হাইলাইটস
- প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে ০-০ ড্র করেই বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ পৌঁছে গেল অস্ট্রেলিয়া।
- ইতিহাসে তৃতীয়বার নকআউট পর্বে উঠল সকারুজরা।
- ম্যাচের বড় অংশে বলের দখল ছিল অস্ট্রেলিয়ার, তবে দুই দলই ঝুঁকি নিতে চায়নি।
- অভিষেক বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেললেন ১৮ বছরের ডিফেন্ডার লুকাস হেরিংটন।
- রক্ষণে জর্ডি বস ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সেরা পারফর্মারদের একজন।
- গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে এখন ডালাসে শেষ ৩২-এর ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া।
সুন্দর ফুটবলের দিক থেকে ম্যাচটি স্মরণীয় নয়। কিন্তু লক্ষ্য পূরণই যখন একমাত্র উদ্দেশ্য, তখন প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে ০-০ ড্র-ই যথেষ্ট ছিল অস্ট্রেলিয়ার জন্য। সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকার স্টেডিয়ামে গোলশূন্য ফলের মাধ্যমে ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট তথা শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করল সকারুজরা।
প্রথম একাদশে ছয়টি পরিবর্তন এনে দল নামিয়েছিলেন কোচ টনি পপোভিচ। তবু ম্যাচের বড় অংশেই বলের দখল ছিল অস্ট্রেলিয়ার। তবে দুই দলই জানত, ড্র হলেই পরবর্তী পর্ব নিশ্চিত। ফলে আক্রমণাত্মক ফুটবলের বদলে ছিল হিসেবি ও সতর্ক লড়াই। দীর্ঘ সময় ম্যাচে গতি ও উত্তেজনার অভাব চোখে পড়ে।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন ডান দিকের রক্ষণভাগে খেলা জর্ডি বস এবং বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া তরুণ ডিফেন্ডার লুকাস হেরিংটন। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই অসাধারণ আত্মবিশ্বাসে খেলেন হেরিংটন। চাপের মধ্যেও ঠান্ডা মাথায় বল বিলি করেন, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকল ও হেড জিতে নিজের প্রতিভার পরিচয় দেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই প্যারাগুয়ে রক্ষণাত্মক কৌশল নেয়। ফলে অস্ট্রেলিয়া বেশি সময় বল দখলে রাখলেও স্পষ্ট গোলের সুযোগ খুব বেশি তৈরি করতে পারেনি। ডান প্রান্তে জর্ডি বস ও ক্রিশ্চিয়ান ভলপাতোর সমন্বয়ই ছিল অস্ট্রেলিয়ার প্রধান অস্ত্র। প্রথমার্ধে ভলপাতোর তৈরি করা সুযোগ থেকে দূরপাল্লার শট নেন বস, কিন্তু প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল তা রুখে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা চাপ বাড়ায় প্যারাগুয়ে। অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক পল বিচ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। একবার রক্ষণভাগের ভুল বোঝাবুঝিতে বিপদ তৈরি হলেও দ্রুত পরিস্থিতি সামলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত দুই দলই ড্রয়ে সন্তুষ্ট থাকায় ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলোয় ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়নি।
ম্যাচের শেষদিকে জর্ডি বসের একটি শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। অপরদিকে যোগ করা সময়ে প্যারাগুয়ের একটি প্রচেষ্টা সহজেই ধরে ফেলেন বিচ। এরপরই শেষ বাঁশি বাজে এবং গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয় ম্যাচ।
গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত হওয়ায় অস্ট্রেলিয়া এখন এক সপ্তাহ বিশ্রাম পাবে। ওকল্যান্ডে অনুশীলন চালিয়ে বুধবার তারা ডালাসে উড়ে যাবে। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ‘জি’-র দ্বিতীয় স্থানাধিকারী দল। বর্তমানে বেলজিয়াম সেই জায়গা দখলের সবচেয়ে জোরালো দাবিদার।
ম্যাচের পরিসংখ্যান
- ফল: প্যারাগুয়ে ০-০ অস্ট্রেলিয়া
- বল দখল: প্যারাগুয়ে ৪৫% — অস্ট্রেলিয়া ৫৫%
- লক্ষ্যে শট: প্যারাগুয়ে ২ — অস্ট্রেলিয়া ৫
- লক্ষ্যের বাইরে শট: প্যারাগুয়ে ৫ — অস্ট্রেলিয়া ৭
- কর্নার: প্যারাগুয়ে ১ — অস্ট্রেলিয়া ৩
- ফাউল: প্যারাগুয়ে ৯ — অস্ট্রেলিয়া ৬
গোলহীন ম্যাচ হলেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে এটিই ছিল সবচেয়ে মূল্যবান ফল। কারণ সুন্দর ফুটবলের চেয়ে নকআউট পর্বে পৌঁছনোই ছিল তাদের একমাত্র লক্ষ্য, আর সেই লক্ষ্য তারা সফলভাবেই পূরণ করেছে।