ইন্ফাডিয়া জোটে ফাটল আরও চওড়া? কংগ্রেসকে ঘিরে সিপিএম ও জেএমএমের অসন্তোষে বাড়ছে অস্বস্তি

যা জানা জরুরি
- হাইলাইটস জুন ৮-এর বৈঠকের আগে INDIA জোটে নতুন করে মতভেদ সামনে এল।
- CPI(M) সরাসরি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে।
- ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM)-ও কংগ্রেসের কিছু রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
হাইলাইটস
- জুন ৮-এর বৈঠকের আগে INDIA জোটে নতুন করে মতভেদ সামনে এল।
- CPI(M) সরাসরি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে।
- ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM)-ও কংগ্রেসের কিছু রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
- এর আগেই DMK বৈঠক বয়কট করে জোট থেকে দূরত্ব বাড়িয়েছে।
- বিরোধী ঐক্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠছে।
INDIA জোট গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিজেপির বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর বিরোধী মঞ্চ তৈরি করা। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে যে জোটকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি এসে সেই জোটের ভিতরেই একের পর এক ফাটলের রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
তামিলনাড়ুতে DMK-কংগ্রেস সম্পর্কের অবনতি এবং DMK-এর বৈঠক বয়কটের ঘোষণার পর এবার কংগ্রেসকে ঘিরে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানাল CPI(M)। একই সঙ্গে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা বা JMM-ও কংগ্রেসের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফলে জুন ৮-এর INDIA জোট বৈঠকের আগেই বিরোধী শিবিরে অস্বস্তি বেড়েছে।
CPI(M)-এর সরাসরি চিঠি
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হল CPI(M)-এর সাধারণ সম্পাদক M. A. Baby-র চিঠি।
তিনি কংগ্রেস সভাপতি Mallikarjun Kharge-কে লেখা চিঠিতে কেরলের নির্বাচনী প্রচারের সময় কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। CPI(M)-এর অভিযোগ, কংগ্রেস বারবার দাবি করেছে যে বামফ্রন্টের সঙ্গে বিজেপির কোনও গোপন সমঝোতা রয়েছে। শুধু তাই নয়, কংগ্রেসের কিছু নেতা প্রাক্তন কেরল মুখ্যমন্ত্রী Pinarayi Vijayan-এর বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর তদন্তের দাবিও তুলেছিলেন।
CPI(M)-এর বক্তব্য, যদি একটি দল জাতীয় স্তরে মিত্র হয়, তাহলে সেই দলকে রাজ্যস্তরে বিজেপির ভাষায় আক্রমণ করা জোটের ন্যূনতম রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
চিঠিতে কার্যত কংগ্রেসকে “পরিষ্কার ব্যাখ্যা” দিতে বলা হয়েছে। CPI(M)-এর মতে, এই ধরনের বক্তব্য শুধু নির্বাচনী কৌশল নয়, বরং জোটের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে।
JMM-এর অসন্তোষ
ঝাড়খণ্ডেও কংগ্রেসকে ঘিরে অস্বস্তি বাড়ছে।
JMM নেতৃত্বের একাংশ মনে করছে, বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেস এখনও জোট রাজনীতির বাস্তবতা পুরোপুরি মেনে নিতে পারছে না। আঞ্চলিক দলগুলির রাজনৈতিক পরিসরকে সম্মান করার বদলে কংগ্রেস অনেক সময় নিজস্ব সম্প্রসারণের রাজনীতি করছে। এই অভিযোগ নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পর তা আরও জোরালোভাবে সামনে এসেছে।
JMM-এর উদ্বেগ মূলত এই যে, জোটের ভিতরে পারস্পরিক আস্থা না থাকলে বিজেপির বিরুদ্ধে কার্যকর রাজনৈতিক লড়াই সম্ভব নয়।
DMK-এর বিদায়ে ধাক্কা
এই সংকটের শুরু অবশ্য আরও আগে।
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফলের পরে কংগ্রেস ও DMK-এর সম্পর্ক দ্রুত অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত DMK ঘোষণা করে যে তারা জুন ৮-এর INDIA বৈঠকে অংশ নেবে না। পরে দলের মুখপাত্র প্রকাশ্যেই বলেন যে DMK আর INDIA জোটের অংশ নয়।
এটি শুধুমাত্র একটি রাজ্যভিত্তিক বিরোধ নয়। কারণ DMK ছিল INDIA জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। দক্ষিণ ভারতে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে DMK-এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হত।
তাই DMK-এর দূরত্ব তৈরি হওয়া গোটা জোটের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
সমস্যার মূল কোথায়?
INDIA জোটের সমস্যা আদতে আদর্শগত নয়, রাজনৈতিক।
জোটের অধিকাংশ দল বিজেপি-বিরোধিতার প্রশ্নে একমত। কিন্তু রাজ্যভিত্তিক রাজনীতিতে তাদের স্বার্থ প্রায়শই পরস্পরবিরোধী।
কেরলে CPI(M) ও কংগ্রেস একে অপরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।
পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস ও তৃণমূলের সম্পর্ক কখনও সহযোগিতামূলক, কখনও প্রতিযোগিতামূলক।
ঝাড়খণ্ডে JMM ও কংগ্রেস মিত্র হলেও রাজনৈতিক আধিপত্যের প্রশ্নে দ্বন্দ্ব রয়েছে।
তামিলনাড়ুতে DMK ও কংগ্রেসের সম্পর্কও শেষ পর্যন্ত টেকেনি।
ফলে জাতীয় স্তরে একসঙ্গে থাকার চেষ্টা এবং রাজ্যস্তরে পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই—এই দ্বৈত বাস্তবতা জোটকে ক্রমাগত চাপে ফেলছে।
নেতৃত্বের প্রশ্নও সামনে
INDIA জোটের আরেকটি বড় সমস্যা হল নেতৃত্ব।
জোটের কোনও স্থায়ী কাঠামো নেই, নেই কোনও সর্বসম্মত মুখ। অতীতে Mamata Banerjee, M. K. Stalin কিংবা কংগ্রেস নেতৃত্বকে ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। এমনকি শিবসেনা (উদ্ধব) শিবির থেকেও বিকল্প নেতৃত্বের প্রস্তাব উঠে এসেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—জোট কি কেবলমাত্র নির্বাচনী সমঝোতার প্ল্যাটফর্ম, নাকি এটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রকল্প?
যদি দ্বিতীয়টি হয়, তাহলে অভ্যন্তরীণ মতভেদ সামলানোর জন্য আরও শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো প্রয়োজন।
সামনে কী?
জুন ৮-এর বৈঠক তাই এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠকে NEET কেলেঙ্কারি, শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে যৌথ আন্দোলনসহ একাধিক বিষয় আলোচনায় থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে বৈঠকের বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে জোটের নিজেদের অস্তিত্বের প্রশ্ন।
CPI(M)-এর চিঠি, JMM-এর অসন্তোষ এবং DMK-এর দূরত্ব—এই তিনটি ঘটনা একসঙ্গে দেখলে স্পষ্ট যে INDIA জোট এখন তার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে।
বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য গঠিত এই বৃহৎ বিরোধী মঞ্চ কি মতপার্থক্য মিটিয়ে নতুন ঐক্যের সূত্র খুঁজে পাবে, নাকি আঞ্চলিক স্বার্থ ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের চাপে আরও দুর্বল হয়ে পড়বে—তার উত্তরই মিলবে আগামী কয়েক সপ্তাহে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



