বুলেট ট্রেনে দীর্ঘ বিলম্ব, প্রত্যাশা পূরণ হয়নি জাপানের; তবু অগ্রগতির আশ্বাস

যা জানা জরুরি
- মুম্বই–আমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্প যে গতিতে এগোনোর কথা ছিল, বাস্তবে তা হয়নি—স্বীকার করল জাপান।
- তবে দীর্ঘ বিলম্বের পর ভারতের প্রথম উচ্চগতির রেল প্রকল্প এখন এগোচ্ছে বলেও জানিয়েছে টোকিয়ো।
- সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, এক সাক্ষাৎকারে জাপানের বিদেশ মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক পরিকল্পনার সময়সীমা তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ করেনি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
মুম্বই–আমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্প যে গতিতে এগোনোর কথা ছিল, বাস্তবে তা হয়নি—স্বীকার করল জাপান। তবে দীর্ঘ বিলম্বের পর ভারতের প্রথম উচ্চগতির রেল প্রকল্প এখন এগোচ্ছে বলেও জানিয়েছে টোকিয়ো। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, এক সাক্ষাৎকারে জাপানের বিদেশ মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক পরিকল্পনার সময়সীমা তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ করেনি। প্রকল্পটি কবে সম্পূর্ণ হবে, সেই নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানানোর অবস্থায় জাপান নেই।
ওই কর্মকর্তার বক্তব্য, মুম্বই এবং গুজরাতে পরিকাঠামো নির্মাণের অগ্রগতি হচ্ছে। ভারতে উচ্চগতির ট্রেন চালুর বিষয়ে দুই দেশই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ট্রেন চলবে বলে তাঁরা আশাবাদী। ২০১৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আমেদাবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে প্রকল্পটির শিলান্যাস করেছিলেন। তার প্রায় নয় বছর পরেও সম্পূর্ণ পরিষেবা চালুর নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করা যাচ্ছে না।
বিলম্ব নিয়ে কয়েক মাস আগেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন জাপানের প্রাক্তন মন্ত্রী হিদেকি মাকিহারা। ভারতীয় পক্ষের আচরণ এবং নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সিগন্যালিং ব্যবস্থা থেকে জাপানকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। তবে তাঁর মন্তব্যকে সমর্থন করেননি জাপানের বিদেশ মন্ত্রকের ওই কর্মকর্তা। তিনি জানান, রেল পরিকাঠামো ও সিগন্যাল ব্যবস্থা সংক্রান্ত কাজের পাশাপাশি উচ্চগতির রেল পরিচালনার জন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।
মাকিহারার অভিযোগ ভারত আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে। জুলাইয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, সেটি ব্যক্তিগত মতামত এবং প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে তার যথেষ্ট অমিল রয়েছে। তাঁর ব্যাখ্যা ছিল, জাপানের পরবর্তী প্রজন্মের ই১০ সিরিজের ট্রেন তখনও তৈরি হচ্ছে; সেগুলি মিলবে ২০৩০-এর দশকের গোড়ায়। তাই প্রথম পর্যায়ে ভারতীয় উচ্চগতির ট্রেন দিয়ে পরিষেবা শুরু করতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। সিগন্যালিং সরঞ্জামও আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী কেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছিল দিল্লি।
ভারতের ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালে প্রকল্পের প্রথম অংশে ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার কথা। সেই অংশের জন্য দেশীয় বি২৮ ট্রেন তৈরির কাজ চলছে। তবে কোনও একটি অংশে পরিষেবা চালু হওয়া এবং মুম্বই থেকে আমেদাবাদ পর্যন্ত গোটা করিডর চালু হওয়া আলাদা বিষয়। ফলে প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধনের লক্ষ্যকে সম্পূর্ণ প্রকল্প শেষ হওয়ার সময়সীমা হিসেবে দেখা যাবে না। নতুন জাপানি ট্রেন আসার সময়ও সম্পূর্ণ নির্মাণ শেষের নিশ্চয়তা দেয় না।
রেল মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডর মহারাষ্ট্র, গুজরাত এবং দাদরা ও নগর হাভেলির মধ্য দিয়ে যাবে। পরিকল্পনায় রয়েছে ১২টি স্টেশন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংসদে কেন্দ্র জানিয়েছিল, প্রকল্পের প্রয়োজনীয় ১,৩৮৯.৫ হেক্টর জমির পুরোটাই অধিগ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় বিধিবদ্ধ ছাড়পত্রও পাওয়া গিয়েছে। মহারাষ্ট্রে জমি অধিগ্রহণের বিলম্ব ২০২১ সাল পর্যন্ত কাজের অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলেছিল; ২০২২ সাল থেকে সেখানে অধিগ্রহণ গতি পায়।
ফেব্রুয়ারির সরকারি হিসাবে, আটটি স্টেশনের ভিত নির্মাণ শেষ হয়েছিল এবং ১৭টি নদীসেতুর কাজ সম্পূর্ণ হয়েছিল। মুম্বইয়ের বান্দ্রা–কুরলা কমপ্লেক্সে ভূগর্ভস্থ স্টেশনের কাজও এগোচ্ছিল। পাশাপাশি আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতে দেশেই উচ্চগতির ট্রেন ও যন্ত্রাংশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি এবং বিইএমএল যৌথভাবে ঘণ্টায় ২৮০ কিলোমিটার নকশাগত গতির ট্রেন তৈরি করছে। কেন্দ্রের আশা, এই প্রকল্প থেকে অর্জিত নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভিজ্ঞতা দেশের অন্যান্য উচ্চগতির রেল করিডর গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও কাজে লাগবে।
কেন্দ্রের ব্যাখ্যায়, এই প্রকল্প অত্যন্ত জটিল এবং প্রযুক্তিনির্ভর। উঁচু রেলপথ, সেতু ও স্টেশন নির্মাণের পাশাপাশি রেললাইন, বিদ্যুৎ, সিগন্যালিং, টেলিযোগাযোগ এবং ট্রেন সরবরাহের কাজও সম্পন্ন হতে হবে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন মাথায় রেখে জাপানের সহযোগিতায় ব্যবস্থাটি ভারতের পরিবেশ ও প্রয়োজনের উপযোগী করা হচ্ছে। সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সব কাজের অগ্রগতি এবং ট্রেনের সরবরাহ বিবেচনায় নিয়েই সম্পূর্ণ প্রকল্পের সময়সীমা নির্ভরযোগ্যভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



