হাইলাইটস
- আগামী সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
- ২০১৯ সালের পর এই প্রথম তিনি পিয়ংইয়ং সফর করবেন।
- চলতি বছরে এটিই হবে শি-র প্রথম বিদেশ সফর।
- করোনা মহামারির সময় দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা শিথিল হয়েছিল বলে মনে করা হয়।
- মার্চ মাসে ছয় বছর বন্ধ থাকার পর চীন-উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু হয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই ঘোষণা করেছে। ২০১৯ সালের পর এই প্রথম শি পিয়ংইয়ং সফরে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ২০২৬ সালে এটিই হবে তাঁর প্রথম বিদেশ সফর, যা কূটনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মূল লক্ষ্য উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ককে নতুন করে শক্তিশালী করা। দুই দেশ ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও করোনা মহামারির সময় সেই সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। মহামারির সময় উত্তর কোরিয়া প্রায় সম্পূর্ণভাবে তার সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। ফলে বাণিজ্য, পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ে।
চীন দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদার। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা কিম জং উনের দেশ বহুলাংশে চীনের ওপর নির্ভরশীল। খাদ্য, জ্বালানি, শিল্পপণ্য এবং সীমান্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বেজিংয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে মহামারির সময় সীমান্ত কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। সেই পরিস্থিতি বদলানোর ইঙ্গিত মিলতে শুরু করে গত কয়েক মাসে। চলতি বছরের মার্চ মাসে ছয় বছর বন্ধ থাকার পর চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু হয়। এই পদক্ষেপকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শি জিনপিংয়ের এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। উত্তর কোরিয়া তার ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক কর্মসূচি জোরদার করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও গভীর করছে। এই পরিস্থিতিতে চীন চাইছে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তার প্রভাব ও যোগাযোগ বজায় রাখতে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সফরের সময় সীমান্ত বাণিজ্য বৃদ্ধি, অবকাঠামো সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে এটি কিম জং উন ও শি জিনপিংয়ের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার সুযোগও তৈরি করবে।
সব মিলিয়ে, শি জিনপিংয়ের আসন্ন পিয়ংইয়ং সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর নয়; এটি পূর্ব এশিয়ার পরিবর্তিত কৌশলগত বাস্তবতায় চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনাও হতে পারে। বিশেষ করে মহামারির পরবর্তী সময়ে দুই দেশ যে আবার ঘনিষ্ঠ হওয়ার পথে হাঁটছে, এই সফর সেই বার্তাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলছে।