হাইলাইটস:

  • জিটিএ-র প্রধান নির্বাহী ও সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অনীত থাপা।
  • মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দুর্নীতি তদন্তের ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগ।
  • জিটিএ-তে ১৮০ কোটি টাকার বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
  • পাহাড়ের উন্নয়নের স্বার্থে বিজেপি সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার ইঙ্গিত বিজিপিএমের।
  • দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরির জল্পনা।

বাংলাস্ফিয়ার: দার্জিলিং পাহাড়ের রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ মোড় এনে জিটিএ (গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)-র প্রধান নির্বাহী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা (বিজিপিএম)-এর সভাপতি অনীত থাপা। বুধবার সামাজিক মাধ্যমে তিনি তাঁর পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন। শুধু প্রধান নির্বাহী পদই নয়, জিটিএ-র সদস্য পদ থেকেও তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন।

এই পদত্যাগের সময়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এর মাত্র একদিন আগে পাহাড় সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে জিটিএ-র বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কার্শিয়াংয়ে এক সভায় মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তৎকালীন রাজ্য সরকার জিটিএ-র জন্য ১৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। কিন্তু সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়নি। তাঁর দাবি, উন্নয়নমূলক কাজ না করে ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। সরকার এই অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে বলেও তিনি জানান।

মুখ্যমন্ত্রী একই সঙ্গে পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য নতুন পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান সরকার আগের বরাদ্দের দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ দেবে। দার্জিলিং পাহাড়ে একটি মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলা, রাস্তা ও সেতুর পরিকাঠামো উন্নয়নসহ দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে।

অনীত থাপার ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, বিজিপিএম এখন পাহাড়ের উন্নয়নের প্রশ্নে বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার পথেই এগোতে চায়। সেই কারণে রাজনৈতিক অবস্থানেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। এতদিন বিজিপিএমকে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দেখা হলেও, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, অনীত থাপার এই পদত্যাগ শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি নিজেদের অবস্থান নতুন করে নির্ধারণের চেষ্টা করছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিজিপিএমের ভবিষ্যৎ ভূমিকা এখন বিশেষ নজর কেড়েছে।

দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের রাজনীতিতে আগামী কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। জিটিএ-র নেতৃত্বে কে আসবেন, দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত কতদূর এগোবে এবং বিজিপিএম শেষ পর্যন্ত বিজেপি সরকারের সঙ্গে কতটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে—সেই প্রশ্নগুলির উত্তরই পাহাড়ের আগামী রাজনৈতিক দিকনির্দেশ নির্ধারণ করবে।