হাইলাইটস
- হায়দরাবাদ থেকে দুই ইউটিউবারকে আটক করেছে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ।
- মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু ও উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ।
- পরিবারের দাবি, পরিচয় না দিয়েই বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
- ইউটিউবারের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে ‘অপহরণ’-এর মামলা দায়ের।
- গ্রেফতারি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী N. Chandrababu Naidu এবং উপমুখ্যমন্ত্রী Pawan Kalyan সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে হায়দরাবাদ থেকে দুই ইউটিউবারকে আটক করেছে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে এই অভিযান চালানো হয় বলে জানা গেছে। তবে বুধবার দুপুর পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন কে ভেঙ্কটরামি রেড্ডি, যিনি ‘মাইরা মিডিয়া’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করেন এবং ‘কেভি রেড্ডি’ নামে পরিচিত। অপরজন বি জোসেফ, যিনি ‘প্রশ্ন’ ইউটিউব চ্যানেলের ‘রাবণ’ নামে পরিচিত মুখ। অভিযোগ, তাঁদের চ্যানেলে প্রকাশিত কিছু ভিডিওতে অন্ধ্রপ্রদেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্পর্কে অবমাননাকর ও উসকানিমূলক মন্তব্য করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে গ্রেফতারি প্রক্রিয়া নিয়ে। কেভি রেড্ডির স্ত্রী কে বিজয়া লক্ষ্মী অভিযোগ করেছেন, মঙ্গলবার গভীর রাতে একদল ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে ঢুকে নিজেদের অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের সদস্য বলে পরিচয় দেন এবং তাঁর স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে চলে যান। কিন্তু তাঁরা কোনও পরিচয়পত্র দেখাননি, গ্রেফতারের কারণ জানাননি কিংবা কোন মামলায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সেটিও স্পষ্ট করেননি।
বিজয়া লক্ষ্মীর অভিযোগ, আইন অনুযায়ী অন্য রাজ্যে গিয়ে কাউকে গ্রেফতার করতে হলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের পুলিশকে জানানো, গ্রেফতারের কারণ ব্যাখ্যা করা এবং স্থানীয় আদালতের সামনে অভিযুক্তকে হাজির করার মতো নির্দিষ্ট বিধি রয়েছে। তাঁর দাবি, এসবের কোনওটিই মানা হয়নি। তাই তিনি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং পরিবারের নিরাপত্তার দাবিও জানিয়েছেন। তেলেঙ্গানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও সরকারি ব্যাখ্যা না আসায় জল্পনা আরও বেড়েছে।
ঘটনাটি এমন এক সময় সামনে এল, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবভিত্তিক রাজনৈতিক প্রচার এবং সমালোচনা নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে আইনি পদক্ষেপের সংখ্যা বাড়ছে। সরকারপক্ষের দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়ো তথ্য, মানহানি বা বিদ্বেষমূলক প্রচার রুখতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা মহলের একাংশের বক্তব্য, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা ও নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করা জরুরি।
এই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত আদালত কী অবস্থান নেয় এবং অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ কী অভিযোগের ভিত্তিতে দুই ইউটিউবারকে আটক করেছে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও আইন বিশেষজ্ঞদের।