজারের নজর পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি, ব্রেন্টের দাম, মার্কিন বন্ডের আয় এবং বিদেশি তহবিলের গতিবিধির দিকে। দেশীয় কেনাকাটা কতটা চাপ সামলাতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সকালের এই পতন তাই জ্বালানি, আন্তর্জাতিক অর্থপ্রবাহ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার সম্মিলিত চাপের প্রতিফলন।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



