হাইলাইটস
- ইজরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির সর্বশেষ প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করল হিজবুল্লা।
- সংগঠনের দাবি, এই চুক্তি মানে হবে “আত্মসমর্পণ, পরাজয় এবং শত্রুর লক্ষ্য পূরণ”।
- ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে স্থল ও বিমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।
- ফলে ইরান-আমেরিকা সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
- তেহরান স্পষ্ট করেছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি ছাড়া বৃহত্তর আঞ্চলিক সমঝোতা সম্ভব নয়।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার বদলে আরও জটিল হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান সংঘাত থামানোর জন্য যে নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব সামনে এসেছিল, তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে হিজবুল্লা। সংগঠনটির নেতৃত্বের বক্তব্য, এই প্রস্তাব গ্রহণ করা মানে হবে কার্যত আত্মসমর্পণ করা এবং ইজরায়েলের কৌশলগত লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করা।
হিজবুল্লার এই অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ আশা করছিল যে সীমান্ত সংঘাত অন্তত সাময়িকভাবে থামানো সম্ভব হবে। কিন্তু সংগঠনটির বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তারা বর্তমান শর্তে কোনও সমঝোতায় যেতে রাজি নয়।
অন্যদিকে ইজরায়েলও আপসের ইঙ্গিত দিচ্ছে না। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে “ফায়ার অ্যান্ড গ্রাউন্ড” বা বিমান হামলা ও স্থল অভিযান একসঙ্গে চলতে থাকবে। তাঁর বক্তব্য, সীমান্ত এলাকায় হিজবুল্লার সামরিক উপস্থিতি ও অবকাঠামো ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত অভিযান বন্ধ করার প্রশ্নই ওঠে না।
এই অবস্থান সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে। দক্ষিণ লেবাননের বহু অঞ্চল ইতিমধ্যেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় স্বাভাবিক জীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
তবে এই সংকটের প্রভাব শুধু ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ওপরও। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু ইরান বারবার জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি না হলে বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি আলোচনা এগোনো কঠিন।
তেহরানের দৃষ্টিতে হিজবুল্লা শুধু একটি লেবাননি সংগঠন নয়; এটি ইরানের আঞ্চলিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে ইরানের ওপর অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক চাপ বাড়বে, যা আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতার পথকে সংকুচিত করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে একটি জটিল অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ইজরায়েল মনে করছে সামরিক চাপ বাড়িয়ে হিজবুল্লাকে দুর্বল করা সম্ভব। অন্যদিকে হিজবুল্লা বিশ্বাস করে, যুদ্ধবিরতির বর্তমান শর্ত মেনে নিলে তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ফলে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা আপাতত দূরে সরে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। আর সেই সঙ্গে অনিশ্চিত হয়ে উঠছে ইরান-আমেরিকা সম্পর্কের ভবিষ্যৎও। মধ্যপ্রাচ্যের বহু সংঘাতের মতো এখানেও একটি স্থানীয় যুদ্ধ ধীরে ধীরে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে যুদ্ধক্ষেত্রের পরবর্তী ঘটনাবলির ওপর।