বাংলাস্ফিয়ার: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগ, বিদেশি—বিশেষ করে চীনা—অনুদানের অর্থ ব্যবহার করে এমন কিছু বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট দেশের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এতে মার্কিন শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকলে তা নাগরিক অধিকার আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।
বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশন জানিয়েছে, হার্ভার্ডের বিদেশি অর্থায়নের নথি পর্যালোচনা করতে গিয়ে তারা দেখতে পেয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয়টি দীর্ঘদিনে চীনভিত্তিক বিভিন্ন উৎস থেকে ৬৩ কোটি ডলারেরও বেশি অনুদান পেয়েছে। কিছু অনুদান চুক্তিতে নির্দিষ্ট দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তার শর্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হারমিট ঢিলোঁ বলেন, ফেডারেল অর্থ গ্রহণকারী কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিদেশি অর্থ এমনভাবে ব্যবহার করতে পারে না, যাতে মার্কিন নাগরিকদের জাতীয়তার ভিত্তিতে সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়। তদন্তে এ ধরনের বৈষম্যের প্রমাণ মিললে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
হার্ভার্ড অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, তাদের সব আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের আইন মেনেই পরিচালিত হয় এবং জাতীয়তা, বর্ণ বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা হয় না। তারা তদন্তে সহযোগিতা করবে বলেও জানিয়েছে।
এই তদন্ত ট্রাম্প প্রশাসন ও হার্ভার্ডের চলমান বিরোধের সর্বশেষ অধ্যায়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি, বিদেশি অর্থায়ন, ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ এবং ফেডারেল অনুদান নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক আইনি সংঘাত তৈরি হয়েছে।