হাইলাইটস
• শিবসেনা (ইউবিটি)-র ছয় সাংসদ শিবির বদল করতে পারেন বলে জোর জল্পনা।
• বিদ্রোহী সাংসদদের Y-প্লাস সদৃশ নিরাপত্তা দেওয়ার খবর ঘিরে বিতর্ক।
• সঞ্জয় রাউতের অভিযোগ, সাংসদ ভাঙাতে কোটি কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
• উদ্ধব ঠাকরের দল শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের সঙ্গে সাংগঠনিক সংযুক্তির পথে হাঁটতে পারে।
• লোকসভার স্পিকারের কাছে আলাদা গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে ইউবিটি।
মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবারও ২০২২ সালের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (ইউবিটি) নতুন করে ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে। গত কয়েক দিন ধরে জল্পনা চলছিল যে দলের একাধিক সাংসদ একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এখন সেই জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
খবর অনুযায়ী, ইউবিটি-র ছয় সাংসদকে বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে, যা কার্যত Y-প্লাস নিরাপত্তার সমতুল্য বলে বিরোধীরা দাবি করছে। এই পদক্ষেপকে উদ্ধব শিবির “রাজনৈতিক সুরক্ষা বলয়” হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। অন্যদিকে শিন্ডে শিবিরের বক্তব্য, নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে তথাকথিত ‘অপারেশন টাইগার’। ইউবিটি নেতা সঞ্জয় রাউতের অভিযোগ, সাংসদদের দলত্যাগে উৎসাহিত করতে বিপুল অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, কয়েকজন সাংসদকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত অফার করা হয়েছে এবং অগ্রিম অর্থও দেওয়া হয়েছে। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। মহারাষ্ট্র বিজেপি সভাপতি চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে বলেছেন, এটি সম্পূর্ণভাবে দুই সেনা গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই।
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে ইউবিটি নেতৃত্ব লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছে, কোনও বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে পৃথক দল বা অন্য দলে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়া হোক। দলের দাবি, আসল শিবসেনার প্রশ্ন এখনও বিচারাধীন এবং সেই অবস্থায় নতুন কোনও স্বীকৃতি দেওয়া হলে তা রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা তৈরি করবে।
এরই মধ্যে রাজনৈতিক মহলে আরেকটি জল্পনা দ্রুত ছড়িয়েছে—যদি ভাঙন অনিবার্য হয়ে ওঠে, তবে উদ্ধব ঠাকরের দল শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের সঙ্গে সাংগঠনিক সংযুক্তির পথে হাঁটতে পারে। বিজেপির কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে ইউবিটি এবং শরদ পাওয়ারের শিবিরকে কংগ্রেসের ছাতার তলায় আনার চেষ্টা চলছে। যদিও এই দাবির কোনও স্বাধীন প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি এবং ইউবিটি নেতৃত্বও তা অস্বীকার করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট কেবল কয়েকজন সাংসদের দলত্যাগের প্রশ্ন নয়। এটি উদ্ধব ঠাকরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং মহারাষ্ট্রে বিরোধী শিবিরের অস্তিত্বের প্রশ্ন। ২০২২ সালে একনাথ শিন্ডের বিদ্রোহে মুখ্যমন্ত্রীর পদ হারানোর পর উদ্ধবের দল ইতিমধ্যেই সাংগঠনিক ও সাংসদীয় শক্তি হারিয়েছে। এবার আরও একটি ভাঙন হলে ইউবিটি কার্যত অস্তিত্বসংকটে পড়তে পারে।
অন্যদিকে কংগ্রেস ও বিরোধী জোটের নেতারা অভিযোগ করছেন, সংসদে সংখ্যাবৃদ্ধির লক্ষ্যেই আঞ্চলিক দলগুলিকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। তাঁদের মতে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী দল ভাঙার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, মহারাষ্ট্র তার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ।
সব মিলিয়ে মহারাষ্ট্রে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা চরমে। বিদ্রোহী সাংসদরা শেষ পর্যন্ত শিন্ডে শিবিরে যোগ দেন, আলাদা গোষ্ঠী গড়েন, নাকি উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে সমঝোতায় ফেরেন—সেই উত্তরই এখন অপেক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, শিবসেনার ইতিহাসে আরেকটি বড় অধ্যায়ের সূচনা হয়ে গিয়েছে।