হাইলাইটস
- কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাস।
- কলকাতার জন্য কমলা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।
- উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে।
- শহরের বহু রাস্তা জলমগ্ন, যান চলাচলে ব্যাঘাত।
- মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা, নদীবন্দরগুলিকে সতর্ক থাকার নির্দেশ।
কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে টানা বর্ষণে কার্যত জনজীবন বিপর্যস্ত। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দফায় দফায় ভারী বৃষ্টিতে শহরের একাধিক রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। অফিসগামী মানুষকে হাঁটুসমান জল পেরিয়ে কর্মস্থলে পৌঁছতে হয়েছে। বহু জায়গায় যানজট সৃষ্টি হয়, বাস ও ছোট গাড়ির গতি শ্লথ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর। সেই কারণেই কলকাতার জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অনুকূল পরিস্থিতি এবং সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, নদিয়া এবং পূর্ব বর্ধমান জেলায় কোথাও কোথাও স্বল্প সময়ে অত্যন্ত বেশি বৃষ্টি হতে পারে। ফলে নিচু এলাকায় জল জমা, স্থানীয় জলাবদ্ধতা এবং যান চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কা রয়েছে।
শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকাতেও উদ্বেগ বাড়ছে। দার্জিলিং, কালিম্পং-সহ পাহাড়ি জেলাগুলিতে টানা বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাহাড়ি রাস্তার ঢাল দুর্বল হয়ে পড়ায় যাতায়াতে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদেরও আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে ভ্রমণের পরিকল্পনা করার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।
কলকাতায় বৃহস্পতিবার বহু গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও রাস্তায় জল জমে যায়। কিছু এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থা চাপে পড়ায় জল নামতে সময় লাগে। এর ফলে কর্মব্যস্ত সময়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। জলমগ্ন রাস্তায় হেঁটেই গন্তব্যে পৌঁছতে দেখা যায় বহু মানুষকে। পুরসভার পাম্পিং স্টেশনগুলি চালু রেখে দ্রুত জল নামানোর চেষ্টা চলছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল বর্ষণের সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না বেরোনোই নিরাপদ। গাছের নিচে বা খোলা মাঠে আশ্রয় না নেওয়া, বিদ্যুতের খুঁটি ও ঝুলন্ত তার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, কারণ অতিবৃষ্টির ফলে হঠাৎ ধস নামতে পারে।
এদিকে সমুদ্র উত্তাল থাকার সম্ভাবনায় মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকায় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং নদীবন্দরগুলিকেও প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস, আগামী কয়েক দিন বর্ষার দাপট অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে জলাবদ্ধতা এবং উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে ভূমিধস—দুই পরিস্থিতির দিকেই সমান নজর রাখতে হবে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে। পরিস্থিতির উপর নজর রেখে প্রয়োজনে সতর্কতার মাত্রা আরও বাড়ানো হতে পারে।