সালমান খান-প্রতিবেশী বিবাদে টুইট ও ইউটিউব ভিডিও মুছে ফেলার পরামর্শ আদালতের
হাইলাইটস
- সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবেশাধিকার থাকলেই যে কাউকে নিয়ে যা খুশি পোস্ট করা যায় না, জানাল বম্বে হাইকোর্ট।
- অভিনেতা সালমান খানের প্রতিবেশী কেতন কক্কড়কে টুইট ও ভিডিও মুছে ফেলার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলল আদালত।
- বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, আদালতের লড়াই আদালতেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত, সামাজিক মাধ্যমে নয়।
- কক্কড়ের অভিযোগ, সালমান খানের পানভেলের ফার্মহাউস সংলগ্ন এলাকায় পরিবেশ আইন লঙ্ঘন ও রাস্তা অবরোধের ঘটনা ঘটেছে।
- মানহানির অভিযোগে সালমান খানের করা মামলার শুনানি ফের জুলাই মাসে।
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে যে কেউ যে কাউকে নিয়ে ভিডিও বা পোস্ট করতে পারেন না, শুধুমাত্র তাঁকে হেয় বা অপমান করার উদ্দেশ্যে—এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করল বম্বে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি শর্মিলা দেশমুখ বললেন, কোনও ব্যক্তি সাধারণ নাগরিক হোন বা তারকা, তাঁর সম্পর্কে অবমাননাকর ভিডিও বা মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অধিকার কারও নেই।
মামলাটি বলিউড অভিনেতা Salman Khan এবং তাঁর পানভেলের ফার্মহাউসের প্রতিবেশী কেতন কক্কড়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধকে ঘিরে। শুনানির সময় আদালত কক্কড়কে পরামর্শ দেয়, তিনি বা তাঁর বক্তব্য সম্বলিত যেসব টুইট ও ইউটিউব ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে রয়েছে, সেগুলি মুছে ফেলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
বিচারপতি দেশমুখ স্পষ্ট ভাষায় জানান, ভিডিও থাকবে কি থাকবে না, তা নিয়ে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করতে তিনি রাজি নন। তাঁর মতে, যদি কোনও অভিযোগ থাকে, তবে তা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বা আদালতের সামনে উত্থাপন করা উচিত। সামাজিক মাধ্যমকে বিচারালয়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।
শুনানির সময় বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও আপলোড করার প্রয়োজন কী ছিল? আপনার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যেতে পারতেন। ভিডিওগুলি ২০১৯ ও ২০২০ সালে আপলোড করা হয়েছে। এখন সেগুলিতে কারও আগ্রহ থাকার কথা নয়। তাহলে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমকে কেন বিচারের মঞ্চ বানানো হবে?”
কক্কড়ের আইনজীবী যুক্তি দেন, ভিডিওগুলিতে কিছু সত্যতা রয়েছে এবং সেগুলি বিভিন্ন ইউটিউবার তৈরি করেছেন, যারা তাঁর মক্কেলের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। কিন্তু আদালত সেই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি।
বিচারপতি বলেন, “আপনার বক্তব্যে সত্যতার উপাদান থাকতে পারে। কিন্তু তাই বলে আদালতের সময় কেন নষ্ট হবে? ভিডিও মুছে ফেললে আপনার অবস্থান দুর্বল হয়ে যাবে না। আপনি আদালতে প্রমাণ দিন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যান, কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে বিচার চালানোর অর্থ কী?”
তিনি আরও বলেন, ভিডিওগুলি যদি কক্কড় নিজে আপলোড না-ও করে থাকেন, তবুও মধ্যস্থতাকারী সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিয়ে সেগুলি সরিয়ে ফেলা সম্ভব। আদালতের মতে, বর্তমানে কোনও ভিডিও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যেতে পারে। তাই সামাজিক মাধ্যমে কোনও তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
বিচারপতি দেশমুখের মন্তব্য, “কেউ কোনও ভিডিও আপলোড করে তারপর আদালতে চলে আসতে পারেন না। সবাই জানেন, সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। কাউকে নিয়ে যা খুশি প্রকাশ করা যায় না। কোনও সেলিব্রিটি হোক বা সাধারণ মানুষ—কাউকে হেয় করার জন্য ভিডিও বা টুইট ব্যবহার করা চলবে না।”
এর উত্তরে কক্কড়ের আইনজীবী বলেন, সংশ্লিষ্ট ভিডিওগুলি এমন কোনও ‘ভাইরাল’ ভিডিও নয়, যা সালমান খানের ভাবমূর্তির বড় ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু বিচারপতি জানান, ভিডিওটি ভাইরাল কি না, সেটি আসল বিষয় নয়। প্রশ্ন হল, এমন সামগ্রী সামাজিক মাধ্যমে থাকা উচিত কি না।
তিনি মন্তব্য করেন, “ভিডিওগুলি মুছে ফেলুন। আপনার লড়াই আদালতে লড়ুন।”
এরপর কক্কড়ের আইনজীবীকে তাঁর মক্কেলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দেশ নেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়।
বিরোধের সূত্রপাত পানভেলে অবস্থিত দুই প্রতিবেশী সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে। সালমান খানের ‘অর্পিতা ফার্মহাউস’-এর পাশেই কক্কড়ের সম্পত্তি। কক্কড়ের দাবি, ফার্মহাউস নির্মাণ ও অন্যান্য কাজে পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং তাঁর সম্পত্তিতে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগও করেছেন, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।
এই প্রেক্ষাপটে কক্কড়, যিনি একজন প্রবাসী ভারতীয় (এনআরআই), সামাজিক মাধ্যমে একাধিক টুইট করেন এবং কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দেন। পরে সেই সাক্ষাৎকারগুলি ইউটিউবে প্রকাশিত হয়।
সালমান খান অভিযোগ করেন, ওই টুইট ও ভিডিওগুলিতে তাঁর বিরুদ্ধে মানহানিকর মন্তব্য করা হয়েছে। তাই তিনি দেওয়ানি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আপত্তিকর সামগ্রী সরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানান। তবে নিম্ন আদালত কক্কড়ের বিরুদ্ধে কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করতে অস্বীকার করে।
এরপর ২০২২ সালে সালমান খান সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী জুলাই মাসে। আদালত তখন কক্কড়ের অবস্থান এবং ভিডিও-টুইট অপসারণ সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা করবে।