Table of Contents
আর মাত্র চার বছর। ২০২৬-এর রেকর্ড ভেঙে ২০৩০ বিশ্বকাপ হতে চলেছে ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্তৃত ও ব্যতিক্রমী আসর। শতবর্ষ উদ্যাপনের উপলক্ষে এবার ছয়টি দেশে গড়াবে বিশ্বকাপের বল।
২০২৬ বিশ্বকাপ ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর—প্রথমবার ৪৮টি দল, তিনটি আয়োজক দেশ এবং নজিরবিহীন আয়োজন। কিন্তু ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ সেই রেকর্ডও ছাপিয়ে যেতে চলেছে। শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে ফিফা এমন এক টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা করেছে, যার পরিসর ফুটবলের ইতিহাসে আগে কখনও দেখা যায়নি।
কারা আয়োজক?
আনুষ্ঠানিকভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপের মূল আয়োজক তিনটি দেশ—স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। তবে শতবর্ষ উদ্যাপনের বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে উদ্বোধনী পর্বের তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে।
উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিওর ঐতিহাসিক এস্তাদিও সেন্টেনারিওস্টেডিয়ামে হবে বিশেষ শতবর্ষের ম্যাচ। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালও অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই মাঠেই। পাশাপাশি আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েও একটি করে ম্যাচ আয়োজন করবে।
ফলে কার্যত ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজন ছড়িয়ে পড়বে ছয়টি দেশ ও তিনটি মহাদেশে।
এই সিদ্ধান্ত এল কীভাবে?
২০২২ সালে শুরু হয় ২০৩০ বিশ্বকাপের বিড প্রক্রিয়া। ফিফার মহাদেশভিত্তিক আবর্তন নীতির কারণে এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলি বিড করতে পারেনি।
স্পেন ও পর্তুগালের যৌথ বিডে পরে যোগ দেয় মরক্কো। অন্যদিকে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও চিলি যৌথভাবে “শতবর্ষ বিশ্বকাপ” আয়োজনের প্রস্তাব দেয়।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ফিফা কাউন্সিল স্পেন-পর্তুগাল-মরক্কোর বিডকে বিজয়ী ঘোষণা করে। তবে বিশ্বকাপের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দক্ষিণ আমেরিকার তিনটি দেশকে একটি করে ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হয়।
দক্ষিণ আমেরিকায় ম্যাচ কেন?
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, বিশ্বকাপের জন্মভূমিকে সম্মান জানাতেই এই সিদ্ধান্ত।
১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল উরুগুয়ে এবং তারাই প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়। সেই ইতিহাসকে স্মরণ করেই মন্টেভিডিওতে শতবর্ষের বিশেষ অনুষ্ঠান ও ম্যাচ হবে।
প্যারাগুয়েতে ম্যাচ হওয়ার কারণ, সেখানেই দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল-এর সদর দফতর।
কয়টি দল খেলবে?
এখনও পর্যন্ত পরিকল্পনা ৪৮টি দল নিয়েই এগোনোর। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালীন ইনফান্তিনো ইঙ্গিত দিয়েছেন, ৬৪টি দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাবও বিবেচনায় আসতে পারে।
এর আগে কনমেবল সভাপতি আলেহান্দ্রো ডোমিঙ্গেস শতবর্ষ উপলক্ষে ৬৪ দলের বিশ্বকাপের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, “১০০ বছর তো একবারই আসে, তাই উদ্যাপনও হওয়া উচিত অনন্য।”
ফিফা জানিয়েছে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলিতে আলোচনা হবে।
কোথায় কোথায় হবে ম্যাচ?
২০৩০ বিশ্বকাপ হবে ১৭টি আয়োজক শহরে, যা ২০২৬ সালের তুলনায় একটি বেশি।
প্রস্তাবিত ২০টি স্টেডিয়ামের মধ্যে ১১টিই স্পেনে। উল্লেখযোগ্য শহরগুলির মধ্যে রয়েছে—
- মরক্কো: মারাকেশ, তানজিয়ের
- পর্তুগাল: লিসবন, পোর্তো
- স্পেন: মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, সান সেবাস্তিয়ান
সবচেয়ে বড় বিতর্ক কী?
সবচেয়ে বড় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু দক্ষিণ আমেরিকার তিনটি উদ্বোধনী ম্যাচ।
সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে কনমেবলের দেশগুলি ২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজনের দৌড় থেকে কার্যত বাইরে চলে যায়। কারণ ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ২০৩০-এ ম্যাচ আয়োজন করায় তারা পরবর্তী আসরের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়ে।
এর ফলে ২০৩৪ বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার পথ কার্যত খুলে যায় এশিয়া ও ওশেনিয়ার দেশগুলির জন্য। শেষ পর্যন্ত ২০৩৪ বিশ্বকাপের আয়োজক নির্বাচিত হয়েছে সৌদি আরব, যা মানবাধিকার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।
সামনে কী অপেক্ষা করছে?
২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে এখনই বহু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। দলসংখ্যা বাড়বে কি না, নতুন কোনও প্রযুক্তি যুক্ত হবে কি না কিংবা ফিফা আর কী চমক রাখছে—সবই এখনও আলোচনার পর্যায়ে।
তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—শতবর্ষের বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলের প্রতিযোগিতা নয়, ইতিহাস, রাজনীতি, ব্যবসা ও বিশ্বায়নের এক অভূতপূর্ব মিলনমেলা হতে চলেছে।